ক্রিকেটে ভারত-বাংলাদেশ 'বৈরিতা' কেন ও কীভাবে তাৎপর্যময় হয়ে উঠলো

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, ফয়সাল তিতুমীর
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
একটা কথা আজকাল প্রায়ই শোনা যায় যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে এখন আর আগের সেই উত্তাপ পাওয়া যায় না। বরং সে জায়গায় ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ নিয়ে মাতামাতি এখন বেড়েছে বহুগুণে। আর তা শুধু পুরুষ ক্রিকেটেই নয় কিন্তু!
ভারত-বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট ম্যাচও এখন আলোচিত বিষয় হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের মধ্যকার উত্তেজনা ছড়ানো অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের অনেক ঘটনা তো এখনো আলোচনার বিষয়।
সম্প্রতি অনেকের নজরে নাও এসে থাকতে পারে, এমার্জিং এশিয়া কাপেও বাংলাদেশের সৌম্য সরকারের সাথে বিবাদে জড়িয়েছিলেন ভারতের হারশিত রানা, পরে আম্পায়ার এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।
এমনিতে কাগজে-কলমে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে বহুগুণে এগিয়ে আছে - সেটা ট্রফিতে হোক, র্যাংকিংয়ে হোক কিংবা বড় ক্রিকেটারদের নামের ভারেই হোক। দুদলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানও বলবে সেই কথা।
টেস্টে ভারত বাংলাদেশের সাথে এখনো অপরাজেয়। আর টি-টোয়েন্টিতে ১২ বারের দেখায় মাত্র একটাই জয় বাংলাদেশের।
শুধুমাত্র ওয়ানডে ফরম্যাটে জয়-পরাজয়ের পার্থক্য কিছুটা কম বলা যেতে পারে। ভারতের ৩১ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আটবার। আবার শুধু গত দুই বছরের হিসাব ধরলে এই সময়ে হওয়া চার ম্যাচের তিনটিই জিতেছে বাংলাদেশ।
মাঠের পরিসংখ্যান বলছে ভারত বেশি জয় পায় এটা সত্য, কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে অতো সহজ হয় না এই জয় পাওয়া!
দুই দেশের ম্যাচে মাঠে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি গ্যালারিতেও যেন চলে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, উঠে আসে 'বৈরি' উচ্ছ্বাস-হতাশা বা আক্রমণ।
কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটের শুরু থেকে অকৃত্রিম বন্ধু থাকা ভারত কী করে এমন 'শত্রু' হয়ে উঠলো? এর পেছনে কি শুধু ক্রিকেট নাকি আরো বেশি কিছু আছে?

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথের শুরুটা যেখানে
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ভারতের বিপক্ষে ২০০৪ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জিততে শুরু করে। সেটা ছিল বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক শততম ওয়ানডে ম্যাচ।
ওই সময় সেটা যেমন ছিল বাংলাদেশের জন্য বিরাট বড় জয়, তেমনি ভারত সহ গোটা ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই ছিল বিস্ময়ের।
দর্শকপূর্ণ ঢাকা স্টেডিয়ামে সে ম্যাচে বাংলাদেশের করা ২২৯ রানের জবাবে, শেবাগ-গাঙ্গুলি-যুবরাজ-ধোনিদের ভারত থামে ২১৪ রানে। দারুণ বল ও ব্যাট করে ম্যাচসেরা হন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।
তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের জয় খানিক নিয়মিত হতে শুরু করে ২০১২ সাল থেকে। কিন্তু দুই দলের মধ্যে দ্বৈরথের বীজটা বোনা হয় ২০০৭ বিশ্বকাপে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজে সেবার গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যায় ভারত। যা ব্যাপক আলোড়ন ফেলে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে।
তবে বাংলাদেশের জন্য 'মিথ' হয়ে হয়ে আছে সেই ম্যাচের আগে বলা মাশরাফীর এক উক্তি, ‘ধরে দিবানি’!
