বুনো হাতিটির পেছনে ভারত-বাংলাদেশের বনকর্মীরা

বাংলাদেশের জামালপুরের একটি চরে আটকে থাকা ভারতীয় একটি বুনো হাতি উদ্ধারে চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ও ভারতের বন কর্মীরা।
হাতি উদ্ধারে সহায়তা করতে বুধবার বাংলাদেশে এসেছে একটি ভারতীয় দল।
হাতিটি এখন রয়েছে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার সোনারকান্দা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে থাকা একটি চরে।
বৃহস্পতিবার এই দলটি এবং বাংলাদেশের বনবিভাগের কর্মকর্তারা জামালপুরের প্রত্যন্ত চরে হাতিটির পেছন পেছন ঘুরে সেটির অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছেন। এরপর তারা সেটিকে উদ্ধারের পরিকল্পনা করবেন।
সেখান থেকে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী বিভাগের উপ-বন সংরক্ষক মোঃ. সাহাবউদ্দিন বিবিসিকে জানান, ''আমরা এখন হাতিটির পেছন পেছন ঘুরছি। তবে পাটক্ষেত এবং ছনের জন্য সেটির অবস্থা পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না। আমরা এখন হাতিটির অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছি।''
চর এলাকায় কখনো নৌকায়, কখনো পায়ে হেটে হাতিটির পেছনে ঘুরছেন দুই দেশের বন কর্মকর্তারা।
স্থানীয় একজন সাংবাদিক আজিজুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, হাতিটি সকালে সরিষাবাড়ী এলাকা থেকে পানি ও নদীনালা পাড় হয়ে সিদুরি উপজেলায় যায়। পরে আবার সেটি ভাটারা ইউনিয়নের কৃষ্টপুর নামের একটি গ্রামে রয়েছে।
তিনি জানান, হাতিটির চারদিকে কয়েকহাজার মানুষ ঘিরে রয়েছে। আসার পথে কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। তবে পুরো সময়টা ধরে হাতিটি জলা এলাকার মধ্যেই রয়েছে।
হাতিটিকে প্রথমে জলা এলাকা থেকে সরিয়ে একটু নিরাপদ এবং উঁচু এলাকায় নেয়ার কথা ভাবছেন কর্মকর্তারা। পানি থেকে শুকনো এলাকায় নিয়ে গিয়ে হাতিটিকে খাবার খাইয়ে অজ্ঞান করার পর ট্রাক কিংবা ক্রেন দিয়ে হাতিটিকে তুলে নিয়ে যেতে চাইছেন তারা।
তবে হাতিটির অবস্থা পর্যালোচনার পর উদ্ধারের পরিকল্পনা ঠিক করা হবে, বলছেন, মোঃ. সাহাবউদ্দিন।

এরপর হাতিটি ভারতে নেয়া হবে নাকি বাংলাদেশে রাখা হবে তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মি. চৌধুরী জানান, ভারতীয় দলের সাথে কাজ করতে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী ও অপরাধ দমন ইউনিটের ১৭ সদস্যের একটি দল ট্রাঙ্কুলাইজিং গান, ওষুধ, ট্রলারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে সেখানে রয়েছে।
বাংলাদেশের বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী সাঁতরে হাতিটি এসে গাইবান্ধার একটি চরে ওঠে। এরপর যমুনার তীরবর্তী এক চর থেকে আরেক চরে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে হাতিটি।
এরপর জামালপুরের চাঞ্চল্য ঘুরে সে পৌঁছে যায় বগুড়ায় চরে। পরে আবারও জামালপুরের গিয়ে সর্বশেষ হাতিটি সরিষাবাড়ি এলাকায় রয়েছে বলে জানা যায়।
বিশাল দেহের প্রাণীটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন চর এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী ও অপরাধ দমন ইউনিটের সাইদ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “হাতিটি দীর্ঘ এক মাসে কখনো খাবার পেয়েছে, কখনো পায়নি। পরিমাণ মত খাবার না পাওয়ায় কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে হাতিটি”।
শুরুতে হাতিটিকে চেতনা-নাশক প্রয়োগ করে সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু পাঁচ টনেরও বেশি ওজনের হাতিটিকে অজ্ঞান করলে সেখান থেকে কিভাবে সরিয়ে নেয়া হবে সেটিও এখন চিন্তা করা হচ্ছে।
ভারত থেকে বাংলাদেশে হাতি আসার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও আরও দু’বার এরকম হাতি আসার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এভাবে দীর্ঘদিন ধরে একটি বুনো হাতি আটকে থাকার ঘটনা আগে দেখা যায়নি, বলছেন বন কর্মকর্তারা।








