যশোর কিশোর সংশোধনাগার থেকে পালিয়েছে ৮ জন কিশোর

ছবির উৎস, DSS
- Author, ফারহানা পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশের যশোরের একটি কিশোর সংশোধনাগার থেকে পালিয়ে গেছে আটটি কিশোর। দুই দফায় গত এক সপ্তাহ ধরে পালিয়ে যায় তারা।
কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা বলছেন নিরাপত্তা রক্ষায় যারা রয়েছেন-এই ঘটনা তাদের ব্যর্থতার কারনে হয়েছে। এদিকে পুলিশ বলছে, এসব অভিযুক্ত কিশোরদের খুঁজে পেতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশের যে তিনটি কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে তার মধ্য দুটি রয়েছে গাজীপুরে একটি যশোরে।
এই যশোর কেন্দ্রই গত এক সপ্তাহ ধরে ঘটেছে কিশোরদের সাথে পুলিশে সংঘর্ষ, দুই দফায় ৮ জন কিশোরের পালানোর মত ঘটনা।
যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন বলছিলেন গতকাল রাতে তাদেরকে ওষুধ নেওয়ার জন্য বাইরে বের করা হয় এর এক পর্যায়ে নিরাপত্তা রক্ষীদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে তারা পালিয়ে যায় বলে তিনি জানান।
অন্য দুটি কেন্দ্রের মতই যশোরের এই কেন্দ্রটিতেও যাদের বয়স আঠার বছরের নিচে এবং বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত তাদেরকে রাখা হয়।
মি. শাহাবুদ্দিন বলছিলেন পালিয়ে যাওয়া এই ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত ৪ই মে সেখানে কর্মরত পুলিশের সাথে কয়েকজন কিশোরের সংঘর্ষ হয় এবং সেদিন আরো দুইজন কিশোর পালিয়ে যায়। আর তার পরে তাদের ঘর তল্লাসি করে পাওয়া যায় কিছু দেশি অস্ত্র। কেন্দ্রটির এই সহকারী পরিচালক জানাচ্ছিলেন এসব অভিযুক্ত কিশোরের বয়সের কারনেই তাদেরকে অনেকটা হালকা ভাবেই গ্রহণ করা হয়।
“শিশু আইনে তাদেরকে ধরা হয় বলে অনেক নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের অন্য আসামিদের মত দেখে না, এই সুযোগটাই তারা অনেক সময় নেয়”।
তিনি আরো জানান গত দেড় বছরে এভাবে আরো দুইজন পালিয়ে গেছে ঔ একি কেন্দ্র থেকে। পরে তাদেরকে আবারো আটক করা হয়। যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে এসে জানান ভবনের চারপাশে যে উঁচু দেওয়াল রয়েছে সেখানে একটি জিআই পাইপ বসিয়ে এসব কিশোররা দেওয়াল টপকে পালিয়ে যায়।
“আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ ফুট জিআই পাইপ তারা দেওয়ালের সাথে ফিট করেছে। এই পাইপ কেন্দ্রের অফিসে ছিল সেটা স্টোর রুমে নিয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু কিভাবে সে পাইপ এখানে আসলো সেটা একটা বড় প্রশ্ন”।
এদিকে এসব পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্ত কিশোরদের কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোন আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার মি. রহমান। তিনি জানান ১৯৭৪ সালের শিশু আইনে- পালিয়ে যাওয়া কোন অভিযুক্ত শিশুর ব্যাপারে আইনি বিধান উল্লেখ না থাকায়- কেন্দ্র থেকে কোন মামলা করা হয়নি। তবে পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি করে অন্যান্য আসামি পালিয়ে গেলে যে নিয়মে মামলা পরিচালনা করে থাকে সেভাবেই আইন প্রক্রিয়া শুরু করছেন বলে জানান মি. রহমান।
“আমরা কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে আহ্বান করেছিলাম এখানে এসে মামলা করতে। তারা এসে আমাদেরকে বলে গিয়েছে ১৯৭৪ সালের শিশু আইনে এই ধরনের কোন বিধান নেই তাই কোন মামলা হয়নি”।
বাংলাদেশর ৩টি কিশোর সংশোধনাগারের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারীতে টঙ্গিতে কয়েকজন কিশোর তাদের নিজেদের শরীর জখম করে। কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতে কেন তারা এভাবে সহিংস হয়ে উঠছে বা বার বার পালিয়ে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটছে সে ব্যাপারে কথা বলতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কথা বলতে রাজি হননি।








