ভেঙ্গে পড়েছে সিরিয়ায় যাওয়া ব্রিটিশ কিশোরীদের পরিবার

syria london girls
ছবির ক্যাপশান, গত মঙ্গলবার ঐ তিন কিশোরী লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলগামী বিমানে ওঠে

পূর্ব লন্ডনের তিনজন কিশোরী ইসলামিক স্টেটের সাথে যোগ দিতে সিরিয়া চলে গেছে, এ খবর বেরুনোর পর তাদের পরিবারগুলো ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা তাদের ফিরে আসার জন্য আকুল আহবান জানিয়েছে।

ঐ তিন কিশোরীর পরিবার জানিয়েছে, তারা সিরিয়ায় যাবার পরিকল্পনা করছে, এমন কোন ইঙ্গিত পরিবারগুলো কখনো দেখেনি।

মঙ্গলবার সর্বশেষ তাদের জনসমক্ষে দেখা গেছে।

শামীমা বেগম, আমিরা আবাস এবং খাদিজা সুলতানা নামে নিখোঁজ ঐ তিন কিশোরীর পরিবার উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

তারা, ইসলামিক স্টেটের সাথে যোগ দিতে সিরিয়ায় গেছে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

ছোট বোনের পাজামা আঁকড়ে, ধরা গলায় শামীমা’র বড় বোন রেনু বেগম বলছিলেন, যাবার সময় তেমন কিছুই সঙ্গে করে নিয়ে যায়নি তার বোন।

বোনকে এখনো ‘ছোট্ট বাচ্চা’ বলে তিনি আকুতি জানাচ্ছিলেন, যেখানেই থাকুক, শামীমা যেন শীঘ্র বাড়ি ফিরে আসে।

রেনু বেগম বলছেন, যখনই নিরাপদ বোধ কর, সাহায্যের জন্য যোগাযোগ কর।

এখানে আমরা সবাই তোমাকে ভালবাসি।

তোমাকে কেউ অন্য কিছু বোঝালে, তারা ভুল বোঝাচ্ছে।

কারণ অন্য যে কারো চেয়ে পরিবারের মানুষেরাই তোমাকে বেশি ভালবাসে।

রেনু প্রার্থনা করছিলেন, তার বোন যেন কোন বড় ভুল না করে ফেলে।

অন্য পরিবারগুলোর একই রকমভাবে ভেঙ্গে পড়েছে।

আমিরার বাবা বলছেন, তার বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।

‘সিরিয়াতে যেও না’ বলে আহ্বান জানাচ্ছিলেন মি. আবাস হোসেন।

ঐ তিন কিশোরীই পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রীন একাডেমী স্কুলের ছাত্রী।

এই স্কুল থেকে ডিসেম্বরে তাদের বন্ধু একটি মেয়ে সিরিয়া চলে গেছে পুলিশ জানিয়েছে।

সেসময় এই তিনজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল।

তবে, এই ঘটনা পূর্ব লন্ডনের বাঙালী মুসলমান কমিউনিটির মধ্যে ব্যপক উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেনের একজন উপদেষ্টা আব্দুল বারি।

ব্রিটেন থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০ ছেলেমেয়ে জিহাদে অংশ নিতে মধ্যপ্রাচ্যে গেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।