থাইল্যান্ডে পাচারের সময় বাংলাদেশের উপকূল থেকে ১২ জন উদ্ধার

ঝুঁকি নিয়ে কাজের খোঁজে অবৈধভাবে সমুদ্রযাত্রার ঘটনা প্রায়ই শোনা যায় বাংলাদেশে (ফাইল চিত্র)

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, ঝুঁকি নিয়ে কাজের খোঁজে অবৈধভাবে সমুদ্রযাত্রার ঘটনা প্রায়ই শোনা যায় বাংলাদেশে (ফাইল চিত্র)

ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে থাইল্যান্ডে পাচারের সময় আজ বাংলাদেশের উপকূল থেকে ১২ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মাত্র গতকালই থাইল্যান্ডের এক গণকবরে এরকম পাচার হওয়া মানুষদের দেহ খুঁজে পাওয়ার পর আজ বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে এই ১২ জনকে পাচারের চেষ্টা হচ্ছিল।

থাইল্যান্ডে গণকবরে খুঁজে পাওয়া দেহাবশেষ বাংলাদেশী অথবা মায়ানমারের অধিবাসীদের বলে ধারণা করছেন থাই ফরেনসিক দলের সদস্যরা।

ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে বাংলাদেশ থেকে মানুষ পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না কেন? কেন থামছে না ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা?

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর কাজের আশায় সমুদ্রপথে মালায়শিয়া বা থাইল্যান্ডে যায় একটি বড় অংশের মানুষ, যাদের বেশির ভাগই নানাভাবে প্রতারিত হয়, এবং অমানবিক জীবনযাপনে বাধ্য হয়।

চট্টগ্রামে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার মজুমদার বলছেন, উদ্ধারকৃতদের অল্প খরচে বিদেশ যাবার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।

“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, বাঁশখালীর সুনুয়া এলাকা থেকে আমরা প্রথমে দুইজনকে উদ্ধার করি। পরে তাদের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে আরো দশজনকে উদ্ধার করি আমরা।”

শুক্রবার মালয়েশিয়া থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে প্রত্যন্ত জঙ্গলে ৩২টি কবর খুঁজে পায় থাই কর্তৃপক্ষ।

ছবির উৎস, Getty

ছবির ক্যাপশান, শুক্রবার মালয়েশিয়া থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে প্রত্যন্ত জঙ্গলে ৩২টি কবর খুঁজে পায় থাই কর্তৃপক্ষ।

মি. মজুমদার জানিয়েছেন, দালালদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেলেও এখনো তারা কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি।

শুক্রবার মালয়েশিয়া থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে প্রত্যন্ত একটি জঙ্গলের ভেতরে ৩২টি কবর খুঁজে পায় থাই কর্তৃপক্ষ।

কবর খুঁড়ে পাওয়া দেহাবশেষ বিশ্লেষণ করে থাই ফরেনসিক দলের সদস্যরা ধারণা করছেন সেগুলো বাংলাদেশী অথবা মায়ানমারের অধিবাসীদের মৃতদেহ।

তবে সেগুলো কাদের মৃতদেহ এবং কীভাবে তারা মারা গেছে তা জানতে থাই কর্তৃপক্ষ দেহাবশেষ পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। থাই পুলিশের অনুমান, তাদের অনেকেই হয়ত ক্ষুধা আর রোগে ভুগে মারা গেছেন।

থাই পুলিশ জানিয়েছে শনিবার ওই সীমান্ত এলাকা থেকে আরো ২৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ছবির উৎস, Getty

ছবির ক্যাপশান, থাই পুলিশ জানিয়েছে শনিবার ওই সীমান্ত এলাকা থেকে আরো ২৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

থাই পুলিশ জানিয়েছে শনিবার থাই মালয়েশিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে তারা আরো ২৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। ওই এলাকায় মানবপাচারকারীরা সক্রিয় এবং সেখানে পাচারকারীদের ব্যবহৃত একটি পরিত্যক্ত শিবির পাওয়া গেছে।

এ ধরণের সংবাদ গণমাধ্যমে নিয়মিত বিরতিতে প্রকাশিত হলেও, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে কাজের খোঁজে কিংবা উন্নত জীবনের আশায় বিদেশ যাবার প্রবণতা রয়েছে।

এদের একটি অংশ নানা গন্তব্য ঘুরে, সম্বলহীন হয়ে দেশে ফেরে।

এরকম একজন টেকনাফের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসহাক বেকারত্ব ঘোচাতেই ঝুঁকি আছে জেনেও মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে সম্বলহীন ফিরে এসেছিলেন বাংলাদেশে।

“আসলে বেকারত্বের জন্যই বিদেশ যাওয়া। আমাদের এখানে কর্ম কম, আবার কর্ম থাকলেও আয় কম। আর দালাল বললো, ওখানে ভালো ইনকাম, তাই তার কথা বিশ্বাস করে রওয়ানা দেই।”

“ট্রলারে করে রওয়ানা হই, কিন্তু ঢুকে যাই মায়ানমার। তারপর সেখানকার নেভি অনেক মারধর করে। এরপর থাইল্যান্ড যাই, সেখান থেকে শ্রীলংকা। এক পর্যায়ে সাগরে না খেয়ে চব্বিশ দিন কাটাই। পরে, শ্রীলংকার নেভি উদ্ধার করে দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠায়।”

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, গত এক বছরে প্রায় বারোশ’ পাচারকৃত বাংলাদেশীকে থাই সরকার তাদের হাতে তুলে দেওয়ার পর তারা সাড়ে আটশ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে।

পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদেশযাত্রা বন্ধ করা যাবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।