হাদির হত্যাকারীরা অন্য দেশে পালিয়েছে কি-না, এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ

ছবির উৎস, Osman Hadi/FB
- Author, তারেকুজ্জামান শিমুল
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে অন্য কোনো দেশে আশ্রয় নিয়েছেন কি-না, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত নন বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।
মূল সন্দেহভাজনদের সঠিক অবস্থান শনাক্তে এখনও তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার দুপুরে মি. ইসলাম যখন বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তার ঠিক আগের দিন মি. হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতারের বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয় ইনকিলাব মঞ্চ।
২১শে ডিসেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে এ বিষয়ে তথ্য জানাতে না পারলে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করেছেন বিক্ষুব্ধরা।
এ অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সেখানে মি. হাদির হত্যা মামলার তদন্তের ব্যাপারে সবশেষ তথ্য জানাবেন বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা'র প্রধান হিসেবে ওই সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান মি. ইসলামেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
জানতে চাইলে গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান দাবি করেছেন, গত আটদিনে তারা মামলাটির বিষয়ে 'বেশখানিকটা অগ্রগতি' সাধন করতে সক্ষম হয়েছেন।
"কারা ঘটনাটা ঘটাইছে এবং যে অস্ত্র ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ঘটনাটা ঘটানো হয়েছে, সেটা আমরা ইতোমধ্যেই উদ্ধার করেছি। বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এখন আমরা অন্য আসামিদের ব্যাপারে জানার চেষ্টা করতেছি," বিবিসি বাংলাকে বলেন ডিবি প্রধান মি. ইসলাম।
একইসঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ডজনখানেক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রধান আসামির পরিবারের বেশ কয়েক সদস্যও রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কিন্তু মি. মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখের অবস্থানের বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি গোয়েন্দারা।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তারা দু'জনই ভারতে পালিয়ে গেছেন।
"আমরাও সেগুলো দেখেছি এবং তথ্যটি যাচাই-বাছাই করে দেখছি। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি," বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. ইসলাম।
এর আগে, গত ১৪ই ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, মি. হাদির ওপর হামলাকারীদের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার তথ্য তারা ইমিগ্রেশন ডাটাবেজে পাননি।
এছাড়া পাসপোর্ট ইতোমধ্যেই ব্লক করে দেওয়ায় বৈধভাবে তাদের পক্ষ দেশ থেকে পালানো সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়।
কিন্তু সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা অবৈধভাবে সীমানা পেরিয়ে ইতোমধ্যে অন্য দেশে চলে গেছে কি-না, সে ব্যাপারে সুনিশ্চিত কোনো তথ্য নেই গোয়েন্দা পুলিশের কাছে।

ছবির উৎস, Drik/Getty Images
গ্রেফতার হয়েছেন কারা?
শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছেন র্যাব-পুলিশের সদস্যরা।
তাদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা, মা, স্ত্রী এবং শ্যালকও রয়েছেন। এছাড়া মি. মাসুদের এক বান্ধবীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
মি. হাদিকে গুলি করার আগে মি. মাসুদ একাধিকবার তার স্ত্রী, বান্ধবী ও শ্যালকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের তিনজনকে দুই দফায় নয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া হামলার আগে-পরে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে আরও আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে ময়মনসিংহ হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে পালানোর তথ্য পাওয়ায় সেখানকার মানব পাচারকারী চক্রের দু'জন সদস্যকেও গ্রেফতার করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যা।
"তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তদন্ত এগিয়ে যাচ্ছে," বলেন ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।
এর বাইরে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের 'ভুল নিবন্ধন' নম্বরের সূত্র ধরে আরও এক ব্যক্তিকে আটক করা হলেছিল।
কিন্তু তদন্তে হত্যার ঘটনার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র না পাওয়া যাওয়ায় তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।
গত ১২ই ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হলেও ১৮ই ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শনিবার প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, রাজনীতিবিদ এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে জানাজার শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে মি. হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

'যথোপযুক্ত' ব্যাখ্যা, না হয় পদত্যাগ
ইনকিলাব মঞ্চের দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হচ্ছে রোববার সন্ধ্যায়।
এই সময়ের মধ্যে মি. হাদির হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে গত আটদিনে সরকারের তরফ থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, জাতির কাছে সেটি তুলে ধরার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীর কাছে দাবি জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
সেইসঙ্গে, সামরিক-বেসামরিক গোয়েন্দা সদস্যদের মধ্যে 'ঘাপটি মেরে বসে থাকা' আওয়ামী লীগ সমর্থকদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
"আজকের সংবাদ সম্মেলনে যথোপযুক্ত ব্যাখ্যা প্রদানে ব্যর্থ হলে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সহকারী উপদেষ্টা উভয়কেই পদত্যাগ করতে হবে," রোববার বলেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
তাদের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নেতারা।
তবে এই 'যথোপযুক্ত ব্যাখ্যা' বলতে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, সেটি এখনও পরিষ্কার করেননি তারা।
এর আগে, হাদিকে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে ১৮ই ডিসেম্বর রাত থেকে পরবর্তী দু'দিন ঢাকার শাহবাগে টানা বিক্ষোভ-সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে ইনকিলাব মঞ্চকে।








