পত্রিকা: 'এস আলমের গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক কীভাবে ২,২৫৯ কোটি টাকার লোকসানকে ১২৮ কোটি টাকার মুনাফা দেখিয়েছে'

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান শিরোনাম, 'How S Alam's Global Islami Bank cooked Tk2,259cr loss into Tk128cr profit' অর্থাৎ. 'এস আলমের গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক কীভাবে ২,২৫৯ কোটি টাকার লোকসানকে ১২৮ কোটি টাকার মুনাফা দেখিয়েছে'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সালাম গ্রুপের মালিকানাধীন গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ২০২৩ সালে প্রকৃতপক্ষে দুই হাজার ২৫৯ কোটি টাকার বিশাল ক্ষতির মুখে পড়লেও তারা ভুয়া হিসাব দেখিয়ে ১২৮ কোটি টাকা লাভ দেখায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে দেখা যায়, ব্যাংকটি অলাভজনক ঋণ (এনপিএল) ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়ে লাভ বাড়িয়ে দেখিয়েছে। এমনকি পাঁচ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণাও করা হয়েছিল, যা মূলত সালাম গ্রুপ সংশ্লিষ্টদের পকেটে যেত।
তবে ৮ই অগাস্টের বার্ষিক সাধারণ সভা হওয়ার আগেই সরকার পতনের ফলে সেটি বাতিল হয় এবং 'ভুয়া' লাভ বণ্টন বন্ধ হয়।
এরপর ব্যাংকের স্বাধীন পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন জানান, ব্যাংকের আগের বছরগুলোতেও একই ধরনের "পরিসংখ্যানগত দুর্নীতি" হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালে ব্যাংক মাত্র তিন শতাংশ ঋণকে অনাদায়ী দেখালেও আসলে তা ছিল ৮৭ শতাংশ -৯০ শতাংশ।
অডিট প্রতিষ্ঠান শফিক বাসাক অ্যান্ড কো. এখন তদন্তের মুখে। আগের হিসাব বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে নতুন অডিটে বিশাল ক্ষতির চিত্র উঠে আসে, প্রতি শেয়ারে ক্ষতি ২১ দশমিক ৭৯ এবং সম্পদ মূল্য নেতিবাচকে চলে যায়।
২০২২ সালে ব্যাংকটি আইপিও থেকে ৪২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে, কিন্তু এখন শেয়ারের দাম পড়ে তিন দশমিক ৩০ টাকায় নেমেছে।
সরকার পতনের পর আগস্টে নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেয়, যারা পুনঃনিরীক্ষণ করে ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক দুর্দশা তুলে ধরে। চেয়ারম্যান জানান, ব্যাংকটির প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ গিয়েছে সালাম গ্রুপ বা তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে, যেগুলোর পুনরুদ্ধার কঠিন।
বর্তমানে ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে এবং টিকে থাকার জন্য খরচ কমানো ও নগদ সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, 'যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আঘাতে দেশে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক উদ্বেগ'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১লা অগাস্ট থেকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক বসাবে, যা আগে ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ।
এতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে তৈরি পোশাক খাত, কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার।
শুল্ক ছাড়াও আরও জটিল বিষয় হচ্ছে বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কঠিন শর্ত, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার বাইরে এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব শর্ত মানা হলে দেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা খর্ব হবে, যা অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ঐকমত্য জরুরি।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আগের মতো লোক দেখানো নির্বাচন নয়, এবার প্রকৃত নির্বাচন করতে হবে। এই প্রস্তুতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রভাব রয়েছে কিনা, তা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, 'ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এজন্য প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন-সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ১৭ হাজার নতুন সদস্য নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে।
সেনাবাহিনী থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে এবং ভোটের দিন এক থানার পুলিশ অন্য থানায় দায়িত্ব পালন করবে, যাতে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয়।
৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬ হাজারকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোতে সিসি ক্যামেরা ও বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
তরুণ ভোটারদের জন্য আলাদা বুথ এবং প্রশিক্ষণমূলক ভিডিও প্রচারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। আগে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে নতুন কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিসি-এসপি-ইউএনওদের রদবদলের ক্ষেত্রেও লটারির মাধ্যমে পদায়নের প্রস্তাব এসেছে, যাতে প্রভাবমুক্ত থাকে প্রশাসন। নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট চালু রাখা ও প্রকৃত গণমাধ্যমের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা 'রিহার্সাল নির্বাচন' আয়োজনের কথাও বলেছেন যাতে মানুষ সত্যিকারের ভোট অভিজ্ঞতা পায় এবং নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, 'ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে বা রমজানের আগে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এজন্য ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটারদের জন্য সচেতনতামূলক ভিডিও তৈরি করে তা টিভি ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নারী কর্মকর্তাও পর্যাপ্ত রাখতে বলা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আগের নির্বাচনের মতো লোক-দেখানো নির্বাচন আর হবে না। দরকার হলে রিহার্সাল নির্বাচন করতে হবে।