'নড়াইল এক্সপ্রেস' নামে খ্যাত বাংলাদেশের এই পেসার ঠিক কোথায়, কোন প্রেক্ষাপটে নিজের আঞ্চলিক ভাষায় এটি বলেছিলেন, সেটি আর গুরুত্বপূর্ণ থাকেনি। বরং ক্রিকেট সমর্থকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল তা।
তবে এর তিন বছর পর ২০১০ সালে বাংলাদেশ সমর্থকদের মনে জ্বালা ধরিয়ে দেয় ভারতীয় ওপেনার বীরেন্দর শেবাগের এক মন্তব্য।
সেবার বাংলাদেশে টেস্ট খেলতে এসে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের এই ওপেনার বাংলাদেশ দলকে ‘অর্ডিনারি’ বা সাধারণ মানের দল হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। যে কথাটা আজও ভোলেনি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

ছবির উৎস, Getty Images
এশিয়া কাপ থেকে বিশ্বকাপ
দুই হাজার বারো সালের এশিয়া কাপে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানরা শচীন-কোহলি-ধোনির ভারতের বিপক্ষে এক বিখ্যাত জয় তুলে নেয়। সেই প্রথমবার আসরের ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ, কিন্তু ভারত বাদ পড়ে গ্রুপ পর্বেই।
কিন্তু এরপর ২০১৪ সালে ভারতের প্রায় তৃতীয় সারির দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ শোচনীয় পরাজয় বরণ করে। এর আগে-পরে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সক্ষমতা নিয়ে ভারতের বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তোলেন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সেসময়।
তখন থেকে দুই দলের সমর্থকরা ফেসবুক-টুইটারে এক ধরনের যুদ্ধ ঘোষণা করে দেয় যেন।
সেই লড়াইয়ের আগুনে ঘি ঢালে রোহিত শর্মার নো বল ঘটনা।
সেসময় ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রোহিত শর্মাকে করা এক ফুলটস বল সোজা স্কয়ার লেগে ফিল্ডারের হাতে জমা হয়।
কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উইকেট উদযাপনের মধ্যেই আম্পায়ার নো বল ঘোষণা দেন, পরে টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায় একেবারেই মাঝামাঝি একটা জায়গায় বল ব্যাটে আঘাত হানে। পরে রোহিত সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকান, বাংলাদেশ হেরে যায় বড় ব্যবধানে।
কিন্তু এই নো বল বিতর্কে তখন ভাগ হযে যায় দুই দেশের ক্রিকেট। বাংলাদেশের তৎকালীন ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেছিলেন, "আম্পায়ারিং 'খুবই বাজে' হয়েছে।"
বাংলাদেশে এই নো বল নিয়ে এতোটাই মাতামাতি ছিল সেই সময়ে যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ওই ম্যাচ নিয়ে মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই এক নো বলের ছবি দিয়েই ভরা ছিল, অনেকেই তখন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে লিখেছিলেন, 'শেইম আইসিসি' - আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে কে ধিক্কার জানিয়েছেন তারা।
সে সময় আইসিসিরও সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশের আহম মোস্তফা কামাল।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের হাতে শিরোপাও তুলে দেয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে তিনি উঠতে পারেন নি এবং দেশে এসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। আর এসব কিছুর জন্য সমালোচনা করে ভারতের দিকেই তীর ছুঁড়ে দেন তিনি।

ছবির উৎস, Getty Images
মুস্তাফিজকে ধোনির ধাক্কা
বিশ্বকাপের রেশ চলতে থাকে বাংলাদেশ ভারতের ক্রিকেটে। বিশেষত বাংলাদেশের মাটিতে সে বছরই সিরিজ খেলতে এসেছিল ভারত।
সেবার মুস্তাফিজুর রহমান তার ওয়ানডে অভিষেকে ভারতকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করেন। সাতক্ষীরার এই ফাস্ট মিডিয়াম পেসারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভারতকে প্রথমবারের মতো যেকোনো ফরম্যাটে সিরিজ হারায় বাংলাদেশ।
