আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের বাকযুদ্ধ কি পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করছে

    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
    • Author, কাদির কল্লোল,
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে নির্বাচন হতে এক বছরেরও বেশি সময় বাকি আছে, কিন্তু ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিরোধীদল বিএনপির নেতাদেরআক্রমণাত্মক বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

দুই দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়ার প্রবণতা বেড়ে চলেছে।

সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, তাদের আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাসীনরা 'পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।'

জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরই বিদেশে 'পালানোর ইতিহাস রয়েছে।'

প্রধান দুই দলের নেতাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্নক বক্তব্য অব্যাহত থাকলে, তাতে রাজনীতি এবং নির্বাচনের পরিবেশকে উত্তপ্ত বা অস্থিতিশীল করবে কি না-এই প্রশ্ন অনেকের।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়।

কিন্তু এখন নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, তাদের বক্তব্যগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্নক হয়ে উঠছে।

বিএনপি মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার সকালে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, ক্ষমতাসীনরা পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।

অন্যদিকে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা প্রয়োজনে জেলে যাবেন, কিন্তু তারা দেশ ছেড়ে পালাবেন না।

একইসাথে মি: কাদের বিএনপিকে তিরস্কার করে বলেছেন যে, মুচলেকা দিয়ে বিএনপি নেতার লন্ডনে পালানোর ইতিহাস রয়েছে।

পনেরো বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি এবার নির্দলীয় সরকারের দাবিতে তাদের নেতাকর্মীদের মাঠে নামাতে পেরেছে।

দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলে আসছেন, এবার তারা জিতবেন, না হলে মরবেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ লম্বা সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি সঙ্কটসহ অথনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির প্রভাবে সাধারণ মানুষের সমর্থনের দিক থেকে কিছুটা চাপে পড়েছে।

এছাড়া অতীতে ক্ষমতা হারানো কোনো দলের অভিজ্ঞতা খুব একটা ভাল নয়।

এমন পটভূমিতে এবার নির্বাচন সামনে রেখে দুই দলই চাপে পড়েছে বলা যায়।

ফলে দল দু’টির নেতাদের বক্তব্যও আক্রমণাত্নক হয়ে উঠছে। কিন্তু কোন দলই তা মানতে রাজি নয়।

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি বাড়াবাড়ি করলে সেই দলের নেত্রী খালেদা জিয়াকে আবার জেলে পাঠাবেন।

এই বক্তব্যকে প্রতিহিংসামূলক বলে বর্ননা করেছে বিএনপি।

নাগরিক এবং মানবাধিকার অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে অন্যতম সুলতানা কামাল মনে করেন, দুই দলের নেতাদের বাকযুদ্ধ যেভাবে আক্রমণাত্নক হয়ে উঠছে, তা নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতির সৃষ্টি করতে পারে।

“নির্বাচন যখন কাছাকাছি সময়ে, তখন সংঘাতের পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে সাধারণ মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে থাকে যে এটা কোন পর্যায়ে যাবে,'' তিনি বলেন।

“আমাদের ইতিহাস যথেষ্ট সংঘাতময় ইতিহাস, যথেষ্ট সঙ্কটময় ইতিহাস” বলেন সুলতানা কামাল।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং মন্ত্রী ড: আব্দুর রাজ্জাক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা এবং আক্রমণাত্নক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন যে, সরকার পালানোর পথ পাবে না, বিএনপির নেতাদের এ'ধরনের কথাবার্তা জবাব আওয়ামী লীগ দেবে।

“এ ধরনের তিরস্কার করে কথাবার্তা বললে তার পাল্টা কথা রাজনৈতিকভাবে আসবেই” বলেন আওয়ামী লীগ নেতা ড: রাজ্জাক।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কথাবার্তা তারা আশা করেন না। সেটা হলে পাল্টা জবাব আসবে।

নেতারা তাদের বক্তব্যর মধ্য দিয়ে দলের লক্ষ্য পরিষ্কার করে দিচ্ছেন।

বিএনপি নেতারা বলছেন, এখন আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তনই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

আর আওয়ামী লীগ চাইছে ক্ষমতায় টিকে থাকতে। ফলে দুই দলের নেতাদের বক্তব্যে তিক্ততা বেড়েই চলেছে।

কিন্তু আক্রমণাত্নক বক্তব্যের জন্য আওয়ামী লীগ যেমন বিএনপিকে দায়ী করছে। বিএনপিও দাযী করছে আওয়ামী লীগকে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, “মন্তব্য আওয়ামী লীগের দিক থেকেই আসছে।

“মাঠে নামতে দেবো না, তারপর হেফাজতের মতো অবস্থায় নিয়ে যাবো-এমন বিভিন্ন হুমকী-ধামকী তারাই (আওয়ামী লীগ) দিচ্ছে। তাদের এসব বক্তব্যের কারণেই আমরা তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি” বলেন বিএনপি নেতা মি. চৌধুরী।

তিনি দাবি করেন, বিএনপি নেতারা শিষ্টাচার বহির্ভূত কোনো মন্তব্য করছে না।

মি. চৌধুরী বলেন, বিএনপির 'জুনিয়র লেভেলের' নেতারা কিছু কথা বলতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভার লোকজন 'অগণতান্ত্রিক এবং অসাংবিধানিক' বক্তব্য দিচ্ছে।

''তারা (আওয়ামী লীগ) রাজনৈতিক পরিবেশ ইচ্ছা করে নষ্ট করতে চাইছে” বলেন বিএনপি নেতা মি. চৌধুরী।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুই দলের নেতারাই কিন্তু স্বীকার করেন, তাদের পাল্টাপাল্টি উত্তেজনাকর বক্তব্যে নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল হতে পারে।

কিন্তু নিজেরা সে দায় না নিয়ে তারা একে অপরের ওপরই চাপাতে চাইছেন।