পাইপে শিশুটির সন্ধান মেলেনি: উদ্ধারকারী দল

শাহজাহানপুরে পাইপ থেকে চার বছরের শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টায় অত্যাধুনিক ক্যামেরা নামানো হলেও শিশুটিকে দেখা যায়নি বলে জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ

ছবির উৎস, focus bangla

ছবির ক্যাপশান, শাহজাহানপুরে পাইপ থেকে চার বছরের শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টায় অত্যাধুনিক ক্যামেরা নামানো হলেও শিশুটিকে দেখা যায়নি বলে জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ

শুক্রবার বিকেলে জিয়াদ নামের যে শিশুটি রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে মাঠসংলগ্ন পানির পাম্পের কয়েক শ’ ফুট গভীর একটি পাইপে পড়ে গিয়েছিল, ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট সারারাত কাজ করেও তার কোন সন্ধান পায়নি।

দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সারারাত ধরে অভিযান চালিয়ে, নানাভাবে চেষ্টার পরেও শিশুটির কোন নিশানা পাওয়া যায়নি।

যদিও উদ্ধার অভিযানের শুরুতে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তারা শিশুটির সাড়া পেয়েছেন। তার জন্য জুস, অক্সিজেনও পাঠানো হয়।

তবে শনিবার দুপুরে বাংলাদেশের দমকল বিভাগের মহাপরিচালক আলী আহমেদ খান বিবিসি বাংলাকে জানান, নানাভাবে চেষ্টার পরেও, পাইপের ভিতরে শিশুটির কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেটার ভিতরে দুইদফায় ভিডিও ক্যামেরা পাঠিয়েও পাইপের ভেতরে শিশুটি থাকার কোন আলামত মেলেনি।

প্রায় ছয়শ ফুট গভীরে কিছু কাপড়জাতীয় বস্তু, প্লাস্টিক, একটি স্যান্ডেল দেখা গেছে। নীচে পানি রয়েছে। সেই পানির ভেতরে কিছু রয়েছে কিনা, এখন সেটির অনুসন্ধান চলছে।

মি. খান জানান, কোনভাবে শিশুটি পানিতে পড়ে গেছে কিনা, সেটি দেখার জন্য তারা অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু কোন নিদর্শন খুঁজে না পাওয়ায় এখানে দমকল বিভাগের কাজ সীমিত হয়ে পড়েছে। তাই দুপুর দুইটা নাগাদ তারা অভিযান স্থগিত করার কথা ভাবছেন।

তবে ওয়াসা আর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগগুলো তাদের মতো করে কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।

তবে শিশুটির স্বজনেরা অভিযোগ করছেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই দমকল আর উদ্ধারকারীরা শিশুটি পাইপে পড়েনি বলে দাবি করছেন।

এদিকে শিশুটির বাবা নাসিরউদ্দিনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে ঢাকার পুলিশ।

ঢাকার একজন পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই শিশুটির বাবা নাসিরউদ্দিনকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

রাতভর উদ্ধার অভিযান

শিশুটিকে উদ্ধারে শাহজাহানপুরে সারারাত ধরে অভিযান চালায় উদ্ধারকারীরা।

দমকল বিভাগের সাথে সেখানে ওয়াসা, বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল আর পুলিশের সদস্যরাও সহায়তা করেন।

রাতে উদ্ধার কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুটিকে উদ্ধারে নানা চেষ্টা করা হচ্ছে।

যে গর্তে শিশুটি পড়েছে সেটি অপরিসর হওয়ায় কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, পাইপে রশি বেধে শিশুটিকে খাবার ও পানীয় পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া, অন্ধকারে যাতে ভয় না পায়, সেজন্য দুটি টর্চ লাইটও পাঠানো হয়েছে। আর ওপর থেকে ডাকা হলে এবং জিনিসপত্র পাঠাবার পর শিশুটি কয়েকবারই সাড়া দিয়েছে বলেও জানাচ্ছিলেন কর্মকর্তারা।

ক্যামেরা অভিযান

রাত একটার দিকে পাইপের ভিতর একটি আধুনিক ক্যামেরা পাঠানো হয়।

এটি দিয়ে সেখানে শিশুটির অবস্থান দেখার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

কিন্তু ছয়শ ফিট গভীরে পাঠিয়েও সেখানে শিশুটির কোন অস্তিত্ব দেখা যায়নি।

পরে আরেকটি বেসরকারি সংস্থাও ক্যামেরা পাঠিয়ে শিশুটির কোন সন্ধান পায়নি।

তবে, সেখানে নানা ধরনের পরিত্যক্ত জিনিস পড়ে থাকতে দেখা গেলেও কোনও শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে বিবিসিকে জানান, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আলি আহমেদ খান।

তবে শিশুটি যদি নীচের পানিতে তলিয়ে গিয়ে থাকে, এই আশংকায় সেখানে তার সন্ধানের চেষ্টা করছিলেন উদ্ধারকারীরা।

শিশুটিকে উদ্ধারের অভিযান নিয়ে গণ মাধ্যমে নানা বিতর্ক উঠলেও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঘটনা স্থল পরিদর্শনে গিয়ে তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, পরিত্যক্ত যেসব জিনিসপত্র ক্যামেরাতে দেখা গেছে, সেগুলো সরানোর ব্যবস্থা নিতে এবং এরপর শিশুটির সন্ধান চালাতে।

উদ্ধার তৎপরতার পরবর্তী ধাপে ক্রেন ব্যবহার করে পরিত্যক্ত জিনিসপত্র সরানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক।

তিনি বলছিলেন, বাংলাদেশে এমন ঘটনা বিরল, তবে সব ধরনের চেষ্টা তারা করছেন।

বিবিসিকে তিনি বলেন, শিশুটি যদি মারা গিয়ে থাকে, অন্ততপক্ষে তার মৃতদেহটিও যেন তারা উদ্ধার করতে পারেন, সেই চেষ্টা করছেন তারা।

তাই শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে উদ্ধার তৎপরতা বন্ধ করা হচ্ছেনা বলেই জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আলি আহমেদ খান।