আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
‘কালবেলা’র স্রষ্টা সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের প্রয়াণ
বাংলা ভাষার অগ্রগণ্য ও জনপ্রিয় লেখক সমরেশ মজুমদার আজ (সোমবার) বিকেলে কলকাতায় প্রয়াত হয়েছেন।
‘কালবেলা’, ‘কালপুরুষ’ ও ‘উত্তরাধিকারে’র ট্রিলজি অথবা দৌড়, গর্ভধারিণীর মতো উপন্যাস তাঁকে বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছিল।
দীর্ঘ অসুস্থতার পর কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এদিন সন্ধ্যা পৌনে ছ’টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
তিনি ভারতের সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন, ১৯৮২ সালে পেয়েছিলেন আনন্দ পুরস্কারও। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ খেতাবে সম্মান জানিয়েছিল।
অ্যাপোলো হাসপাতালের জারি করা একটি মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ‘স্ট্রোক’ ও ‘বালবার প্যালসি’ থেকে শ্বাসযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এছাড়া তাঁর বহুদিন ধরেই সিওপিডি, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া ও মায়াসথেনিয়া গ্র্যাভিসেরও সমস্যা ছিল। ওই হাসপাতালে তিনি গত ২৫শে এপ্রিল ভর্তি হয়েছিলেন।
সমরেশ মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪২ সালের ১০ই মার্চ। তার শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে। ডুয়ার্সের জল-জঙ্গল ও চা-বাগানের জীবন তাঁর বহু গল্প ও উপন্যাসে উঠে এসেছে।
জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল থেকে শিক্ষা শেষ করে তিনি কলকাতায় আসেন ১৯৬০ সালে। বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেন কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে এবং এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
তাঁর প্রথম গল্প ‘অন্য মাত্রা’ লেখাই হয়েছিলো মঞ্চনাটক হিসাবে, আর সেখান থেকেই তার লেখকজীবনের শুরু। সেই লেখাটি ছাপা হয়েছিলো দেশ পত্রিকায়, ১৯৬৭ সালে।
সমরেশ মজুমদারের প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’ ছাপা হয়েছিলো ওই একই পত্রিকায়, ১৯৭৫ সালে।
সমরেশ মজুমদারের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলির মধ্যে সাতকাহন, তেরো পার্বণ, স্বপ্নের বাজার, উজান, গঙ্গা, ভিক্টোরিয়ার বাগান, আট কুঠুরি নয় দরজা, অনুরাগ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
তবে বাংলা সাহিত্যের পাঠক তাঁকে সবচেয়ে বেশি মনে রেখেছেন উত্তরাধিকার, কালবেলা ও কালপুরুষের ট্রিলজির জন্য।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন :
নকশাল আমলের প্রেক্ষাপটে লেখা ‘কালবেলা’র চরিত্র অনিমেষ ও মাধবীলতা সমরেশ মজুমদারের অনন্য এক সৃষ্টি বলেই গণ্য করা হয়, যা অসংখ্য পাঠকের ভালবাসা ও সমাদর পেয়েছে।
১৯৮২ সালে তিনি আনন্দ পুরস্কার, ১৯৮৪ সালে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার এবং বঙ্কিম পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
সোমবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের প্রয়াণে তাঁর শোক জ্ঞাপন করেন।
রাজ্য সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই শোকবার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমরেশ মজুমদার ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন লব্ধপ্রতিষ্ঠ কথাকার।
তিনি আরও জানান, "সমরেশ মজুমদারের প্রয়াণে সাহিত্য জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হল।আমি সমরেশ মজুমদারের আত্মীয়-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।''