বিয়ের উপহারে পাঠানো হয়েছিল বোমা, সাত বছর পর অভিযুক্তের সাজা

২৬ বছরের সৌম্য শেখর সাহু ও তার স্ত্রী রিমা
ছবির ক্যাপশান, ২৬ বছরের সৌম্য শেখর সাহু ও তার স্ত্রী রিমা
    • Author, সন্দীপ সাহু ও সৌতিক বিশ্বাস
    • Role, বিবিসি হিন্দি

ভারতের ওড়িশার পাটনাগড় পার্সেল বোমা মামলায় অভিযুক্ত পুঞ্জিলাল মেহের নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে ওই রাজ্যের এক আদালত। বহুচর্চিত এই মামলা 'ওয়েডিং বম্ব' হত্যা মামলা নামে পরিচিত।

ওড়িশার বোলাঙ্গির জেলার পাটনাগড় শহরে ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মাসে পার্সেলে করে পাঠানো এক বোমা বিস্ফোরণে সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সৌম্য শেখর সাহু, তার ঠাকুমা জেমামণি সাহুর মৃত্যু হয় এবং সৌম্য'র স্ত্রী রিমা গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পাঁচদিন আগে বিয়ে হয়েছিল তাদের।

বিয়ের উপহারের নাম করে পাঠানো হয়েছিল ওই পার্সেলটি। নবদম্পতি ওই পার্সেল খোলা মাত্রই বিস্ফোরণ হয়।

প্রসঙ্গত অভিযুক্ত পুঞ্জিলাল মেহের ওই পরিবারের পূর্বপরিচিত ছিলেন। নিহত যুবকের মা সংযুক্তা সাহুর সাবেক সহকর্মী ছিলেন তিনি।

 পুঞ্জিলাল মেহের

ছবির উৎস, Punji Lal Meher/Facebook

ছবির ক্যাপশান, পুঞ্জিলাল মেহের

আদালত কী বলেছে?

সরকারি কৌঁসুলি চিত্তরঞ্জন কানুনগো বলেন, আদালত মেহেরকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (খুন), ৩০৭ (হত্যার চেষ্টা), ২০১ (প্রমাণ গোপন) এবং ভারতীয় বিস্ফোরক আইনের তিন ও চার নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে দুটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দুটি ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং একটি সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।

এই সাজা একযোগে চলবে। ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় পুঞ্জিলাল মেহেরকে আদালত মোট এক লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে।

"আদালত বলেছে যে এটি একটি জঘন্য অপরাধ, তবে এটি বিরলের মধ্যে বিরলতম মামলা বলে সরকারি পক্ষের উকিলের যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত মেহেরের ফাঁসির দাবি নাকচ করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।"

কী ঘটেছিল?

বোলাঙ্গির জেলার পাটনাগড় শহর শান্ত বলেই পরিচিত। সাত বছর আগে যে সময় ঘটনাটি ঘটে, তখন মি. সাহুর বাড়িতে দুপুরের রান্না হচ্ছিল।

ঘটনার পর রিমা সাহু জানিয়েছিলেন তারা সকলে রান্নাঘরে ছিলেন। সেই সময় বাড়ির বাইরের গেট খোলার শব্দ শুনতে পান সৌম্য শেখর সাহু।

তিনি দরজা খুলে দেখেন বাড়ির গেটে পার্সেল হাতে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে রয়েছেন। পার্সেলের গায়ে লাগানো স্টিকারে তাদের বাড়ির ঠিকানা।

প্রেরকের নাম লেখা ছিল এসকে শর্মা। ঠিকানা ছিল, ছত্তিসগড়ের রায়পুরের। পাটনাগড় শহর থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুর।

সাদা দড়ি দিয়ে বাঁধা ওই পার্সেলটি সবুজ রঙের কাগজে মোড়া ছিল। পার্সেলের বাইরে ঝুলছিল সাদা দড়িটি।

বিস্ফোরণের পর রান্নাঘরের পরিস্থিতি
ছবির ক্যাপশান, বিস্ফোরণের পর রান্নাঘরের পরিস্থিতি

