আফগানিস্তান যেভাবে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের দৌড়ে আছে

ছবির উৎস, Getty Images
আফগানিস্তান ক্রিকেট দল দেশটির স্বল্প দিনের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে দারুণ সময় কাটাচ্ছে এখন।
প্রথমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এরপর পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি দারুণ নিয়ন্ত্রিত রান তাড়া করে জয় পেয়ে আফগানিস্তানের দৃষ্টিসীমানায় এখন সেমিফাইনাল।
আফগানিস্তান এই বছর দারুণ কিছু রান তাড়া করে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হামবানটোটায় ২৬৯ রান তাড়া করে জয়, এরপর ঠিক এক ম্যাচ আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৮৩ রান তাড়া করে জয়।
এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা ২৮৪ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে ২১৫ রানে অলআউট করে দিয়েছে ৯ ওভার ৩ বল বাকি থাকতে।
অর্থাৎ ক্রিকেটের সব পরীক্ষায় আপাতত উত্তীর্ণ রাশিদ খান, মোহাম্মদ নবীরা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রান তাড়াটা ছিল আফগানিস্তানের জন্য ছিল বিশেষ অর্জন।
কারণ অনেকে মনে করতেন আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপ ওপেনার নির্ভর। তবে রহমানুল্লাহ গুরবাজ অল্প রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে দলটির আর কোনও ব্যাটার দাঁড়াতে পারেন না এমন একটা ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছেন ইব্রাহিম জাদরান, রহমদ শাহ, হাসমতুল্লাহ শহীদি ও আজমতুল্লাহ ওমরজাই।
কোনও রান না তুলেই তারকা ব্যাটার গুরবাজ প্যাভিলিয়নে ফেরেন দিলশান মাধুশানাকার বলে বোল্ড হয়ে।
পরের দুই উইকেটের পতন ঘটে ৭৩ রানে ও ১৩১ রানে।
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
এটাই আফগানিস্তানকে এই ম্যাচে ধীরস্থিরভাবে লক্ষ্যের দিকে এগোতে সাহায্য করে।
প্রতি দশ ওভার ভিত্তিক এই ব্যাটিং পরিকল্পনা তারা মাঠেই প্রদর্শন করেছে এবং সে অনুযায়ী এগিয়েছে।
প্রথম উইকেট পতনের পর ৭৩, দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর ৫৮ রানের জুটি গড়ে আফগান ব্যাটাররা।
তৃতীয় উইকেট পতনের পর ১১১ রানের জুটিতে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে আফগানিস্তান।
এছাড়াও বোলিং নিয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনা মাথায় রেখে সেটাকে মাঠে বাস্তবায়ন করেছে আফগানিস্তান।
যেমন পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ বল করা নূর আহমেদকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একাদশেই রাখেনি আফগানিস্তান।
তার বদলে দলে নিয়েছে নিয়মিত একাদশের বাহাতি পেসার ফজল হক ফারুকিকে।
তিনিই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন।
ব্যাটাররা শেষ পর্যন্ত ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এলেও, জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন ফারুকিই।
ম্যাচের শেষে আফগানিস্তানের কোচ সাবেক ইংল্যান্ড ক্রিকেটার জনাথান ট্রট বলেন, “আমাদের প্রক্রিয়া যে কাজে দিচ্ছে সেটারই প্রমাণ আজকের ম্যাচ।”
“দেখেন আপনি যদি আগে ব্যাট করেন আপনি কতো করতে পারেন সেটা জানেন না, কিন্তু রান তাড়া করলে সেটা আপনারা জানেন। তাই আমরা কিছু ছোট ছোট টার্গেটে ভাগ করে নিয়েছি, তখন এটা দৃশ্যতই অনেক সহজ মনে হয়”।
আফগানিস্তান বিশ্বকাপে পয়েন্ট তালিকায় পাঁচ নম্বরে আছে, বেশ কিছু হিসেব নিকেশ মিলে গেলে আফগানিস্তান সেমিফাইনালেও জায়গা করে নিতে পারে।

ছবির উৎস, Getty Images
কোন দলের অবস্থা বেশি খারাপ? বাংলাদেশ নাকি পাকিস্তান
মঙ্গলবার কলকাতার সুপরিচিত ঐতিহাসিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ইডেন গার্ডেনসে মুখোমুখি হয়েছে উপমহাদেশের দুই ক্রিকেট দল বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসানকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ''পাকিস্তান তো চার ম্যাচ হেরে গেছে, খানিকটা সুবিধা নেবে বাংলাদেশ?''
সাকিব হেসেই কুটিকুটি হয়ে গেছেন প্রশ্ন শুনে, পাল্টা জবাব দেন, “পাকিস্তান তো ভাবতে পারে বাংলাদেশ টানা পাঁচ ম্যাচে হেরেছে, এখান থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে”।
দুই দলের অবস্থা এতোটাই সঙ্গীন যে কোন দল টানা কতো ম্যাচ হেরেছে সেটা হিসেব করতে বসতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্সের অবস্থা যাচ্ছেতাই, কোনও ব্যাটার রান পাননি, কোনও বোলার ছন্দে নেই, একসাথে শেষ কবে সাকিব আল হাসান টানা ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন তা খুঁজে পেতে চলে যেতে হবে ২০১০ সালে।
২০১০ এর পর ২০২৩ সালেই সাকিব টানা পাঁচ ম্যাচে ব্যাট হাতে ৩০ রান স্পর্শ করতে পারেননি।
এমন করুণ অবস্থায় সাকিব আল হাসানের সংবাদ সম্মেলন দেখলেই বলে দেয়া যায়, এই সাকিব সেই সাকিব নন।
কোনও বাঁকা উত্তর নেই, কোনও পাল্টা প্রশ্ন নেই, কেবলই মেনে নেয়া, মাথা পেতে নেয়া।
বাংলাদেশ দলের প্রতিচ্ছবি যেন সাকিব আল হাসানের একেকটি সংবাদ সম্মেলন।
ক্রিকেটারদের যে অনুপ্রাণিত করবেন, নিজের ব্যাটেই তো রান নেই।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারের পর সমর্থকরা কষ্ট পেলেও স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছে। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারটা মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাই খুব কম মানুষই আশা রাখছেন।
পাকিস্তান ক্রিকেটেও বয়ে যাচ্ছে ঝড়, গতকাল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম উল হক।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড থেকে একটা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “পাকিস্তান ক্রিকেট দলের স্কোয়াড নির্বাচনে স্বার্থের সংঘাত আছে এমন কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না তা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে পিসিবি”।