নির্বাচন যেন সবাই ভালোভাবে মনে রাখে এবং নতুন ভোটাররা যেন গর্ব বোধ করে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট সচল রাখা, প্রকৃত সাংবাদিকদের দায়িত্ব দেওয়া এবং পর্যবেক্ষকের নামে দলীয় লোক না পাঠাতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
পুরনো বিতর্কিত পোলিং কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে নতুন লোক নিয়োগ, ডিসি-এসপি-ওসি-ইউএনওদের লটারির মাধ্যমে বদলি এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ও পুলিশের বডিক্যাম ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।
সবমিলিয়ে নির্বাচন প্রস্তুতি পুরোদমে এগোচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারিতেই ভোটের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত।

মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম, 'বিবিসি'র অনুসন্ধান : গুলির নির্দেশ হাসিনাই দিয়েছিলেন'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিবিসির এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ছাত্র ও জনতার আন্দোলনে গুলি চালানোর নির্দেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই দিয়েছিলেন।
ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপে তাকে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করতে বলতে শোনা যায়।
বিবিসির আই ইউনিট এবং একটি স্বাধীন অডিও ফরেনসিক প্রতিষ্ঠান অডিওটির সত্যতা যাচাই করে জানায়, এটি আসল এবং এডিট করা হয়নি।
ওই ফোনালাপের পরপরই ঢাকায় ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয় এবং শুধু ৫ই অগাস্ট যাত্রাবাড়ীতেই পুলিশ ৫২ জনকে হত্যা করে বলে বিবিসির তদন্তে উঠে আসে, যদিও আগে বলা হয়েছিল ৩০ জন নিহত হয়েছেন।
এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য কোটা বাতিলের দাবিতে এবং পরে তা গণবিক্ষোভে রূপ নেয়, যার ফলে হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের পতন ঘটে।
ওই সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের বহু ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি।
এখন হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যার নির্দেশ ও উসকানির অভিযোগে বিচার চলছে। ভারত তাকে এখনো বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়নি।
আওয়ামী লীগ অবশ্য অডিওর সত্যতা ও অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বর্তমানে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত।

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, 'বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যার শঙ্কা'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে প্রায় সব নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, যার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইতিমধ্যে ফেনী, নোয়াখালী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, শরীয়তপুর, কুমিল্লা, খুলনা ও বরগুনাসহ অন্তত ৩০টি জেলা কোনো না কোনোভাবে বন্যা বা জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফেনীর মুহুরি, খাহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ১৫টি স্থানে বাঁধ ভেঙে ৫০টিরও বেশি গ্রাম তলিয়ে গেছে।
কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পাহাড়ধস ও নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বাঁধ ভেঙে নদীতে বসতবাড়ি ও স্থাপনা বিলীন হয়েছে।
নোয়াখালী জেলা শহর হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষজন ভীত হয়ে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন।
চট্টগ্রাম নগরের অনেক এলাকা কোমরসমান পানিতে জলাবদ্ধ হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চকরিয়ায় পাহাড়ধসে সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে।
কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বেড়ে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় চার লাখ মানুষ ঝুঁকিতে পড়েছে।
প্রশাসন বলছে, পর্যাপ্ত ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত আছে। কিছু এলাকায় সেনা ও নৌবাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, আরও দুই দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে, ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