'সারপ্রাইজ গিফ্‌ট'

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

মি. সাহু তার স্ত্রীকে বলেছিলেন,"দেখে সারপ্রাইজ গিফ্‌ট বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু কে পাঠিয়েছে বুঝতে পারছি না। রায়পুরে আমই কাউকে চিনি না।"

পার্সেল হাতে রান্নাঘরেই দাঁড়িয়েছিলেন সৌম্য শেখর সাহু। তার বছর পঁচাশির ঠাকুমাও পেছন থেকে কৌতূহলবশত উঁকি দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন পার্সেলে কী রয়েছে।

মি. সাহু পার্সেলের দড়ি ধরে টান দিতেই ফ্ল্যাশ লাইটের মতো তীব্র আলো দেখা যায়। প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয়।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় তারা তিনজনেই দূরে ছিটকে পড়েন। টাইলের মেঝেতে ধাক্কা খেয়ে রক্তপাত হতে থাকে।

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে রান্নাঘরের সিলিংয়ের প্লাস্টার খসে পড়ে, দেওয়ালে ফাটল ধরে, রান্না ঘরের জানালা উড়ে গিয়ে পাশের মাঠে পড়ে।

ঠাকুমা অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ছটফট করছিলেন। যন্ত্রণায় কাতর সৌম্য শেখর সাহু বলেছিলেন, "আমাকে বাঁচাও। মনে হচ্ছে মরে যাব।" তারপর সংজ্ঞা হারান তিনি।

শেষবার স্বামীর মুখ থেকে এই কথাগুলোই শুনেছিলেন রিমা সাহু যিনি নিজেও মারাত্মক জখম হন। তার হাত, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল।

পড়শীরা ছুটে আসেন। তারা আশঙ্কা করেছিলেন গ্যাসের সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ হয়েছে।

রিমা সাহু কোনও মতে শোওয়ার ঘরে গিয়ে তার শাশুড়িকে ফোন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোন করে ওঠার আগেই সংজ্ঞা হারান।

পড়শীরাই তাদের তিনজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

মি. সাহু এবং তার অশীতিপর ঠাকুমা দু'জনেই ৯০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ছিলেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়।

মারাত্মক জখম অবস্থায় হাসপাতালের বার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল রিমা সাহুকে।

ঘটনার মাত্র পাঁচদিন আগে বিয়ে হয়েছিল সৌম্য শেখর সাহু ও রিমার
ছবির ক্যাপশান, ঘটনার মাত্র পাঁচদিন আগে বিয়ে হয়েছিল সৌম্য শেখর সাহু ও রিমার

সদ্যবিবাহিত দম্পতি

ঘটনার পর মি. সাহু এবং রিমা দু'জনের পরিবারের সদস্যরাই এই ভেবে হতবাক ছিলেন যে এই হত্যার জন্য কে দায়ী।

ঘটনার পর রিমার বাবা সুদাম চরণ সাহু বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, রিমা আসলে তার ভাইয়ের মেয়ে। সুদাম চরণ সাহুর দুই ছেলে রয়েছে। তিনি কন্যা সন্তান চেয়েছিলেন। তাই তার ভাইয়ের তিন মেয়ের মধ্যে একজনকে দত্তক নেন তিনি।

রিমা ওড়িয়া ভাষা স্নাতক পাশ করেছিলেন।

সৌম্য শেখর সাহুর বাবা-মা দু'জনেই কলেজে পড়াতেন। তিনি (সৌম্য শেখর সাহু) কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেন। মাইসোর এবং চণ্ডীগড়ে কাজ করার পর, ঘটনার দুই মাস আগে ব্যাঙ্গালোরে জাপানের একটি ইলেক্ট্রনিক্স ফার্মে যোগ দেন।

একটি চিঠিই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়

ছবির উৎস, Odisha Police

ছবির ক্যাপশান, একটি চিঠিই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়

কীভাবে ধরা পড়ল অভিযুক্ত?

দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ স্থানীয় পুঞ্জিলাল মেহের নামে ৪৯ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তিনি স্থানীয় একটি কলেজে পড়াতেন। ওই একই কলেজে সৌম্য শেখর সাহুর মা সংযুক্তাও পড়াতেন।

তদন্তকারীরা বিবিসির সৌতিক বিশ্বাসকে জানিয়েছেন, সাহু পরিবারের প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিলেন পুঞ্জিলাল মেহের এবং অতি সন্তর্পণে ওই বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেছিলেন।

এই পার্সেলটি তিনি রায়পুর থেকে ভুয়া নাম ব্যবহার করে পাঠিয়েছিলেন। সাহু পরিবারের ঠিকানায় পাঠাতে সাহায্য নেওয়া হয়েছিল কুরিয়ার সার্ভিসের।

প্যাকেটটি বাসে করে ৬৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর বোলাঙ্গিরে পৌঁছায়। এই সফরে বেশ কয়েকবার হাত বদল হয়েছিল ওই প্যাকেটটি।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটি দেশি বোমা ছিল। পাটের সুতো দিয়ে বাঁধা ছিল ওই বোমা। দড়ি খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ হয়।

যে প্যাকেটে ওই বোমা পাঠানো হয়েছিল, সেখানে প্রেরকের নাম লেখা ছিল এসকে শর্মা, ঠিকানা ছিল রায়পুরের। কোনও সূত্র খুঁজে না পেয়ে তদন্তকারীরা হাজার হাজার ফোন রেকর্ড ঘেঁটে প্রায় ১০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

তাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তিও ছিলেন যিনি বাগদানের পর রিমাকে হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সূত্র ধরেও পুলিশ বেশিদূর এগোতে পারেনি।

বেনামি চিঠির সূত্র ধরে ষড়যন্ত্র ফাঁস

এরপরই সেই বছরের এপ্রিল মাসে পুলিশের প্রধান কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি পৌঁছায়। বেনামি ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, সেই পার্সেলে বোমাটি রাখা ছিল যেখানে প্রেরকের নাম এসকে সিন্হা লেখাছিল, এসকে শর্মা নয়।

পাশাপাশি এই ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল যে 'প্রতারণার' সাজা দিতে এবং আর্থিক কারণে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।

চিঠিতে আরও দাবি করা হয় যে "তিনজন ব্যক্তি মিলে এই হত্যার পরিকল্পনা করেছিল" এবং তারা এখন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এখানে পাত্রের (সৌম্য শেখর সাউয়ের) বিশ্বাসঘাতকতা এবং আর্থিক উদ্দেশ্যর (ক্ষুব্ধ প্রেমী বা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের দিকে ইঙ্গিত করা) কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। চিঠিতে বলা হয়েছিল, যাতে পুলিশ পুলিশকে নিরীহ মানুষকে হয়রান করা বন্ধ করে।

চলমান তদন্তের গতিপথ পাল্টে দিয়েছিল এই চিঠি।

সেই সময় ওড়িশার ক্রাইম ব্রাঞ্চের প্রধান ছিলেন অরুণ বোথরা। তিনি লক্ষ্য করেন, পার্সেলের রসিদে লেখা নামটি সঠিকভাবে পড়া হয়নি। প্রেরকের নামের পদবী আপাতত দৃষ্টিতে শর্মা বলে মনে হলেও তা আসলে সিন্হা।

সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যিনি এই চিঠি লিখেছিলেন তিনি নামের বিষয়টি (এসকে শর্মার নয় এসকে সিন্হা) সম্পর্কে জানতেন। এমন একটি বিষয় শুধু তার পক্ষেই জানা সম্ভব যিনি ওই পার্সেলটি পাঠিয়েছেন।

পুলিশ নিশ্চিত হয়, এই চিঠিটি অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই পাঠিয়েছেন।

