নিখুঁত দেহ সৌষ্ঠবের বারবি কি শুধুই খেলার পুতুল?

ছবির উৎস, Getty
আমেরিকান পুতুল বারবির একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে প্যারিসের মিউজিয়াম অব ডেকোরেটিভ আর্টস।
এতে সাতশো বারবি পুতুল প্রদর্শন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৯৫৯ সালে প্রথম যখন বারবি প্রস্তুত করা হয়েছিল সেই সময়কার পুতুলও।
একটি পুতুল কিভাবে বিশ্বজুড়ে এত জনপ্রিয় হলো। আর পশ্চিমা সমাজ ব্যবস্থায় এই বারবি পুতুলের প্রভাবটাই বা কেমন?
অনেকেই বলেন আমেরিকানরা নাকি খুবই বস্তুবাদী সমাজ।
আর তার একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বারবি নামে খ্যাত পুতুলটির নাম উল্লেখ করেন অনেকে।
বারবিকে নিছক খেলনা পুতুল বলে মনে করা হলেও অনেকে বলেন নিখুঁত দেহ সৌষ্ঠব, নীল চোখ আর সোনালী চুলের বারবি ডল নিছক খেলনা নয়।
নারীবাদীদের চোখে বারবির মাধ্যমে নারীর যে প্রতীক ফুটে ওঠে তা শিশুর মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এমন নিখুঁত হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে।
এসব বিতর্কের মাঝেই ফ্রান্সের শিল্প সংস্কৃতির মন্দির বলে খ্যাত লুভ যাদুঘরের মিউজিয়াম অব ডেকোরেটিভ আর্টসে বহু মানুষ এসে এই বারবিকেই কিছুটা সময় দিয়ে যাচ্ছেন।
জাদুঘরের পরিচালক লিভিয়ে গ্যাবে বলছেন, এই উদ্যোগের পেছনে পর্যটক আকর্ষণের উদ্দেশ্যই মুখ্য নয়।
তিনি বলছেন, “বিংশ শতাব্দীর সবচাইতে আইকনিক খেলনাটি হলো বারবি। শিশুদের খেলনা ছাড়াও এই পুতুলটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আমেরিকার আধুনিক জীবন ব্যবস্থার প্রতীকও বটে”
মিউজিয়ামের কিউরেটর অরো বেল লুডে বলছেন, যারা বারবিকে নেতিবাচক চোখে দেখেন তাদের জন্য তথ্য হচ্ছে, এটা স্বাধীন ও দূরদর্শী মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব করে।
তার মতে বারবি কখনোই বেকার নয়। সে সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলায়।

ছবির উৎস, Reuters
বারবি নেয়ে বিতর্কের অন্যতম কারণ হলো সে সমাজে নারীর আসল রূপ ফুটিয়ে তোলে না।
সে এমন নারী যে এক বিন্দুও মোটা হবে না। দেহে তার থাকবে না কোন খুত। তার পোশাক হবে দারুণ স্টাইলিশ।
সে সবসময় শ্বেতাঙ্গই ছিল এতদিন।
সমালোচনার মুখে ইদানীং তাই নতুন আঙ্গিকে কৃষ্ণাঙ্গ বারবি বা মাথায় হিজাব পরা বারবি পুতুল ছেড়েছে এর কোম্পানি।
সেনিয়ে বারবি বিতর্ক ইদানীং আরো একবার উঠে এসেছে।
অরো বেল লুডে বলছেন, “আমরা এটাও বলতে পারি যে বারবিকে নারীবাদের প্রতীক হিসেবে দেখা যেতে পারে। তার আবিষ্কর্তাও ছিলেন একজন নারীবাদী। তিনি সত্যিকার অর্থেই নারীর ক্ষমতায়ণ চাইতেন। আজ অবশ্য বারবি অনেক কিছুতে পরিণত হয়েছে। সে অনেক সমালোচনারও লক্ষ্য হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি বারবির সত্যিকারের চরিত্র বুঝতে হলে সেই সময়ে ফিরে যেতে হবে যখন তাকে তৈরি করা হয়েছিল”
প্রদর্শনী দেখতে খোদ আমেরিকা থেকেই অনেক মহিলা এসেছেন, এদের মধ্যে রয়েছে শিকাগো থেকে আসা মা মেয়ে জুলিয়ান এবং স্টেপল।
তারা বলছিলেন, এরা কখনো এটা ভেবে বড় হননি যে তারা দেখতে বারবির মতো হবেন।
তাদের ভাষায় এটা স্রেফ একটি খেলনা এবং এটা যে নিখুঁত হবে সেটা সবাই যানে।
সব বিতর্কের মাঝেই জন্মের পর ৫০ বছরেরও বেশী সময় পার করে ফেলেছে এই পুতুল।
বারবি এখন সেলেব্রিটি রীতিমতো যুগের বাসিন্দা।








