নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গঠনের পথে বিজেপি

ছবির উৎস, AP
ভারতের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী বিজেপির নেতা নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় গিয়ে দেশের সব মানুষের জন্য কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন।
নির্বাচনে একক ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে বিজেপি। তাঁর দল সরকার গঠন করলে নরেন্দ্র মোদিই হবেন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
নিজ রাজ্য গুজরাটে তিনি দলের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণের রায় তাকে এক বিরাট দায়িত্ব দিয়েছে। একশো কোটি ভারতীয়ের স্বপ্ন পূরণে তাঁর সরকার কঠোর পরিশ্রম করবে।
এখন পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফল থেকে ধারণা করা হচ্ছে বিজেপি তাদের এনডিএ জোটের শরিকদের সমর্থন ছাড়াই সরকার গঠন করতে পারবে।
গত তিরিশ বছরে ভারতের কোন নির্বাচনে কোন একক দল এরকম বিপুল ভোটে জয়ী হয়নি।
নির্বাচনে বিজেপির বিপুল বিজয়ের পর ভারতের শেয়ার বাজারে চাঙ্গা ভাব দেখা যাচ্ছে।
বিজেপির পক্ষে জোয়ার

ছবির উৎস, AP
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুয়ায়ী, ৫৪০টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২৬টি আসনে জয় পেয়েছে এবং ২৫৫টি আসনে একাই এগিয়ে আছে।
অর্থাৎ বিজেপি ২৮১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। তবে লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে বিজেপি নেতৃ্ত্বাধীন এনডিএ জোট এগিয়ে রয়েছে ৩৩২টি আসনে।
কংগ্রেস দল হিসাবে ৩টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে আর ৩৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। কংগ্রেস নেতৃ্ত্বাধীন ইউপিএ জোট ৬৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
যদিও চূড়ান্ত ফলাফল পেতে আরো কিছুটা সময় লাগবে, কিন্তু বিজেপির নিরঙ্কুশ বিজয় ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়ে গেছে।
বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি তাঁর টুইটারে লিখেছেন, "ভারত জিতেছে, সামনে সুদিন আসছে"।
গুজরাটের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রীকে ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই ঘোষণা করেছে বিজেপি।
কংগ্রেস নিজেদের পরাজয় মেনে নিয়ে জানিয়েছে, বিরোধী আসনে বসার জন্যে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় ভারতের জন্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মি. মোদি।
গত ত্রিশ বছরের মধ্যে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এত বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আর কোন দল জয় পায়নি বলে বলছেন সংবাদদাতারা।
কংগ্রেসের একজন নেতা রাজীব শুল্কা বলেছেন, আমরা পরাজয় মেনে নিয়েছি। লোকসভায় বিরোধী আসনে বসার জন্যে আমরা প্রস্তুত।

ছবির উৎস, AFP
বুথ ফেরত যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, তার চেয়েও ভালো করছে বিজেপি বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বেলা ২টা পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী ৫৩৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২৭৬টি আসন এবং কংগ্রেস ৪৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
এর আগে কংগ্রেসের এগিয়ে থাকা আসন সংখ্যা কয়েকটা বেশি হলেও, সময়ের সাথে সাথে তা কমেছে।
তৃণমুল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৩৪টি আসনে আর আম আদমি পার্টি এগিয়ে রয়েছে ৪টি আসনে।
মোট ৫৪৩ আসনে প্রায় একমাস ধরে ভোটগ্রহণ হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, দুপুরের মধ্যেই জানা যাবে প্রায় পঞ্চান্ন কোটি মানুষ কোন দলের ওপরে সেদেশের সরকার চালানোর ভার দিচ্ছেন।
প্রায় এক হাজার ভোট গণনা কেন্দ্রে আট হাজারেরও বেশী প্রার্থীর মধ্যে কে কত ভোট পেলেন, তা নির্ধারিত হয়ে যাবে।
ভারতের ৯৮৯টি ভোট গণনা কেন্দ্রে ভারতীয় সময় সকাল আটটা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথমে ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা সরকারি আধা-সরকারি কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে যে ভোট দিয়েছেন সেগুলো গণণা করা হচ্ছে।
তার আধঘন্টার পর থেকে শুরু হয়েছে ভোটযন্ত্রে ধারণ করা মানুষের মতামতের গণনা।