নদী বাঁধে প্রচণ্ড চাপ পড়ছে, অনেক জায়গায় জরুরি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয় বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নিউ এইজের প্রধান শিরোনাম, 'Five reform reports put on back burner' অর্থাৎ, 'পাঁচটি সংস্কার প্রতিবেদন স্থগিত রাখা হয়েছে'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, নারী ও গণমাধ্যম-এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংক্রান্ত সংস্কারপ্রস্তাবগুলো উপেক্ষা করছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এসব খাত নিয়ে গঠিত পাঁচটি কমিশনের প্রধানরা জানিয়েছেন, তাদের দেওয়া সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নে সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের (এনসিসি) আলোচনায়ও এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এনসিসি মূলত ছয়টি বিষয়ে (সংবিধান, বিচার বিভাগ, নির্বাচন, পুলিশ, প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন) কেন্দ্রীভূত, এবং সেখানেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
কিন্তু পাঁচটি অন্য কমিশনের সুপারিশ, যেগুলো সামাজিক বৈষম্য কমাতে অত্যন্ত জরুরি, তা বাদ পড়েছে।
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন বলেছে, একক আইনের মাধ্যমে ইউনিয়ন থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা যায়, কিন্তু তা বাস্তবায়নের বদলে চারটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রস্তাব করা হয়েছে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন স্বাধীন মিডিয়া কমিশন গঠন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন ও সংবিধানে পরিবর্তন চেয়েছে, কিন্তু অগ্রগতি নেই।
নারী কমিশন সমান সম্পত্তির অধিকার, সরাসরি নির্বাচনে নারী আসনসহ ৪৩৩টি প্রস্তাব দিয়েছে, যা উপেক্ষিত।
শ্রম কমিশন ন্যূনতম মজুরি কমিশন ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে। স্বাস্থ্য কমিশন স্বাস্থ্যকে সাংবিধানিক অধিকার করার প্রস্তাবসহ নানা পরিকল্পনা দিয়েছে, কিন্তু তাও আলোচনায় আসছে না।
সব কমিশনের প্রধানরাই হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এটি জাতীয় ঐকমত্য নয়, কেবল রাজনৈতিক নির্বাচনী ঐকমত্যের চেষ্টা।

যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর, 'জুলাই ঘোষণাপত্রে ইতিবাচক বিএনপি'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিএনপি সদ্য প্রস্তাবিত "জুলাই ঘোষণাপত্র"-এর খসড়াকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।
তারা মনে করে, খসড়ায় ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর উল্লেখ থাকা প্রয়োজন, এবং সেগুলো খসড়ায় সংযুক্ত করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
তবে দলটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা সংবিধান পুনর্লিখনের বিপক্ষে। বরং বর্তমান সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বজায় রেখে, মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের সাথে সামঞ্জস্য রেখে হালনাগাদ করাকে তারা সমর্থন করে।
ঘোষণাপত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিকগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন। বিএনপি চায় দ্রুত ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করা হোক।
খসড়ায় শেখ হাসিনা সরকারের একনায়কতন্ত্র, মানবাধিকার লঙ্ঘন, অর্থনৈতিক লুটপাট, গুম-খুনসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এছাড়া, যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের বিচারও দাবি করা হয়েছে।
বিএনপি আরও আলোচনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে এবং এর পুনর্বিবেচনার জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
নারী আসনের সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ তে উন্নীত করার ব্যাপারে তারা সম্মত হলেও, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনকে তারা সমর্থন করছে না।
তারা প্রচলিত পদ্ধতির পক্ষেই মত দিয়েছে। নেতারা সরকারকে সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর, 'দলে দলে 'নিঃশর্ত ক্ষমা' চাইছেন কর্মকর্তারা'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত মে মাসে এনবিআর বিলুপ্ত করে নতুন দুটি বিভাগ গঠনের ঘোষণার পর কর্মকর্তাদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা কর্মবিরতি ও রাজস্ব আদায় শাটডাউন করে আন্দোলনে নামেন।
একপর্যায়ে তারা এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণের একদফা দাবিতে অনড় হন। তবে সরকার ২৯শে জুন এনবিআরের চাকরিগুলোকে 'অত্যাবশ্যকীয় সেবা' ঘোষণা করলে আন্দোলনকারীদের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।
এর পরপরই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন কর্মকর্তারা এবং অনেকেই দলবেঁধে চেয়ারম্যানের কাছে দেখা করে ক্ষমা চান বা সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করেন।
গত দুই দিনে প্রায় ৩০০ জন কর্মকর্তা, যারা আগে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন, তারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজস্ব আদায়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে অনেকে বলছেন এটি ক্ষমা চাওয়ার বিষয় নয়, বরং ভুল বোঝাবুঝি দূর করে একসাথে কাজ করার উদ্যোগ।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কর্মকর্তাদের ক্ষমা করলেও রাষ্ট্র ক্ষমা করবে কি না, তা নিশ্চিত নন।
আন্দোলনের জেরে ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত শুরু করেছে, কয়েকজনকে অবসর বা বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাবেক আমলা ফিরোজ মিয়া মন্তব্য করেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের আন্দোলন সাধারণত নিজস্ব স্বার্থে হয়ে থাকে, জনস্বার্থে নয়, এবং এতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়।