সেই সময় মি. বোথরা সৌতিক বিশ্বাসকে বলেছিলেন, "এই বিষয়টি স্পষ্ট ছিল যে আমরা ওই ঘটনা সম্পর্কে যা জানি তার চাইতে বেশি জানে ওই পার্সেলের প্রেরক। লেখার ধরন দেখে বোঝা গিয়েছিল সে আমাদের বলতে চায় যে এই অপরাধের সঙ্গে স্থানীয় কোনও ব্যক্তি যুক্ত নয়।"

"পাশাপাশি এও বলতে চেয়েছিল এই ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করেছে তিনজন ব্যক্তি। সে (অভিযুক্ত) চেয়েছিল তাকে যাতে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়। তাই আমাদের ভুলের শোধরাতে গিয়ে একরকম নিজেকে প্রকাশ্যে এনে ফেলেছিল সে।"

কিন্তু সৌম্য শেখর সাহুর মা সংযুক্তা, যিনি পেশায় কলেজের অধ্যাপিকা, ওই হাতের লেখা এবং তার ধরন দুই-ই চিনতে পারেন।

তিনি বুঝতে পারেন ওই হাতের লেখাটি তার সহকর্মীর (পুঞ্জিলাল মেহেরের)। সংযুক্তা সাহুর জন্যই মি. মেহেরকে তার পদ থেকে সরে যেতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।

পুলিশ এর আগে পেশাগত রেষারেষির তত্ত্ব খারিজ করে দিলেও পরে তা মানতে বাধ্য হয়। পুঞ্জিলাল মেহেরকেই সন্দেহ করতে থাকে পুলিশ।

কুরিয়ার সার্ভিসের রশিদ
ছবির ক্যাপশান, কুরিয়ার সার্ভিসের রশিদ

কীভাবে পুলিশের চোখে ধুলো দেয় অভিযুক্ত?

ধরা পড়ার পর পুলিশের কাছে মি. মেহের এই অজুহাত দেখাতে থাকেন যে, তাকে ওই চিঠি লিখতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরে অবশ্য নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন তিনি।

মি. মেহের পুলিশকে জানিয়েছিলেন তিনি দীপাবলির সময় বাজি জোগাড় করে তার ভেতর থেকে বাজির মশলা বের করে নেন। ওই মশলা ব্যবহার করেই বোমা বানিয়ে রায়পুর থেকে কুরিয়ার পরিষেবার মাধ্যমে সৌম্য শেখর সাহুর বাড়ির ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন।

মি. মেহের জানিয়েছিলেন, তিনি কুরিয়ার সংস্থার অফিসে যাওয়ার সময় নিজের ফোন বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন। যাতে নিজের স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে পারেন যে তিনি ওই সময় বাড়িতে ছিলেন।

শুধু তাই নয়, সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়তে পারেন এই আশঙ্কায় তিনি ট্রেনের টিকিটও কাটেননি।

প্রসঙ্গত, সৌম্য শেখর সাহুর বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন মি. মেহের। পরে তার শেষকৃত্যেও উপস্থিত ছিলেন।

পেশায় সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন সৌম্য শেখর সাহু
ছবির ক্যাপশান, পেশায় সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন সৌম্য শেখর সাহু

আদালতের রায়ে মি. সাহুর বাবা-মা সন্তোষ প্রকাশ করলেও এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চতর আদালতে আপিল করবেন কি না সেই বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।

সৌম্য শেখরের বাবা রবীন্দ্র কুমার সাহু জানিয়েছেন, তার আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তার স্ত্রী সংযুক্তা সাহু বলেন, "পুঞ্জিলাল যদি নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যায়, তাহলে আমরাও যাব।"

এই ঘটনাটির তদন্ত ওড়িশা ক্রাইম ব্রাঞ্চের তৎকালীন প্রধান অরুণ বোথরার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছিল। আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অরুণ বোথরা।

"এই মামলায় কোনও প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। কোনও পোক্ত প্রমাণও ছিল না। পুরো মামলাটি পরিস্থিতিগত এবং ফরেনসিক প্রমাণের উপর নির্ভর করে। তাই আমাদের জন্য এটি একটি বড় সাফল্য।"