ডেনমার্কে পুলিশের গুলিতে 'বন্দুকধারী' নিহত

ছবির উৎস, Reuters
ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হামলায় দু’জনের মৃত্যুর পর, জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে।
দুটো পৃথক হামলার প্রথমটি হয় শনিবার একটি ক্যাফেতে যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক সমাবেশ হচ্ছিল।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন একজন চিত্রশিল্পী যিনি নবী মোহাম্মদের কার্টুন একে বিতর্কিত হয়েছিলেন।
দ্বিতীয় হামলাটি হয় আজ রোববার ভোরে কোপেনহেগেনের একটি সিনাগগের কাছে।
ঐ হামলায় একজন ইহুদি মারা গেছেন।
কোপেনহেগেনের অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা নোরেব্রোর একটি বাড়ির ওপর পুলিশ নজর রেখেছিল পুলিশ।
তাদের লক্ষ্য ছিল কখন এই বাড়ির বাসিন্দা ঘরে ফিরে আসে।
রোববার ভোরে সেই ব্যক্তি ফিরে আসে এবং অফিসারদের দেখার সাথে সাথে সে অস্ত্র বের করে গুলি করতে শুরু করে।
পুলিশ পাল্টা গুলি করে তাকে হত্যা করে।

ছবির উৎস, AFP
এই নোরেব্রো এলাকার তিন মাইল দূরে বন্দুকধারীর দ্বিতীয় আক্রমণের ঘটনাটি ঘটে।
রোববার সকালেই সেখানে গুলিতে নিহত হয় সিনাগগে ধর্মীয় সমাবেশে আসা একজন ইহুদি তরুণ এবং আহত হয় দু জন পুলিশ কর্মকর্তা।
এর আগে শনিবার বিকেলে একটি ক্যাফেতে মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে একটি আলোচনা চলার সময় গুলিবর্ষণে একজন নিহত এবং তিন জন আহত হয়।
কোপেনহেগেন পুলিশের প্রধান ইন্সপেক্টর টোরবেন মলগার্ড জেনসেন বলছেন, দুটি ঘটনাই একই লোকের কাজ বলে তারা মনে করছেন। কোপেনহেগেন শহরটিকে এমনিতে মনে করা হয় শান্তি ও নাগরিক সভ্যতার এক আদর্শ শহর।
কিন্তু এই শহরে এখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ছবির উৎস, AP
পুলিশ বলছে, শহরে কারফিউ জারি করা হয় নি, কিন্তু তারা শহরের লোকদের বলেছে যেন তারা বাড়ির বাইরে বের না হয়।
বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, এবং লোকজনকে তা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হেল থর্নিং স্মিট প্রথম ঘটনাটির পরই একে এক সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনা বলে বর্ণনা করে বলেন, ডেনমার্ক-এর সামনে এখন কঠিন সময় আসছে।
ডেনিশ টিভিটু নামে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ম্যাগনাস বিয়ের্গ বলছেন, প্রথম আক্রমণের পরও জনগণের মধ্যে যে শান্ত ভাব ছিল তা দ্বিতীয় ঘটনার পর ক্ষোভে পরিণত হয়েছে।
ডেনমার্কে মুসলিমদের একটি সংগঠন ডেনিশ মুসলিম কাউন্সিলও এই আক্রমণের নিন্দা করেছে।
প্রায় দশ বছর আগে জিল্যান্ড পোস্টেন পত্রিকা ইসলামের নবী মোহাম্মদের কার্টুন প্রকাশ করার পর থেকই এরকম একটা আক্রমণ যে হতে পারে তার আশংকা ছিলো।








