ইসলামিক স্টেট ঠেকাতে সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা ওয়াশিংটনের

মধ্যপ্রাচ্যের পথে জন কেরি

ছবির উৎস,

ছবির ক্যাপশান, মধ্যপ্রাচ্যের পথে জন কেরি

আমেরিকান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বেশ কিছু সুন্নি আরব নেতার সঙ্গে বৈঠকের জন্য জেদ্দায় গেছেন।

ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট ওবামার কৌশলের প্রতি সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে মি: কেরি এই বৈঠক করছেন।

মিঃ ওবামা বলেছেন, আইএসের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর জোটের নেতৃত্ব দিতে চায় আমেরিকা।

ইরাক এবং সিরিয়ার একটা বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ এখন আইএস-এর হাতে।

এই প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট ওবামা সিরিয়ায় আইএস লক্ষ্যবস্তুর ওপর আমেরিকান বিমান হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছেন।

অতীতে মধ্যপ্রাচ্যের সুন্নি সরকারগুলো সুন্নি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে অনীহা দেখিয়েছে।

কারণ তাদের আশঙ্কা, এদের দমন করা হলে তাদের শিয়া প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সুবিধে হবে।

কিন্তু এখন এই সরকারগুলো স্বীকার করছে, ঐ অঞ্চলে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট - আইসিস যে দ্রুততার সাথে শক্তি বৃদ্ধি করছে, তাতে তারা শঙ্কিত।

এবং এই কারণে আজ জেদ্দায় এই বিষয়টি নিয়ে তারা কথা বলবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সাথে।

তিনি গতকালই সেখানে গিয়ে পৌঁছেছেন।

ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের অগ্রযাত্রা

ছবির উৎস, BBC World Service

ছবির ক্যাপশান, ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের অগ্রযাত্রা

আজ আরো পরের দিকে তিনি সৌদি আরবের সরকার, মিশর, জর্ডান, লেবানন এবং নেটো সদস্যদেশ তুরস্ককে নিয়ে বৈঠক করবেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, জেদ্দায় অন্যান্য আলোচনার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইসিসের বিরুদ্ধে যে বিমান হামলার ঘোষণা করেছে সে বিষয়টিও থাকবে।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গতরাতেই এক টেলিভিশন ভাষণে তার কৌশলের কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলছেন, ঐ অঞ্চলে, তার ভাষায়, সন্ত্রাসবাদী হুমকি ঠেকাতে একটি বড় জোটের নেতৃত্বে থাকবে আমেরিকা।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার। সর্বাত্মক ও নিরবচ্ছিন্ন এক পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা ইসলামিক স্টেটের শক্তিতে ভাঙন ধরাবো এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ধ্বংস করবো।”

ইসলামিক স্টেট ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা ইতিমধ্যেই দখল করেছে।

সিরিয়ার শহর রাকায় তারা একধরনের সরকারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে।

সেখানকার প্রশাসন কার্যক্রম চালানোসহ নতুন কর্মকর্তাও নিয়োগ দিচ্ছে জঙ্গি সংগঠনটি।

দুজন মার্কিন সাংবাদিকসহ বিরোধী পক্ষের মানুষজনকে শিরশ্ছেদ করে এই সংগঠনটি বিশ্বব্যাপী নিন্দা কুড়িয়েছে।

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদদাতা জিম মিউর উত্তর ইরাক থেকে জানাচ্ছেন, মার্কিন বিমান হামলায় উত্তর ইরাকে যারা লাভবান হবে, তারা হলো কুর্দিরা।

গতমাসে আইসিসের হাতে তারা বিপুল পরিমাণ ভূখণ্ড হারিয়েছিল। এখন তারা সেটি ফেরত নেয়ার চেষ্টা করবে।

জিম মিউর বলছেন, তবে সিরিয়ায় পরিস্থিতি বেশ জটিল। সিরিয়ার সরকার-বিরোধী সুন্নি মুসলিমদের জোট ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়তে রাজি।

তবে তারা শিয়াপন্থী আসাদ সরকারের বিরুদ্ধেও লড়াই চালাতে চায়।

আইএস-এর পতন হলে লাভবান হবে আসাদ সরকার।

আর তার বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠন, যারা নিজেরাই সিরিয়ায় ইসলামিক শাসন কায়েম করতে চায়, এবং পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্রের তারা ঘোর বিরোধী।