আফগানদের বিপক্ষে যে তিন কারণে 'লজ্জিত' ও 'পরাস্ত' পাকিস্তান

ছবির উৎস, Getty Images
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার এবং বিশ্লেষকরা দলটিকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করছেন।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ক্রিকেটে এটাই পাকিস্তানের প্রথম হার।
বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানের এই হার দলটির সেমিফাইনাল যাত্রায় একটা বড় ধাক্কা হয়ে এল।
পাকিস্তানের কিংবদন্তী ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম এ স্পোর্টসের ক্রিকেট শো দ্য প্যাভিলিয়নে বলেন, “অনেক হলো। আর সমর্থন করা যায়না এই দলটাকে”।
আফগানিস্তানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই আফগানিস্তান পাকিস্তানকে পরাস্ত করেছে”।
তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের উদ্দেশ্যে হাতজোড় করে অনুরোধ করেছেন, “দয়া করে আপনারা দেশের কথা ভাবুন”।
পাকিস্তান ক্রিকেট দল গত বছরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল, তখন কোচিং স্টাফে ছিলেন সাকলাইন মুশতাক।
ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন
পিসিবির নেতৃত্বে বদল আসার পরে আবারও বিদেশি কোচ নিয়ে আসার প্রতি আঙ্গুল তুলেছেন ওয়াসিম আকরাম।
“নিজের লোক আনো নিজের লোক রাখো- এই পন্থায় কাজ করছে পিসিবি। অনলাইন কোচ রেখেছিল তারা”।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কিছু পরিবর্তনকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলছেন তিনি।
পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওয়াসিম আকরাম।
দুই বছর ধরে কোনও ফিটনেস টেস্ট হয়না পাকিস্তান ক্রিকেট দলে, বলছেন ওয়াসিম আকরাম।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ফিল্ডিং ছিল হতাশাজনক, এর আগের ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডেভিড ওয়ার্নারের ক্যাচ ছেড়ে ভুগতে হয়েছে পাকিস্তান দলকে।
ওয়াসিম আকরাম মনে করেন, ফিল্ডিংয়ের এই গা ছাড়া পরিস্থিতির পেছনে ফিটনেসের ঘাটতি রয়েছে।
ওয়াসিম বলেন, “আপনি আট কিলো গোস্ত খাচ্ছেন, নেহারি খাচ্ছেন। আপনি অর্থ পাচ্ছেন দেশের হয়ে খেলার জন্য”।
ওয়াসিমের মতে, মিসবাহ যখন কোচ ছিলেন তখন ফিটনেস নিয়ে কড়া ছিলেন। ক্রিকেটাররা এই কড়াকড়ি অপছন্দ করতেন কিন্তু এটা ছিল কাজের।
'সোশ্যাল মিডিয়া' দেখে দল গড়া হচ্ছে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব রয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দলে এমনটা মনে করেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার শোয়েব মালিক।
এই অলরাউন্ডার বলেছেন, “সোশাল মিডিয়াকে ভয় পাওয়া অফ করেন। আপনার যদি কোনও লক্ষ্য না থাকে, কোনও হোমওয়ার্ক করা না থাকে। আপনি তখন এমন সিদ্ধান্ত নেবেন যেগুলো জনতার মতামতের মতো”।
শোয়েব মালিকের মতে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অবস্থা এখন এমন, ‘যেদিকে হাওয়া সেদিকেই আপনার সিদ্ধান্ত’।
পাকিস্তান যদি সেমিফাইনাল খেলেও ফেলে কোনওভাবে, শোয়েব মালিক মনে করেন পাকিস্তান বড় দলের বিপক্ষে খেলার মতো দল নয় এখন।
পাকিস্তান ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে অবস্থান করছিল কিছুদিন আগেও, অধিনায়ক বাবর আজমও এখনও পর্যন্ত ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের এক নম্বর ব্যাটার।
এই বিষয়গুলো পাকিস্তান দলকে একটা ‘মিছে আত্মতৃপ্তি’ দেয় বলে মনে করছেন সাবেক ক্রিকেটাররা।
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post
পাকিস্তান ইতিহাসে 'সবচেয়ে অকার্যকর বোলিং'
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
শোয়েব মালিক প্রশ্ন তুলেছেন, “যারা এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছেন ওদের কয়জন ক্রিকেটার র্যাংকিংয়ে ওপরের দিকে আছেন?”
শোয়েব মালিকের মতে, মূল বিষয় হচ্ছে ‘দল হিসেবে আপনি কী করছেন?’
