প্রথম আলো আমাদের শত্রু ভাবে - বললেন ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শনিবার আওয়ামী লীগের এক সভায় মি. কাদের তার বক্তব্যে বলেন, প্রথম আলো সরকার এবং আওয়ামী লীগকে শত্রু ভাবে।
“বিএনপিকে আমরা ভাবি প্রতিপক্ষ, বিএনপি আমাদের ভাবে শত্রু। প্রথম আলো আমাদের শত্রু ভাবে। তাদের প্রত্যেকটা সম্পাদকীয় পলিসি আওয়ামী লীগের সাথে শত্রুতা, যেটা বিএনপি রাজনীতি একই রাজনীতিকে তারা সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে। এটাই হচ্ছে আজকের বাস্তবতা,” বলেন ওবায়দুল কাদের। তাঁর এই বক্তব্য ঢাকার বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে প্রচার করা হয়।
তবে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ বলছে সরকারের সাথে তাদের কোন বৈরিতা নেই এবং প্রথম আলো সাংবাদিকতার বাইরে আর কিছুই করে না।
ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী এই নেতা এমন এক সময়ে এসব কথা বললেন যখন প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি খবরের জের ধরে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে পত্রিকাটির সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামস কারাগারে আছেন। এছাড়া পত্রিকাটির সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধেও ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন, প্রথম আলো পত্রিকা এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপি একে অপরের পরিপূরক।
“প্রথম আলো আর বিএনপি সাপ্লিমেন্ট করে একজন আরেকজনকে। টার্গেট হচ্ছে সরকার, টার্গেট শেখ হাসিনা, টার্গেট গণতন্ত্র, টার্গেট আগামী নির্বাচন ভণ্ডুল করা।”
মি. কাদের বলেন, প্রথম আলো পত্রিকা নানাভাবে সরকারকে 'হেয়' করার চেষ্টা করছে। এছাড়া পত্রিকাটির সাংবাদিকতা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
“প্রথম আলো রিপোর্ট করে একটি মন্ত্রণালয় ব্যর্থ। তাদের এজেন্ডা আছে, তারা শুরু করেছে। নেতাদের ধরছে, এমপিদের ধরছে। এভাবে তারা মন্ত্রণালয়কে ধরছে, একেকদিন একেকটা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করবে, এরকম এজেন্ডা তাদের রয়েছে। মন্ত্রণালয়কে ব্যর্থ প্রমাণ করে রিপোর্ট করছে। সঙ্গে পাশাপাশি প্রথম আলোর এ রিপোর্টের সাপ্লিমেন্ট করছে মির্জা ফখরুল। মির্জা ফখরুল ঐ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন।”
“এভাবে তারা আজকে বাংলাদেশে একটা জনপ্রিয় সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য, বিশ্ব সমাজের কাছে খাটো করার জন্য, এই সরকারকে জন-বিচ্ছিন্ন করার জন্য .... হেন কোন তৎপরতা নেই যা বিএনপি নামক দল এবং প্রথম আলো নামক পত্রিকাটি না করছে।”

প্রথম আলোর প্রতিক্রিয়া
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রথম আলো পত্রিকার যেসব সমালোচনা করেছেন সেসব বিষয় নিয়ে মন্তব্য জানার জন্য বিবিসি বাংলার তরফ থেকে প্রথম আলোর সাথে যোগাযোগ করা হয়।
পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ বিবিসি বাংলাকে বলেন, সরকারের সাথে প্রথম আলোর কোনো বৈরিতা নেই এবং প্রথম আলো সাংবাদিকতার বাইরে আর কিছুই করে না।
“প্রথম আলো বের করার সময়ই আমরা বলেছিলাম যে আমরা দল নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করবো। এখনো বলি আমরা কোনো দলের সঙ্গে নেই। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে আছি । দল নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ব্রত নিয়ে প্রথম আলো যাত্রা শুরু করেছিলো। পাশাপাশি বলেছিলাম আমাদের সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। কারণ এর মধ্যেই গণতন্ত্র, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবাধিকার অন্তর্নিহিত আছে।”
মি. শরীফ দাবি করেন, এখন আওয়ামী লীগ প্রথম আলো নিয়ে যা বলছে ঠিক এগুলোই এক সময় বিএনপি বলতো। তাছাড়া অগণতান্ত্রিক কোন কিছুতে প্রথম আলো বিশ্বাস করে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
“আমাদের অঙ্গীকার ছিলো স্বাধীন সাংবাদিকতা করবো, বাংলাদেশের সংবিধান মেনে চলবো। তাই পলিসির দিক থেকে গণতন্ত্র ও সংবিধানকে মাথায় রেখে চলি। আমরা মানুষের পক্ষে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে,” বলেন মি. শরীফ।
‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মিথ্যা অপবাদ শুনতে শুনতে তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই প্রবণতা আরো বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণের নিশানা করা হচ্ছে।
“দেয়ালে আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে। শুনতে শুনতে এসব অপবাদ, এসব মিথ্যাচার চলতে আছে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অপপ্রচার, মিথ্যাচার, তারপর অনলাইনে – ফেসবুকে কুৎসিত প্রচারণা, পার্সোনালি প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ, গালিগালাজ।”
তিনি বলেন, দেশের একটি মহল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে মিলে আগামী নির্বাচন ভণ্ডুল করে অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
“তাদের ইন্ধনে দেশে গণমাধ্যমে আমাদের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের দিনে এ ধরণের পলিটিক্যালি সিলেক্টিভ এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর সংবেদনশীল বিষয় আপত্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে।”
প্রথম আলো নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমরা কোনো দলের সঙ্গে নেই। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং সে কারণে অগণতান্ত্রিক কোন কিছুতে বিশ্বাস করি না।”
“আমাদের অঙ্গীকার ছিলো স্বাধীন সাংবাদিকতা করবো, বাংলাদেশের সংবিধান মেনে চলবো। তাই পলিসির দিক থেকে গণতন্ত্র ও সংবিধানকে মাথায় রেখে চলি। আমরা মানুষের পক্ষে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে। সে কারণেই দল নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার চর্চা করি,” বলেন সাজ্জাদ শরীফ।

ছবির উৎস, Getty Images
'সাংবাদিকদের সাথে শত্রুতা নেই'
আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের প্রথম আলোর কড়া সমালোচনা করলেও তিনি দাবি করেছেন সাংবাদিকদের সাথে তাদের কোন শত্রুতা নেই। এছাড়া সরকারের ‘গঠনমূলক সমালোচনা’ নিয়ে তাদের কোন আপত্তিও নেই।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মি. কাদের বলেন, “আপনারা আমাদের শত্রু নন। কেউ কেউ আমাদের সাথে শত্রুতা করছে।”
“আমি আবারো বলছি, গণমাধ্যমের সাথে আওয়ামী লীগের কোন সংঘর্ষ নেই, কোন কনফ্লিক্টিং বিষয় নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ আগেও লড়াই করেছে, এখনও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় আওয়ামী লীগের লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত।”
“আমি এটা প্রতিশ্রুতি দিতে পারি আমরা সাংবাদিকদের বন্ধু। আমরা গঠনমূলক সমালোচনায়ও বিশ্বাসী। আমাদের কোন সমালোচনা করা যাবে না এটা আমরা কখনো বলিনা। আমাদের গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই।”
সাংবাদিকদের কল্যাণের ব্যাপারে শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত আন্তরিক বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।











