প্রতারিত ভোক্তাদের অভিযোগ নিয়ে গণ-শুনানি

- Author, ফারহানা পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে পণ্য কিনে ভোক্তাদের প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে আজ এক গণ-শুনানি হয়েছে।
মাস-খানেক আগে সরকারের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আওতায় একটি অভিযোগ কেন্দ্র গঠনের পর প্রতি সোমবার এই গণ-শুনানি হচ্ছে।
ভোক্তারা সেখানে প্রতারিত হওয়ার প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসছেন।
কর্মকর্তারা বলছেন, দোষী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আপাতত জরিমানা করা হচ্ছে। এবং তার কিছুটা অর্থ দেওয়া হচ্ছে প্রতারিত ভোক্তাকেও।
ভোক্তাদের কথা
কারওয়ান বাজারে ব্যাগ ভর্তি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনেছেন আব্দুর রব ভুঁইয়া।
তবে প্রত্যেকটা পণ্যের দাম, মান বা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ সঠিক দেওয়া আছে কিনা সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না। মনে শঙ্কা নিয়ে কেনা এসব পণ্য নিয়ে ফিরছিলেন তিনি।
তিনি বলছিলেন, “বাসায় গিয়ে হয়ত দেখবো দুধের কৌটার গায়ে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ নেই। ব্যস্ততার কারণে সব সময় দেখাও হয় না।”
দেশের বিভিন্ন শহর থেকে এই বাজারে আসে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। আর এখান থেকে চলে যায় ভোক্তাদের কাছে।
খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভেজালের দৌরাত্ম্যের কারণে জিনিস কিনে স্বস্তি পাচ্ছেন কোনো ভোক্তাই।
এই বাজারের কাছেই রয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নামে সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান।
এক মাসে আগে এখানে খোলা হয় একটি ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র ।

ছবির উৎস, Focus Bangla
প্রতারণার অভিযোগ
ভোক্তারা প্রতারিত হলে তার প্রমাণসহ একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন এই কেন্দ্রে।
এখানে সামিউল হক নামের এক ভোক্তা হাতে দুটি পানির বোতল নিয়ে এসেছেন, সাথে দোকানের রসিদ।
তার অভিযোগ, রাজধানীর একটি হাসপাতালের ক্যান্টিন থেকে তিনি পানি কিনেছেন যেটি নিয়মিত বাজার দরের থেকে বেশি।
একই ভাবে আজকের শুনানিতে এসেছিলেন সালেউর রহমান। তার অভিযোগ এ সপ্তাহেই তিনি কিছু জিনিস কিনেছেন, যার বেশিরভাগের গায়েই মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ বা সঠিক দাম লেখা ছিল না- কিছু খাবারের মধ্যে ছিল ময়লা।
মি. রহমান বলেছেন, “মসুর ডালের মধ্যে রীতিমতো আবর্জনা ছিল, একটা বেবি ক্রিম যেটা খুব সেনসিটিভ তাতে উৎপাদন বা মেয়াদের কোন তারিখ ছিল না।”
শুনানিতে এসেছিলেন বিশ থেকে পঁচিশ জন।
কেউ এসেছিলেন ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জানতে আবার কেউ এসেছিলেন প্রমাণসহ অভিযোগ করতে।
কিন্তু তাদের এই অভিযোগ কতটা আমলে নেওয়া হচ্ছে?
অভিযোগের পর..
প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক আবুল হোসেন মিঞা বলেছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর কর্মকর্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দোকান পরিদর্শন করেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী নিচ্ছেন ব্যবস্থা।
মি. মিঞা বলেন, “এখন পর্যন্ত জরিমানা করছি। তবে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল বা উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে আমাদের হাতে।”
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, গত একমাসে তাদের কাছে ৭৪টি অভিযোগ জমা হয়েছে যার মধ্যে তারা নিষ্পত্তি করেছে ৩১টির।
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের যে জরিমানা করা হয়েছে সেই অর্থ থেকে ২৫ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে ভুক্তভোগী ও প্রতারিত ভোক্তাদের।
এরকম ক্ষতিপূরণ হিসেবে এপর্যন্ত দেওয়া হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা।