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ব্যাটাররা গতকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে ধীরগতির ব্যাট করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ মিসবাহ উল হক বলছেন, “দুই দলের ব্যাটিং কন্ডিশন আলাদা ছিল। এবং যে কোয়ালিটির বোলিং পাকিস্তান মোকাবেলা করেছে, পাকিস্তানের বোলাররা এতো ভালো না। তাই আফগানিস্তান আরও সহজে রান তুলেছে”।
গতরাতে পাকিস্তান যেমন বল করেছে তা দেশে জনপ্রিয় ক্রিকেট উপস্থাপক হারশা ভোগলে বলেছেন, “আমি এটা বলবো কখনো ভাবিনি কিন্তু পাকিস্তানের বোলিংটা ছিল নিষ্প্রভ। মনে হয়েছে কারও বোলিংয়েই ধার নেই। পাকিস্তানের ফিল্ডিংও ছিল হতাশাজনক”।
হারশা ভোগলে লিখেছেন পাকিস্তানের বোলিং এতোটা অকার্যকর কখনোই দেখেননি তিনি।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার শোয়েব আখতার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, “পাকিস্তান আজ যে পরিস্থিতিতে আছে এর পেছনের বড় কারণ মাঝারি মেধার, গড়পড়তা মানুষ নিয়ে আসা”।
অনেকেই বলছিলেন নাসিম শাহ না থাকায় পাকিস্তানের বোলিংয়ের এই দুরবস্থা।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া বলেন, “নাসিম শাহ নেই কিন্তু এটাকে অজুহাত বানানো উচিত হবে না। পাকিস্তান এশিয়া কাপেও চতুর্থ হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপেও ব্যর্থ”।

ছবির উৎস, Getty Images
কী হয়েছিল ম্যাচে?
চেন্নাইয়ের চীপক স্টেডিয়ামে সোমবার পাকিস্তান ক্রিকেট দল টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়।
পাকিস্তানের করা ২৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান এক ওভার ও ৮ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নিয়েছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে আফগানিস্তান সাতটি ওয়ানডে খেলে সাতটিতেই হারের পর অষ্টম চেষ্টায় এই জয় পেয়ে অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শহীদি বলেন, ‘এই জয়টা মধুর ছিল’।
আফগানিস্তানের রান তাড়ার ধরন ছিল খুবই পেশাদার, এশিয়া কাপ থেকেই আফগানিস্তান পরিকল্পনা করে আসছিল যে, এবারের বিশ্বকাপটা তারা বিশেষ করে রাখবে।
প্রথমে ইংল্যান্ড এবং এবারে পাকিস্তানকে হারানোর পর হাশতুল্লাহ শহীদী বলেন, “এটা আমাদের দেশের মানুষের জন্য ঐতিহাসিক এক জয়”।
এটা ছিল আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জয়।
ভারতের কিংবদন্তী ক্রিকেটার সাচিন টেন্ডুলকার নিজের ভেরিফাইড টুইটারে লিখেছেন, আফগানিস্তানের এই জয়ের পেছনে অজয় জাডেজার একটা প্রভাব রয়েছে।
অজয় জাডেজা আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের মেন্টর হিসেবে যোগ দিয়েছেন এই বিশ্বকাপের আগে।
ভারতের বিভিন্ন মাঠের কন্ডিশন, উইকেট সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে অজয় জাডেজার।
এর আগে আফগানিস্তানের ব্যাটার রহমানুল্লাহ গুরবাজও অজয় জাডেজার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।
এই বিশ্বকাপে আফগানিস্তান এখনও পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেয়েছে।
তীব্র চাপে রয়েছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আজ তীব্র চাপের মুখে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামছে।
একে তো টানা তিন ম্যাচে হার, তারওপর দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান ফর্ম।
ঠিক আগের ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৯৯ রান তুলেছে, তার আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তুলেছিল ৪২৮ রান।
বাংলাদেশের ব্যাটার ও বোলার কোনও বিভাগেই ঠিকঠাক পারফর্ম করতে পারছে না এখনও পর্যন্ত।
দক্ষিণ আফ্রিকা আজ জয় পেলে সেমিফাইনালের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে দলটি।
বাংলাদেশ এখনও পায়ের তলায় মাটি খুঁজছে, এর মধ্যে যোগ হয়েছে তাসকিন আহমেদের চোট।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফিরছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
দক্ষিণ আফ্রিকার হেইনরিখ ক্লাসেন এখন দুর্দান্ত ফর্মে আছেন।
তিনি ২০২৩ সালে ৫৫ গড় ও ১৪৭ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ রেকর্ড ভালো।
এখনও পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়ে দুইবার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজেও জিতেছিল বাংলাদেশ।