সে সময় ২২ গজে বোলিং এর পর ফলোথ্রুতে যখন মুস্তাফিজ দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন ভারতের তৎকালীন অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধোনির ধাক্কায় মুস্তাফিজ পড়ে যান, মাঠেই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা মুস্তাফিজের পাশে দাঁড়ান।
ধোনি তখন অনেকটা অভিযোগের ভঙ্গিমায় দেখান মুস্তাফিজই তো পথে দাঁড়িয়ে ছিল।
এই ঘটনায় ক্রিকেটে দুর্দান্ত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ধোনি বাংলাদেশে ভিলেন হয়ে গিয়েছিলেন, যদি অনেকটা সময় পেরিয়ে এখন বাংলাদেশে ধোনির অনেক ভক্ত পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ-ভারতের এই ক্রিকেট উত্তেজনা শুধু যে দুদেশের দর্শক-সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ - তা মনে করেন না লেখক ও সাংবাদিক মোস্তফা মামুন।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এটা খেলোয়াড়দেরও প্রভাবিত করে, তারা স্বীকার করবে না কিন্তু বাড়তি চাপ অবশ্যই তৈরি করে।
“তাদের মধ্যেও বাড়তি উত্তেজনা থাকে, ফলে মাঠে মাঠে কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যায়, আর এটা আরো বাড়তে থাকে। যেমন মুস্তাফিজকে ধাক্কা মারলো, পরের ম্যাচের উত্তেজনায় ওটা যোগ হচ্ছে। এভাবে তা বাড়তে থাকে।”
একইভাবে তিনি মনে করেন শক্তিমত্তায় এগিয়ে থাকলেও ভারতও এই ম্যাচ নিয়ে এখন তাড়িত হয়। বাংলাদেশের তীব্র উত্তেজনা তাদেরও স্পর্শ করে, এবং তারাও তখন ম্যাচটা অন্যরকমভাবে নেয়।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post
গণমাধ্যম আর সামাজিক মাধ্যমে 'বৈরিতা'র উত্থান
মাঠের এসব নানা ঘটনা মাঠের বাইরে নিয়মিতই আগুন ধরায় সমর্থকদের মাঝে। গণমাধ্যম ছাড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমেও এবার নানা মতামত, তর্ক, বিতর্ক উঠে আসতে থাকে। যা মাত্রা ছাড়াতে থাকে নিয়মিত।
যেমন একবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ ছবি এডিট করে ধোনির কাটা মুণ্ডু তাসকিনের হাতে ধরিয়ে দেন।
আবার বাংলাদেশের এক জনপ্রিয় দৈনিকের রম্য ক্রোড়পত্রে ছাপা হয়েছিল মুস্তাফিজ কাটার মাস্টার হয়েই ভারতের ক্রিকেটারদের চুল অর্ধেক ন্যাড়া করে দিয়েছেন।
ভারতে আবার এ ঘটনায় তীব্র আপত্তি দেখা গিয়েছিল। ভারতের অনেক ক্রিকেট সমর্থক তখন বলেছিলেন, "যে ভারত বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পেতে সমর্থন যুগিয়েছিল, তাদের নিয়ে এমন করা উচিৎ নয়"।
বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের অনেকের পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়াটাও ভারতের ক্রিকেট সমর্থকরা ভালোভাবে দেখেন না, এটা নিয়ে প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় দেখা যায় দুই পক্ষের নানা যুক্তি ও সংঘাত।
“ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশে আসলে এখন তিন ক্যাটাগরির সমর্থক আছে,” বলেন মোস্তফা মামুন।
তিনি বলেন, “একটা হল আগে থেকে ভারত বিরোধী, আরেকটা দীর্ঘসময় পাকিস্তানের ক্রিকেট সমর্থন করে এসেছে তারা, এছাড়া বাংলাদেশে আগে যারা ভারতের সমর্থক ছিল তারাও এখন বাংলাদেশ সমর্থক। ফলে এ সবাই মিলে আসলে ঐক্যবদ্ধ হয়।”
ভারত-বাংলাদেশ লড়াইটা তাই মাঠ ও মাঠের নিয়মিত চলতে থাকে। বিশেষত ২০১৬ ও ২০১৮ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছে ভারত ও বাংলাদেশ।
দুই হাজার ষোলো সালের এশিয়া কাপ ফাইনাল অনেকটা একপেশেভাবেই জয় পায় ভারত।
আর ২০১৮ সালের ফাইনালে ভারত বাংলাদেশ ম্যাচে বিতর্ক হয়েছিল লিটন দাসের স্ট্যাম্পিং নিয়ে, ১২১ রান করে আউট হয়েছিলেন বাংলাদেশের এই স্টাইলিশ ব্যাটার। সেই ম্যাচে মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা দারুণ বল করেছিলেন।
তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ম্যাচটি হেরে যায়। আবার একই বছর শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল ভারতের কাছে শেষ বলে হেরে যায় বাংলাদেশ।
কিন্তু দুই দেশের মধ্যকার সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেঙ্গুলুরুতে।
