'জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষ্যত প্রভাব মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী'

ছবির উৎস, bbc
নতুন একটি আন্তর্জাতিক রিপোর্টে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতির নানা তথ্য প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। আইপিসিসি নামে পরিচিত জাতিসংঘ প্যানেলের সবশেষ এই রিপোর্টটিতে হুঁশিয়ার করা হয়েছে, এখনই সাবধান না হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সেই সাথে খাদ্যসঙ্কট এবং রোগে-শোকে মানব সভ্যতা বিপন্ন হবে।
রিপোর্টটিতে অবশ্য বলা হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে ইচ্ছে করলে অনেকটাই খাপ খাওয়ানো সম্ভব।
জাপানে এই বৈঠক থেকে বিজ্ঞানীরা এই যে রিপোর্ট দিয়েছেন - তাকে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'পৃথিবীর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সবচেয়ে ব্যাপকভিত্তিক মূল্যায়ন' হিসেবে। কি হবে এই প্রতিক্রিয়া ?
আইপিসিসি বলছে, বন্যার ঝুঁকি এবং খাদ্য সংকট বাড়বে, ফসলের ফলন এবং পানির প্রাপ্যতারই ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে, হুমকির মুখে পড়বে মানুষের স্বাস্থ্য।
বলা হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রতিক্রিয়া হবে তীব্র, কেউই-কোনকিছুই এর প্রভাবের বাইরে থাকতে পারবে না এবং সেই পরিবর্তনগুলোকে আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়াও যাবে না।
জাতিসংঘের এই প্যানেলের সদস্যরা বলছেন, এই পরিবর্তনের মাত্রা যে ব্যাপক হবে তার সপক্ষে তারা বহু তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন।
মানুষ হয়তো এসব পরিবর্তনের মধ্যে কয়েকটির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, কিন্তু তা হবে সীমিত।
জাপানের ইয়োকোহামায় আইপিসিসির এই বৈঠকে রিপোর্টটির মূল সুর কি হবে তা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে ।
আইপিসিসির চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র পাচাউরি সতর্ক করে দিয়েছেন যে জলবায়ুর পরিবর্তনকে উপক্ষো করা হলে তারা পরিণতি হবে গুরুতর।
তিনি বলেন, "এই রিপোর্টে যা তুলে ধরা হয়েছে তাকে যেন উপেক্ষা করা না হয় । এর পক্ষে একটা বড় কারণ হলো, এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী এবং গভীর। আমি আরো একবার বলতে চাই যে আমরা এই রিপোর্টে মানুষের নিরাপত্তা ওপর যে প্রভাব পড়বে -তার সম্পর্কে খুবই স্পষ্টভাবে বলেছি। আমরা মনে করি এটা বিশ্বাস করার কারণ আছে যে - গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য বিশ্ব যদি কিছু না করে, এবং জলবায়ু পরিবর্তন যদি এভাবে বাড়তেই থাকে তাহলে মানব সমাজ কাঠামোর যে স্থিতিশীলতা সেটাই বিপন্ন হয়ে পড়বে"।
আইপিসিসি'র কো-চেয়ারম্যান ড. ক্রিস্টোফার ফিল্ড হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যেই পৃথিবীতে পড়তে শুরু করেছে।
"এই রিপোর্টের একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি হচ্ছে, 'জলবায়ু পরিবর্তন একটা কাল্পনিক ব্যাপার' এমন ধারণার যুগে আমরা আর বাস করছি না। আমরা এমন পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে এর প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে এবং তা ব্যাপক। আমরা বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চল পর্যন্ত, সমুদ্রতীর থেকে পর্বত পর্যন্ত এর প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের পৃথিবী যে ইতিমধ্যেই বদলে গেছে তা প্রশ্নাতীত"।
কার্বন নির্গমণ কমানোর জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচকদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে এই রিপোর্টটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে মনে করা হয়।
অবশ্য এই রিপোর্টটিকে প্রণেতাদের একজন বলেছেন, রিপোর্টটিতে আসন্ন বিপদের ভয় দেখানোর মানসিকতা কাজ করেছে। কিন্তু সার্বিকভাবে রিপোর্টটির বক্তব্য হলো, কার্বন নির্গমণের মাত্রা দ্রুতগতিতে কমানো গেলে সবচেয়ে গুরুতর যেসব পরিণতির কথা বলা হয়েছে তা এড়ানো সম্ভব হবে।








