অবশেষে ভারতে ফিরলেন পুশ-ইনের শিকার গর্ভবতী নারী সোনালি খাতুন

সোনালি খাতুন ও তার ছেলেকে বিএসএফ এর কাছে হস্তান্তর করছে বিজিবি
ছবির ক্যাপশান, কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে সোনালি খাতুন ও তার আট বছরের ছেলেকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছিল বিএসএফ

ভারত থেকে পুশ-ইনের শিকার গর্ভবর্তী নারী সোনালি খাতুন অবশেষে নিজ দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশের কারাগারে প্রায় চার মাস আটক থাকার পর সোনালি খাতুন এবং তার আট বছরের সন্তান সাব্বির শেখকে বিএসএফ এর কাছে হস্তান্তর করেছে বিজিবি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাদেরকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, মানবিক কারনে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গর্ভবতী নারী সোনালি খাতুন এবং তার ছেলেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সোনালি খাতুনের সঙ্গে আরও যে চারজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছিল তাদেরকেও ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এর আগে গত পহেলা ডিসেম্বর ফারুক হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় সোনালি খাতুন এবং তার সন্তানকে জামিন দেয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালত। একই সঙ্গে পুশ-ইনের শিকার অন্য চারজনকেও সেদিন জামিন দেওয়া হয়।

ওই দিন আদালত নির্দেশনা দিয়েছিল যে, মানবিক বিবেচনায় ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে যোগাযোগ করে সোনালি খাতুনসহ বাকিদেরকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো যেতে পারে।

গর্ভবতী নারী সোনালি খাতুনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশেই।

এই ঘটনায় একাধিক মামলা চলছে ভারতের কলকাতা ও দিল্লি হাইকোর্টেও।

সম্প্রতি সোনালি খাতুনসহ 'পুশইন' করে বাংলাদেশে পাঠানো অন্য সবাইকে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দিয়েছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্টও।

হস্তান্তরের আগে পতাকা বৈঠক করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী
ছবির ক্যাপশান, হস্তান্তরের আগে পতাকা বৈঠক করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী

হস্তান্তরের বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

গত ২৫শে জুন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ছয় জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন করে। পুশইনের পর এই ব্যক্তিরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রবেশ করলে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আদালতের নির্দেশে গত ২২শে অগাস্ট তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা ভারতীয় নারী সোনালি খাতুন এবং তার আট বছরের সন্তানও ছিলেন।

প্রায় চার মাস চাঁপাইনবাবগঞ্জের কারাগারে কাটানোর পর গত দোসরা ডিসেম্বর মানবিক বিবেচনায় তাদেরকে স্থানীয় একজনের জিম্মায় জামিন দেয় আদালত।

এছাড়া কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা যেতে পারে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এরই প্রেক্ষিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে জানান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি এর মহানন্দা ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া।

বলেন, "পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পুশইনের শিকার অন্তঃসত্ত্বা ভারতীয় নারী সোনালি খাতুন ও তার আট বছরের সন্তান মো. সাব্বির শেখকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় বিএসএফের নিকট হস্তান্তর করা হয়।"

বিজিবি জানায়, আদালতের নির্দেশনা মেনেই ভারতীয় নারী সোনালি খাতুন এবং তার পরিবারকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তাদের সঙ্গে পুশইনের শিকার বাকি চারজনকেও নিজেদের দেশে অর্থাৎ ভারতে পাঠানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানায় বিজিবি।

মি. কিবরিয়া বলেন, এভাবে অবৈধ পুশইনের ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড এবং দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

জানান, বাংলাদেশ সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিজিবি মানবিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে তাদেরকে ভারতে পাঠানো হয়
ছবির ক্যাপশান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে তাদেরকে ভারতে পাঠানো হয়

পরিচয় নিশ্চিত করেছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ

সোনালি খাতুনসহ দুই পরিবারের মোট ছয়জন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কারাগারে আটক ছিলেন। যাদের পরিচয়ও নিশ্চিত করেছিল পশ্চিমপঙ্গ পুলিশ।

গর্ভবতী অবস্থায় আটক মিজ. খাতুন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার পাইকর থানার বাসিন্দা। অন্য পরিবারটির বাড়ি বীরভূমেরই মুরারই থানা অঞ্চলের ধিতোরা গ্রামে।

এদের প্রত্যেককেই পশ্চিম দিল্লির রোহিনী এলাকার কেএন কাটজু মার্গ থানা 'বাংলাদেশি' সন্দেহে আটক করা হয়। এরপর তাদের পশ্চিম দিল্লির ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের সামনে হাজির করানো হয়।

ভারতের ওই দফতরটি বিদেশি ট্রাইব্যুনালের মতো কাজ করে থাকে। সেখান থেকে রায় দেওয়া হয় যে, এরা সকলেই বাংলাদেশি এবং সেদেশে এদের ঠিকানা বাগেরহাট জেলায়।

তবে বীরভূমের পুলিশ একাধিক নথি যোগাড় করে নিশ্চিত হয়েছে যে এরা সকলেই ভারতীয়।

পুলিশের যোগাড় করা নথি ছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম এমন কয়েকটি জমির দলিলের তথ্য সংগ্রহ করেন, যেগুলো বাংলাদেশি হিসেবে দেখানো একজন নারীর মায়ের ও বাবার - উভয় দিকের পূর্বপুরুষদের।