হরিয়ানায় গাড়ি থেকে একই পরিবারের সাতজনের দেহ উদ্ধার, যা জানা যাচ্ছে

(সতর্কীকরণ: প্রতিবেদনের কিছু অংশ আপনাদের মানসিকভাবে বিচলিত করতে পারে)
ভারতের হরিয়ানার পঞ্চকুলার একটি আবাসিক এলাকায় দাঁড় করানো গাড়ি থেকে সোমবার গভীর রাতে সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পঞ্চকুলার ডিসিপি হিমাদ্রি কৌশিক জানিয়েছেন, নিহতদের সবাই একই পরিবারের সদস্য। তিনি বলেন, "প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে অনুমান করা হচ্ছে।"
বার্তা সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, দেহরাদুনের বাসিন্দা ওই পরিবার।
নিহতদের মধ্যে ৪০-এর কোঠায় থাকা মিত্তল এক নামে ব্যক্তি, তার বাবা, মা, স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়ে রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তারা সবাই একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন, ফেরার সময় ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশ অনুমান করছে।
গাড়িটি পঞ্চকুলার সেক্টর ২৭-এর বসতি এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ ধরে দাঁড় করানো ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা পুনীত রাণা ও তার ভাই সোমবার রাতে ওই গাড়িটি লক্ষ্য করেন, এটি তাদের গাড়ির কাছেই দাঁড় করানো ছিল। তবে প্রথমে কিছু বুঝতে পারেননি তারা। দেহরাদুনের ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যে ব্যক্তি তখনও জীবিত ছিলেন, তাকে গাড়িটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেন তারা (পুনীত রাণা ও তার ভাই)।
তিনি সম্মতি জানিয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে যান। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় মি. রাণা ও তার ভাই গাড়ির কাছে এগিয়ে যান। গাড়ির ভেতরে থাকা কয়েকজনকে সন্দেহজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
মি. রাণা বলেন, "আমরা ওই ব্যক্তিকে বাইরে বেরিয়ে আসতে বলি। উনি বলেন, আমাদের অনেক ঋণ রয়েছে। কথা বলতে বলেই পড়ে যান তিনি।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সংজ্ঞা হারানোর আগে ওই ব্যক্তি জানিয়েছিলেন, ঋণের কারণেই তিনি ও তার পরিবারের সকলে এই পথ বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি দাবি করেন, তার হাতেও বেশিক্ষণ সময় নেই।
দ্রুত পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্সকে খবর দেন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা কী বলছেন?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
পঞ্চকুলার সেক্টর ২৭-এর বাসিন্দা মি. রাণা জানিয়েছেন, সোমবার রাতে ভাইয়ের সঙ্গে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন তিনি।
তিনি বলেছেন, "ঘটনাটি আমাদের বাড়ির সামনেই ঘটেছে। আমাদের গাড়ির পেছনে উত্তরাখণ্ডের নম্বরপ্লেট লাগানো একটি অচেনা গাড়ি দাঁড় করানো ছিল। আমরা গাড়িটিকে ওই জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম।"
"গাড়ির সামনে চালকের সিটে একজন ছিলেন। তাছাড়া বয়স্ক মহিলা এবং একটি শিশু ছিল। ওই ব্যক্তি বলেন তারা এখানে সৎসঙ্গ শুনতে এসেছিলেন। কিন্তু হোটেল না পাওয়ায় রাতে গাড়িতেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।"
মি. রাণা ওই ব্যক্তিকে জানান, কাছেই ওই এলাকায় হোটেল রয়েছে। সেখানে তিনি তার পরিবারের সদ্যসদের নিয়ে রাতটুকু কাটাতে পারবেন।
তিনি জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি এই কথায় সম্মতও হন।
কিন্তু মি. রাণা জানিয়েছেন, কিছু একটা অস্বাভাবিক বলে অনুমান করেন তিনি এবং গাড়ির কাছে আবার ফিরে যান। বাড়ির ভেতরে উঁকি দেন তারা।
পুনীত রাণা বলেছেন, "আমরা যখন টর্চ জ্বালিয়ে গাড়ির ভিতরে তাকালাম তখন দেখি সেখানে সবাই পড়ে রয়েছেন। তারা সকলেই বমি করে ফেলেছিলেন।"
"আমি বুঝতে পারি কিছু একটা গণ্ডগোল রয়েছে। ওই ব্যক্তিকে (যিনি জীবিত ছিলেন) আমি বেরিয়ে আসতে বলি।"
সেই সময় ওই ব্যক্তি নিজের ঋণের বিষয়ে বলেন এবং জানান ঋণে জর্জরিত হওয়ার কারণেই তারা এই পথ বেছে নিয়েছেন।
কথা বলতে বলতেই পড়ে যান ওই ব্যক্তি। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্স এসে উপস্থিত হয়। ওই সাতজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মিত্তল পরিবারের ছয়জনকে একটি হাসপাতালে এবং সপ্তমজনকে অন্য একটিকে ভর্তি করা হয়। তবে সাতজনেরই মৃত্যু হয়েছে।

ছবির উৎস, ANI
End of বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর
পুলিশ কী বলছে
পঞ্চকুলার ডিসিপি হিমাদ্রি কৌশিক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, "আমাদের জানানো হয়েছিল যে ছয়জনকে উদ্ধার করে ওজাস হাসপাতালে আনা হয়েছে। সেখানে পৌঁছাতে পৌছাতে তাদের মৃত্যু হয়।"
"আরেক ব্যক্তিকে সেক্টর ছয়ের সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে এসে পৌঁছানোর পর তাকেও মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।"
পুলিশ জানিয়েছে তদন্ত চলছে।
হিমাদ্রি কৌশিক বলেন, "প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। সমস্ত ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।"
ডিসিপি ল অ্যান্ড অর্ডার অমিত দাহিয়া এবং হিমাদ্রি কৌশিকের নেতৃত্বে এই ঘটনার তদন্ত চলছে।
(গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- মানসিক সমস্যার চিকিৎসা সম্ভব। এর জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত। পাশাপাশি, ভারতের যে হেল্পলাইনগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন-
সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রণালয়ের হেল্পলাইন –১৮০০-৫৯৯-০০১৯ (১৩ টি ভাষায় কথা বলা যায়।)
ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান বিহেভিয়ার অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস- ৯৮৬৮৩৯৬৮২৪, ৯৮৬৮৩৯৬৮৪১, ০১১-২২৫৭৪৮২০
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ও স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট -০৮০-২৬৯৯৫০০০)








