জামিন পেলেও আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না মির্জা ফখরুল এবং মির্জা আব্বাস

বিএনপি নেতা

ছবির উৎস, BNP MEDIA CELL

ছবির ক্যাপশান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না বিএনপির এই দুই নেতা।

হাইকোর্ট বিভাগ মঙ্গলবার তাদের জামিনের যে আদেশ দিয়েছিলো সেটি স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা একটি আবেদন নিয়ে শুনানির জন্য রবিবার ধার্য্য করেছে চেম্বার আদালত। শুনানিটি হবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে।

তাদের আইনজীবীদের একজন কায়সার কামাল বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “রবিবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে। সে পর্যন্ত দুই নেতা মুক্তি পাচ্ছেন না”।

গত সাতই ডিসেম্বর ঢাকার নয়াপল্টনে পুলিশের সাথে বিএনপি কর্মীদের এক সংঘর্ষের পর দায়ের করা মামলায় আটই ডিসেম্বর গ্রেফতার হয়েছিলেন দলটির এই দুই নেতা।

মঙ্গলবার তাদের ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলো হাইকোর্ট।

একই সাথে তাদের কেন জামিন দেয়া হবে না সে মর্মে রুল জারি করেছিলো আদালত। সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিলো।

আদালতের এই রায় স্থগিত চেয়ে আজ বুধবার চেম্বার আদালতে গিয়েছিলো রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

পুলিশের প্রহরা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আটই ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের প্রহরা

মঙ্গলবার হাইকোর্টের আদেশের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মির্জা আব্বাসের মুক্তিতে কোনও বাধা নেই বলে জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা।

এর আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিএমএম আদালতে তিনবার এই দুই নেতার জামিন আবেদন নাকচ হয়।

সর্বশেষ গত ২১শে ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতেও তাদের জামিন আবেদন নাকচ হয়।

গত ১০ই ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের একদিন আগে, ৮ই ডিসেম্বর মধ্যরাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে তাদের বাসা থেকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিন্টো রোডে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

এরপর ৯ই ডিসেম্বর দিনভর ডিবি কার্যালয়ে রেখে সন্ধ্যায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

ডিবি পুলিশ তখন বলেছিল, সাতই ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় পল্টন থানার মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঢাকায় ১০ই ডিসেম্বর বিএনপির গণ সমাবেশের স্থান নিয়ে দলটির সাথে সরকারের বাদানুবাদ চলে আসছিল।

বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ব্যাপারে অনড় অবস্থায় থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে বার বার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান না হলে পূর্বাচলে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার কথা বলা হয়।

এর মধ্যে সাতই ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর পুলিশ বিএনপির কার্যালয়ে অভিযান চালায়।

ঘটনার পর পুলিশ পল্টন, মতিঝিল, রমনা ও শাহজাহানপুর থানায় পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে।