বিডিআর বিদ্রোহের পর পাঁচ বছরে কী সংস্কার হয়েছে?

নিহতদের শ্রদ্ধা জানাতে বনানী কবরস্থানে যান স্বজনেরা
ছবির ক্যাপশান, নিহতদের শ্রদ্ধা জানাতে বনানী কবরস্থানে যান স্বজনেরা
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের সদর দফতরে বিদ্রোহ এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হয়েছিলেন, তার আজ পাঁচ বছর পূর্ণ হলো।

ওই ঘটনার বিচারে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড সহ অনেককে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। বিডিআরের নাম বদলে এখন রাখা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি।

বাহিনীটির ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা মনে করছেন,ওই ঘটনার আঘাত কাটিয়ে উঠে গত পাঁচ বছরে বিজিবি তার শক্তি ও মনোবল অনেকটাই পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে।

বাহিনীটির আইনে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ নজরদারি উন্নত করা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, আগেকার অবস্থানে ফিরে যেতে বাহিনীটির আরো সময় লাগবে।

পাঁচ বছর আগে বিদ্রোহ এবং তাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী যে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে সে সময়ই বাহিনীটিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সংস্কার প্রস্তাব তৈরির জন্য সরকার একটি কমিটি গঠন করেছিল। বিভিন্ন তদন্ত কমিটি থেকেও নানান সুপারিশ এসেছিল।

এসব কমিটির সমন্বয়কারি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল ফারুক খান। তিনি বলছিলেন, বিডিআর আইনে অনেক দূর্বলতা ছিল। সেই আইনে পরিবর্তন আনা এবং অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী করার বিষয়ে মূল সুপারিশ এসেছিল।

বিদ্রোহের খানেক পরই বাহিনীটির নাম বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআর পরিবর্তন করে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বা বিজিবি করা হয়েছে। পরিবর্তন আনা হয়েছে পোশাকেও।

বিজিবির বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, “দু’শ আঠারো বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এই বাহিনীতে একটা ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পাঁচ বছর পরে এসে দুর্বলতা অনেক কেটেছে। বাহিনীর আইনে সংস্কার করা হয়েছে। এর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তৎপরতায় দুর্বলতা ছিল। সেই গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে তিন স্তর বিশিষ্ট করে শক্তিশালী করা হয়েছে”।

তিনি আরও বলেছেন, “এই বাহিনীর উপর যে কল্ঙ্ক লেপন হয়েছিল, তা অনেকটা দূর হয়েছে। এখন এর সদস্যরা অতীত ভুলে সঠিকভাবে সামনের দিকে এগুচ্ছে”।

তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বাহিনীটির সদস্যদের মনোবল পুরোপুরি ফেরত আসতে আরও সময় প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলছিলেন, “ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বলছি, পাঁচ বছর আগে যখন ঘটনা ঘটেছিল, তখন কিন্তু বাহিনীটির উপর একটা নাড়া পড়েছিল। এমন অবস্থা থেকে একটা বাহিনীর পুরো কাঠামো যখন পরিবর্তন করতে হয়। তখন তাতে অনেকটা সময় প্রয়োজন হয়। তার মানে এই নয় যে, বাহিনীটি এখন কার্যকর নয়। বাহিনীটি এখনও কার্যকর আছে। কিন্তু মনোবলের জায়গায় কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়”।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারের আজিজ আহমেদ অবশ্য বলেছেন, তারা মনোবলের দিক থেকেও শক্ত অবস্থানে এসেছেন।