'ইসলাম বিরোধী অপরাধে' অভিজিতকে হত্যা: আনসার বাংলা সেভেন

আনসার বাংলা সেভেন নামের এক টুইটার একাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছে, ব্লগার অভিজিৎ রায়কে তাঁর ‘ইসলাম বিরোধী অপরাধের’ জন্য হত্যা করা হয়েছে।
আনসার বাংলা সেভেনের একাউন্ট থেকে পর পর বেশ কয়েকটি টুইট করা হয় অভিজিৎ রায় নিহত হওয়ার কয়েক ঘন্টা পর।
একটি টুইটে বলা হয়, ‘ইসলাম বিরোধী ব্লগার মার্কিন-বাঙ্গালি নাগরিক অভিজিৎ রায়কে রাজধানী ঢাকায় হত্যা করা হয়েছে তার ইসলাম বিরোধী অপরাধের জন্য।’
অপর একটি টুইটে বলা হয়, এই হত্যাকান্ড খোরাসান এবং শামে সম্প্রতি শহীদ আমাদের দুই ভাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ ( দ্য টার্গেট ওয়াজ এন আমেরিকান সিটিজেন। টু-ইন-ওয়ান। আমেরিকা রিসেন্টলি মার্টার্ড টু অফ আওয়ার ব্রাদার্স ইন খোরাসান এন্ড শাম। রিভেঞ্জ। পানিশমেন্ট)।
উল্লেখ্য বাংলাদেশে আনসারউল্লাহ বাংলা টিম নামে একটি জঙ্গী ইসলামী সংগঠনের তৎপরতা রয়েছে। সরকার এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ করেছে। তবে এই টুইটার একাউন্ট এই জঙ্গী সংগঠনটির কিনা তা জানা যায়নি।
তবে ঢাকার পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঘটনার পেছনে ‘আনসার বাংলা সেভেন’ নামে কোন জঙ্গী ইসলামী গোষ্ঠীর যোগসাজশ আছে কিনা সেটা তারা তদন্ত করে দেখছেন।
ঢাকার রমনা অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার শিবলি নোমান জানান, অভিজিৎ রায়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
অভিজিৎ রায়কে গত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার টিএসসির কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁর স্ত্রীও একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন।
পুলিশ ফারাবী শাফিউর রহমান নামে অপর এক ব্যক্তিকেও এই ঘটনায় খুঁজছে। ফারাবী শাফিউর রহমানের ফেসবুক একাউন্ট থেকে অভিজিৎ রায়কে হত্যার হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, এর আগে ২০১৩ সালে ঢাকায় ব্লগার রাজীব হায়দারকে হত্যার ঘটনায় ফারাবী শাফিউর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্লগার, ছাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা এক বিক্ষোভে যোগ দেন।
সোহরোয়ার্দী উদ্যানের গেটের কাছে যেখানে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়, সেই জায়গাটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে।








