পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের পাঁচ বছর

বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা সদস্যদের দাফনের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন সহকর্মীরা। [ফাইল ফটো]

ছবির উৎস, AFP Getty

ছবির ক্যাপশান, বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা সদস্যদের দাফনের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন সহকর্মীরা। [ফাইল ফটো]

বাংলাদেশে ২০০৯ সালের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা তৎকালীন বিডিআরের সদর দপ্তর পিলখানায় যে বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল তার পঞ্চম বার্ষিকী আজ।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় বনানীর সামরিক কবরস্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ সামরিক কর্মকর্তা ও নিহতদের স্বজনেরা।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি দিনটি স্মরণে কোরান তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নিয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিজিবি।

২৫ ও ২৬শে ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহের ঐ ঘটনায় ৫৭জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।

রক্তাক্ত ঐ বিদ্রোহের পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিডিআরের নাম বদলে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাহিনীর পোশাকও বদল করা হয়।

বিদ্রোহের পর বিডিআরের নিজস্ব আইন ও ফৌজদারি আইন - এই দুই আইনে বিচার শুরু হয়।

বিদ্রোহের মামলার বিচার শেষে রায় দেয়া হয়ে গেছে এবং ৫৭টি মামলায় ৬০০০-এরও বেশি আসামির মধ্যে ৫৯২৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।

এবং হত্যাকাণ্ডের মামলার রায়ে গত বছর ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই মামলায় আরও ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

যদিও মামলার রায় উচ্চ আদালতের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আজ স্বজনদের অনেকেই বলেছেন যে তারা রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চান। আজকের দিনে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হওয়াটাকে অনেক স্বজনরা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেননা।

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও আজ এক সংবাদ সম্মেলনে একই বক্তব্য দিয়েছেন।

মিঃ আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার হয়নি, নতুনভাবে এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবী করেছেন তিনি।

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা নিয়ে এখনও কিছু বিতর্ক রয়েছে। মামলার রায় হয়ে গেলেও ঘটনাটি ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল বলে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন পুনরায় পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের প্রয়োজন আছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিডিআর বিদ্রোহের অনেক কারণ থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সংসদে বলেছিলেন ঘটনাটি ষড়যন্ত্রের একটি অংশ।

ওই মামলার পুনরায় পর্যবেক্ষণ বা তদন্ত সরকার করবে কিনা এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসিকে বলেছেন, উচ্চ আদালতে শুনানির পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। তবে মিঃ হক মনে করেন, বিডিআর বিদ্রোহের মতো ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে অনুযায়ী এখন কাজ করে যাওয়া প্রয়োজন।