বছর পেরোলেও রামুর বৌদ্ধরা এখনো শঙ্কিত

রামুতে নর্বনির্মিত বিহার উদ্ধোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ছবির ক্যাপশান, রামুতে নর্বনির্মিত বিহার উদ্ধোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    • Author, শায়লা রুখসানা
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে গত বছরের ২৯ শে সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু উখিয়া এবং কক্সবাজারের আরো কিছু এলাকায় সাম্প্রদায়িক হামলার যে ঘটনা ঘটেছিল তার ঠিক একবছর পেরিয়ে এসেও স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন বলছেন, ঘটনার জন্য দায়ী মূল দোষীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে এবং প্রকাশ্যেই তারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সৃষ্টির নানান উদ্যোগ সত্ত্বেও বিষয়টি তাদের মধ্যে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা বিষয়ে একধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে ঐ ঘটনার স্মরণে রোববার কালো পতাকা উত্তোলন, শান্তি মিছিলসহ সারাদিনিই বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয় স্থানীয় লোকজনের পক্ষ থেকে।

স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একজন নেতা এবং রামুর কেন্দ্রীয় সীমা বৌদ্ধবিহারের পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তরুণ বড়ুয়া বলছেন, ''ঐ ঘটনায় যারা নেতৃত্ব দান করেছিল তারা এখনও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। এদেরকে এখনও পর্যন্ত আইনের আওতায় আনা হয়নি।''

''আমরা বা সরকার কেউই তাদের শাস্তি এখনো দিতে পারিনি। আমরা শঙ্কিত। যদি এরকম ঘটনার বিচার না হয় ভবিষ্যেতে আবারো এ ধরনের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে বলে আমরা মনে করি।''

আক্রান্ত মানুষদের মনের শঙ্কা দূর করা সম্ভব হয়নি
ছবির ক্যাপশান, আক্রান্ত মানুষদের মনের শঙ্কা দূর করা সম্ভব হয়নি

শুধু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনই নয় স্থানীয় সাধারণ মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও এমনটাই মনে করছেন।

রামুর একজন বাসিন্দা মোজাফ্ফর আহমাদ বলছিলেন, তার জীবনে এই ধরনের ঘটনা ঐ অঞ্চলে তিনি আর কখনও দেখেননি। ধীরে ধীরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ফিরে এলেও, মূল অপরাধীরা শাস্তি পেলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাঝে চূড়ান্ত স্বস্তি ফিরে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

''মানুষ এখন আগের সম্প্রীতির অবস্থায় ফিরে আসছে। তাদের ক্ষোভটা প্রশমিত হয়ে গেলে, সঠিক অপরাধীরা বিচার পেলে আর নিরপরাধ মানুষগুলো নিষ্কৃতি পেলে, উভয়পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্য আরো বেড়ে যাবে।''

সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরান শরীফ অবমাননার অভিযোগে গত বছর সাম্প্রদায়িক হামলার এই ঘটনা ঘটে। পরে তা উখিয়া ও টেকনাফে ছড়িয়ে পড়ে।

সে সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মন্দির এবং তাদের বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

ঐ ঘটনায় মোট ১৯টি মামলা হয় যার মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতটাতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে যে অভিযোগ উঠেছে সে প্রসঙ্গে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আখতার বলেন, নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের অভাবেই তারা এগুতে পারছেন না। এখনো অনেকগুলো মামলার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

পুলিশ বলছে, এ পর্যন্ত মোট ৫২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে তাদের অনেকেই জামিনে বেরিয়ে আসছেন। আরও পাঁচটি মামলার তদন্তের কাজ শেষের দিকে।

আক্রান্ত বৌদ্ধবিহার
ছবির ক্যাপশান, আক্রান্ত বৌদ্ধবিহার

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন মনে করেন, বহু নিরীহ লোক গ্রেপ্তার হচ্ছেন এবং তারা জামিনে বেরিয়ে এলে তাদের রোষানলে পড়ছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন।

ফলে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় অনেকেই সাক্ষ্য দিতে এগিয়ে আসছে না বলে জানান কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের সহকারি পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু।

উত্তম বড়ুয়া নামে যে তরুনের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবি পোস্ট করাকে ঘিরে গতবছর ঔ ঘটনার সূত্রপাত সেই তরুণের কোনও খোঁজ প্রশাসন এখনও পর্যন্ত বের করতে পারেনি।

ঐ হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধমন্দিরগুলো সরকারি উদ্যোগে পুননির্মাণ করা হয়, যেগুলো চলতি মাসের শুরুতেই উদ্বোধন করা হয়েছে।