সৌদিতে কারখানার আগুনে ৯জন বাংলাদেশির মৃত্যু

ছবির উৎস, bbc
- Author, শায়লা রুখসানা
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি কারখানার আগুনে পুড়ে নয়জন বাংলাদেশিসহ মোট এগারো জন মারা গেছে।
বাংলাদেশি একজন ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি আসবাবের কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিগগিরই মৃতদেহগুলো দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় সোমবার রাতে যখন আগুনের ঘটনাটি ঘটে তখন তিতাস ফার্নিচার নামের ওই কারাখানাটির শ্রমিকরা রাতের খাওয়া সেরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শ্রমিক কুমিল্লার মো. দুলাল হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন অগ্নিকান্ডের সময় রুমে তারা পাঁচজন ছিলেন।
“রাতের খাওয়া শেষে আমাদের দুজন বলেন, ফ্যাক্টরির ভেতরে আগুন। যিনি বলেন তিনি জালাল ভাই। তিনি এরপর ব্যাগের ভেতর থেকে তার মোবাইল আনতে ঘরে ঢোকেন। আমি বেরিয়ে আসতে পারলেও তিনি আর বের হতে পারেন নাই। আমি বাইরে এসে দেখি ধোঁয়া আর আগুন।” বলছেন দুলাল হোসেন।
রাজধানী রিয়াদের শিফা সানাইয়া নামের এলাকায় ওই আসবাবপত্রের কারখানার সাথে লাগোয়া একটি লেবার ক্যাম্পে থাকতেন এই শ্রমিকেরা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, নিহতদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশের এবং দুজন ভারতীয়।
“এটা একটা আসবাবপত্রের কারখানা। ১৫ জন কারখানায় কাজ করত এবং ফ্যাক্টরির সাথে লাগোয়া একটা লেবার ক্যাম্পে তারা থাকত।”
আগুনের সূত্রপাত প্রথমে ঘটে কারখানাটিতে, তারপর তা ছড়িয়ে পড়ে সরু গলির ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ঘরে।
দশ ফুট বাই বারো ফুটের একেকটি কক্ষে ৫/৬ জন শ্রমিক একসাথে থাকতেন বলে জানিয়েছেন বেঁচে ফিরে আসা একজন শ্রমিক।
আগুনের প্রচন্ড ধোঁয়ায় নিশ্বাস নিতে না পেরে বেশিরভাগ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে বলে জানান দুলাল হোসেন।
সরু গলির ভেতর ছোট ছোট কামরায় আগুনের প্রচন্ড ধোঁয়ায় নিশ্বাস নিতে না পেরে বেশিরভাগ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে বলে জানান দুলাল হোসেন।
দুর্ঘটনার পর তিনি সহ বেঁচে যাওয়া অন্য শ্রমিকরা নিহতদের শনাক্ত করেন।
দুলাল হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানান অনেকের চেহারা প্রায় পুরোটাই পুড়ে গেছে। তবে তাদের মোটামুটি শনাক্ত করা গেছে বলে তিনি জানান।
লেবার কাউন্সিলর মিঃ রহমান জানান শিগগিরই মৃতদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে এজন্য দুয়েকদিন সময় লাগতে পারে।
সেইসাথে মালিকপক্ষের কাছ থেকে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আদায়েরও ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন লেবার কাউন্সিলর মিজানুর রহমান।
মিঃ রহমান জানান, শ্রমিকদের ইন্সিওরেন্সের টাকা থেকে শিগগিরই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে ।
“তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগের ফোন নম্বর ঠিকানা সবকিছু সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অতি শীঘ্রই তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং সৌদি আরবে তাদের ক্ষতিপূরণ আদায় করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
এছাড়া মৃতদেহ পরিবহনে বাংলাদেশের সরকার আর্থিক সাহায্য দেবে বলে জানিয়েছেন দূতাবাস কর্মকর্তা । তিনি বলেন আগুনের ঘটনা সেখানে বিভিন্ন কারখানা বা ওয়ার্কশপে প্রায়ই ঘটে থাকে। তবে এমন প্রাণহানির ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না ।
এদিকে অগ্নিকান্ডের কারণ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা নাকী অন্য কোনও কারণ রয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস অনুসন্ধান করছে।