সেবার তিন বলে দুই রানের সমীকরণে থেকেও ম্যাচটি হেরে যায় বাংলাদেশ। যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচুর ট্রল করেছিল ভারতীয় সমর্থকরা।

ছবির উৎস, Getty Images
উত্তাপ ছুঁয়ে যায় ছোটদেরও
ক্রিকেটের বড় মঞ্চে নিয়মিতই দেখা হতে থাকে দুই দলের। কিন্তু ২০২০ সালের ভারত বাংলাদেশ দ্বৈরথ আবারো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে যুবদলের হাত ধরে।
সেবার অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিল ভারত এবং বাংলাদেশ। বাংলাদেশের যুবদল সেই বিশ্বকাপ জিতে দেশের জন্য প্রথম বড় ট্রফি জেতেন বিশ্বমঞ্চে।
সেই ম্যাচ জয়ের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উল্লাস খানিকটা সীমা ছাড়িয়েছিল বলে মনে করেন অনেকে। সেবার ভারতের ক্রিকেটারদের কেউ কেউ তেড়ে এসেছিলেন।
তবে শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর হাসি হাসেন তানজিদ তামিম, শরিফুল, তানজিম সাকিবরা।
এরপর ২০২২ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি দুই জাতীয় দল।
ভারতের করা ১৮০ এর বেশি রানের জবাবে বাংলাদেশ যখন ব্যাট করে একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতেই যাবে।
কিন্তু এরপর বৃষ্টি নামে এবং বৃষ্টির পরে মাঠে নামার সময় মাঠ পর্যবেক্ষণে খানিকটা তাড়াহুড়ো করেছে বলে আম্পায়ারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। টেলিভিশন স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছিল সাকিব আল হাসান বারবার মাঠে হাত দিয়ে পানি দেখাচ্ছিলেন আম্পায়ারদের।
মাঠে নেমে বাংলাদেশ খেলায় তাল হারিয়ে ফেলে এবং এরপর ভারতের বিপক্ষে হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে ঘরের মাঠে একই বছর ভারতের বিপক্ষে আবারো সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ।
সবশেষ চলতি বছর নারীদলের হাত ধরে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যকার ক্রিকেটীয় লড়াই আরও একবার আলোচনায় আসে।
তিন ম্যাচের সিরিজের শেষটিতে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে নাখোশ ছিলেন ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌর। তিনি হতাশা লুকোতে পারেননি, তিন ম্যাচ সিরিজের শেষটি টাই হওয়াতে ট্রফি ভাগাভাগি করে ছবি তোলার সময় তিনি বাংলাদেশ দলের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আম্পায়ারদেরও নিয়ে আসো তোমরা' ।
ভারতের অধিনায়ক এই আচরণ করে পার পাননি, তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল সাময়িক, নিজ দেশেও ক্রিকেট বোদ্ধাদের কড়া বাক্য হজম করতে হয়েছে তাকে।

ছবির উৎস, Getty Images
‘ক্রিকেটের চেয়েও বেশি কিছু’
সাংবাদিক মোস্তফা মামুন বলেন, এটা শুধুমাত্র ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ নয় বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, “দুই প্রতিবেশী যখন ছোট-বড় হয় তখন সবসময় লড়াই থাকে। ভারত বড় দেশ, আমরা মনে করি তাদের কাছে বঞ্চিত বা রাজনৈতিক সমস্যা আছে ইত্যাদি। এই যে অনুভূতি এটা অন্যভাবে মোকাবেলা সবসময় করা যায় না। খেলার মাঠ একমাত্র জায়গা যেখানে সরাসরি জয় পরাজয় আছে, কূটনীতিতে কিন্তু জয় পরাজয় দেখা যায় না।”
মি. মামুন মনে করেন, আরেকটা বড় ব্যাপার হল একটা সাধারণ ধারণা আছে যে এই ক্রিকেট বিশ্ব বুঝি ভারতই নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে পারফর্ম করলে অনেক বেশি 'মাইলেজ' বা 'কাভারেজ' পাওয়া যায়।
তিনি একটা উদাহরণ দিয়ে বলেন, “ম্যারাডোনা যদি ইংল্যান্ডের সাথে হাত দিয়ে গোল না করে অন্য কোন দেশের সাথে করতো তাহলে হয়তো সেটা এত বেশি আলোচিত হত না।”
তিনি মনে করেন সবকিছু মিলে একটা বাড়তি প্রকাশের তাগিদ থাকে সব পক্ষেরই। ফলে কখনো কখনো তা মাত্রা ছাড়িয়ে যায় এবং এ দুই দলের দ্বৈরথ আরো বাড়তেই থাকে।
এবারের বিশ্বকাপে ১৯শে অক্টোবর আবারো মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। আর সে ম্যাচে পুরনো দ্বৈরথ কতটা প্রাণ পায় তা এখনো দেখা বাকি।











