বাংলাদেশী বাবার আবেদন খারিজ, দুই সন্তান থাকবে জাপানি মায়ের কাছে

দুই কন্যাকে ফিরে পেতে জাপানি মা ঢাকায় এসে আদালতে মামলা করেছিলে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, দুই কন্যাকে ফিরে পেতে জাপানি মা ঢাকায় এসে আদালতে মামলা করেছিলেন (প্রতীকী ছবি)।

জাপানি নাগরিক মা নাকানো এরিকো ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাবা ইমরান শরীফের দুই সন্তানের হেফাজত চেয়ে তাদের বাবা পারিবারিক আদালতে যে মামলা করেছিলেন সেটি আজ খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

নাকানো এরিকোর আইনজীবী শিশির মনির বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে আদালতের এই রায়ের ফলে দুই সন্তান এখন মায়ের হেফাজতেই থাকবে।

তবে দুই সন্তানকে নিয়ে তাদের মা জাপানে চলে যেতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে মিস্টার মনির বলেছেন, “উনি কোথায় থাকবে সেটি তার ইচ্ছে। পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় তিনি যেতে পারবেন বা থাকতে পারবেন। আদালতের দিক থেকে কোনো বাধা নেই।"

এর আগে ইমরান শরিফের হয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী ফওজিয়া করিম বলছেন এসব ক্ষেত্রে আদালত সাধারণত সন্তানদের অভিমতকেই প্রাধান্য দেয় এবং তার ধারণা এক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।

পেশায় চিকিৎসক একজন জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো বাংলাদেশে এসে দুই কন্যা সন্তানকে নিজের জিম্মায় পেতে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন ২০২১ সালের অগাস্টে।

তার সাথে বাংলাদেশী প্রকৌশলী ইমরান শরীফের বিয়ে হয়েছিলো ২০০৮ সালে এবং পারিবারিক সংকটের জের ধরে এরিকো ২০২০ সালের ডিভোর্সের আবেদন করেছিলেন।

সন্তান কার কাছে থাকবে তা নিয়ে আদালতে মুখোমুখি হন বাবা-মা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সন্তান কার কাছে থাকবে তা নিয়ে আদালতে মুখোমুখি হন বাবা-মা

পরে মিস্টার শরীফ তাদের তিন সন্তানের মধ্যে প্রথম দুজনকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। পরে বাংলাদেশে এসে হাইকোর্টে রিট করেন নাকানো এরিকো।

কয়েক মাসের শুনানির পর তখন হাইকোর্ট দুই সন্তানকে বাবার হেফাজতে দিলেও মা যাতে সন্তানদের সাথে সাক্ষাত করতে পারেন সেটি নিশ্চিত করার আদেশ দেন।

সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন নাকানো এরিকো। আপিল বিভাগ দুই শিশুকে তাদের মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দিলেও তাদের বাবা তা প্রতিপালন না করায় আদালত দুই শিশুকে তাদের বাবার হেফাজত থেকে এনে তাদের সাথে কথা বলে।

এরপর দুই শিশুকে মায়ের হেফাজতে দেয়ার আদেশ দেয়া হয়। যদিও আপিল বিভাগ গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বলে যে দুই সন্তান কার হেফাজতে থাকবে সেটির নিষ্পত্তি হবে পারিবারিক আদালতে এবং সে পর্যন্ত তারা তাদের মায়ের কাছেই থাকবে।

দুই শিশুর বাবা পারিবারিক আদালতে সন্তানদের হেফাজত চেয়ে আবেদন জানালেও পারিবারিক আদালতও দুই শিশুকে তাদের মায়ের হেফাজতে থাকার অনুমতি দিলো।