নিরাপত্তার আশ্বাসে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শুরু

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন প্রধানমন্দ্রী শেখ হাসিনা
ছবির ক্যাপশান, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন প্রধানমন্দ্রী শেখ হাসিনা
    • Author, শায়লা রুখসানা
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে এই প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে।

দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা পাবনার রূপপুরে বুধবার এই কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কর্মকর্তারা বলছেন, এটি চালু হলে ২০২১ সাল নাগাদ বিদ্যুতের মোট চাহিদার ১০% পূরণ করা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই কেন্দ্রের পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয় ৫০ বছর আগে। পরবর্তীকালে এর কাজ আর না এগুলেও বর্তমান সরকার দায়িত্বে এসে এই প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেয় এবং ২০১১ সালে রাশিয়ার সাথে চুক্তি করে।

পারমাণবিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব ধরনের সহযোগিতা এবং প্রকল্পের মোট খরচের ৯০% দেবে রুশ সরকার।

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে অনুসরন করা হয়েছে।

সরকার বলছে, ২০২১ সালের মধ্যে এ প্রকল্প চালু হলে জাতীয় গ্রিডে ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে। কিন্তু এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে কি ধরনের ঝূঁকি থাকে?

বাংলাদেশের আনবিক শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান সি এস করিম বলেন, “কোনও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট করতে গেলে সাধারণভাবে ঘূর্ণিঝড় কেমন হতে পারে, বন্যা কেমন হতে পারে, ‌কত বড় ভূমিকম্প হতে পারেতা বিবেচনা করা হয়।

''এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ যদি হয় তখন পাওয়ার প্ল্যান্ট যেন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে সে ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়। এ ধরনের দুর্ঘটনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরিবেশ ও প্রতিবেশ এবং মানুষের যাতে কোনও ক্ষতি না হয় সে ধরনের ব্যবস্থা নিয়েই এসব প্রকল্প চালু করা হয়।''

তবে এধরনের ঝূঁকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েই প্রকল্প পরিচালনার কাজ চলছে বলে জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।

এক্ষেত্রে জাপানে সাম্প্রতিক সুনামির পর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অভিজ্ঞতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে রাশিয়ার কাছ থেকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি কেনা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা দিচ্ছে রাশিয়ার আনবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটম। তারাই প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করবে এবং ইউরেনিয়াম জ্বালানি ব্যবহারের পর বর্জ্য ফেরত নিয়ে যাবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।

বাংলাদেশের সরকার বলছে, বিশ্বের ৩০টির ওপরে দেশে এ ধরনের পরমাণুভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।