সংসদ থাকবে কি-না তা চূড়ান্ত হয়নি - উপদেষ্টা

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে : প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. বোরহান উদ্দীন খান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বেসরকারি সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদ এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে : প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. বোরহান উদ্দীন খান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বেসরকারি সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদ এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলেছেন জাতীয় নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল থাকবে কি-না সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সরকার।

তবে বিরোধী দল বিএনপির একজন নেতা বলেছেন উপদেষ্টার কথায় তাদের আস্থা নেই, কারণ প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ বিষয়ে তার অবস্থান বারবার পরিবর্তন করছেন।

সংলাপে ফেলানী হত্যার বিচার ও নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় কেন-এসব বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপে আলোচক ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বেসরকারি সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. বোরহান উদ্দীন খান।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি সচিবদের সঙ্গে এক বৈঠকে নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল থাকবে বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো।

সংলাপে দর্শক মোঃ:নাইউম খানের প্রশ্ন ছিল সংসদ বহাল রেখে জাতীয় নির্বাচন করা হলে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি ?

এইচ টি ইমাম বলেন প্রধানমন্ত্রী সংসদ থাকলে বা না থাকলে কি হবে সেটি বলেছেন। তবে সংসদ থাকবে কি-না এটি নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি বলেন, “সংসদ কখন ভাঙ্গা হবে সেটি নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনার উপর। বর্তমান সরকারই নির্বাচন পরিচালনা করবে। কিন্তু সংসদ থাকবে কি –না তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে”।

ড: খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সংসদ ও সরকার বহাল থাকবে। তবে উপদেষ্টা যেহেতু বলছেন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি তাহলে সংকট নিরসনে আলোচনার সুযোগ থাকতে পারে।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে এবং সংসদ বহাল রেখে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবেনা। এ যে অসম অবস্থার মধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবেনা”।

ড. বোরহান উদ্দীন খান বলেন, “সংসদ না ভেঙ্গে নির্বাচন করার ইতিহাস আমাদের নেই। আমি জানিনা আমরা কিভাবে উন্নতি করলাম। এর আগে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংস্কার পর্যন্ত দাবি করেছিলো”।

শারমীন মুরশিদ বলেন নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানই প্রত্যাশিত। কিন্তু সে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কি-না সেটিই বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, “সংসদ না ভাঙ্গলে সরকার নিজেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। না ভাঙ্গলে সংকট তৈরি হবে”।

একজন দর্শক বলেন, “নামে মাত্র থাকলে তো না থাকাই ভালো। নির্দলীয় কারো হাতে ক্ষমতা দিলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে”। আরেকজন দর্শক বলেন, “সংবিধানের বিদ্যমান কাঠামোতেই নির্বাচন হওয়া উচিত”।

ফেলানী হত্যার বিচার

মোঃ: নাসির উদ্দীন জানতে চান ভারতে বিএসএফ-এর আদালতে বাংলাদেশের ফেলানী খাতুন হত্যার ন্যায্য বিচার হয়েছে কি-না।

জবাবে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ বলেন বাংলাদেশ বা ফেলানীর বাবা-মা সুবিচার পায়নি। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে অবহেলা ছিল এবং পররাষ্ট্রনীতির দুর্বলতা ছিল। যখন বিএসএফ এর আদালতে বিচার শুরু হয় তখনি সাধারণ আদালতে বিচারের দাবি জানানো উচিত ছিল।

তিনি বলেন, “ সীমান্তে যত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে সরকার তার প্রতিবাদ করতে পারছেনা। আমি আশা করি সরকার তীব্র প্রতিবাদ করবে”।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এইচ টি ইমাম বলেন, “সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। সীমন্তে হত্যাকাণ্ড অনেক কমে এসেছে। যেহেতু ফেলানীর ঘটনায় ন্যায় বিচার আসেনি তাই সরকার প্রতিবাদ করবে এবং ফৌজদারি আদালতে ঘটনাটি বিচারের প্রস্তাব করবে ভারতের কাছে। তাহলে বিচার সুষ্ঠু হবে”।

একজন দর্শক বলেন, “ সরকার ফেলানীর হত্যার পরেও ত্বরিত কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। প্রতিদিন ফেন্সিডিল ইয়াবা আসছে সরকার সেখানেও ব্যবস্থা নিতে পারছেনা”।

বোরহান উদ্দীন খান বলেন, “কারো সাজা যেহেতু হয়নি তাই বলা যায় এখানে বিচার হয়নি। বিচার না পাওয়ার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন”।

শারমীন মুরশিদ বলেন, “ফেলানীর ঘটনায় সুবিচার হয়নি। বিএসএফ এর এসব ঘটনার বিষয়ে কখনোই জোরালো অবস্থান আমরা নিতে পারিনি। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক সীমান্তের বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে”।

তথ্যপ্রযুক্তি অধ্যাদেশ

রাশেদ রাহম জানতে চান তথ্যপ্রযুক্তি অধ্যাদেশকে কি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি একটি হুমকি হিসেবে দেখা যেতে পারে ?

বোরহান উদ্দীন খান বলেন, “এ ধরনের একটি আইন আমাদের সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি হুমকি স্বরূপ। এ আইনে এমন কিছু নেই যা বন্ধ করা যাবেনা। ওয়েবসাইট বা কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ভিন্ন আইনে করতে হবে। এ আইনে বিচার হবেনা শুধু হয়রানি করা হবে”।

শারমীন মুরশিদ বলেন, “সব আইনকেই অপব্যবহার করা যায়। ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে যে সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে, সেটা বাড়বে এবং সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তবে আইনের সংজ্ঞাগুলোকে সুনির্দিষ্ট করা উচিত”।

একজন দর্শক বলেন, “আইনটিকে নিবর্তনমূলক মনে হচ্ছে। এ আইন দ্বারা বাক স্বাধীনতাকে হরণ করা হবে”।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “অনেকে সুযোগের অপব্যবহার করছে। সেটা নিয়ন্ত্রণের দরকার। তবে নিয়ন্ত্রণ আনতে গিয়ে মৌলিক অধিকারে যেন হস্তক্ষেপ না হয় সেটা দেখতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আইনটি রিভিউ করবো। কিছু অন্যায় দমন করতে গিয়ে এমন কিছু করা হচ্ছে এখন যে কারো বিরুদ্ধে সরকার নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে”।

এইচ টি ইমাম বলেন, “তিন কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। দশ কোটি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে। সরকার সর্বতোভাবে এ সেক্টরকে লালন করেছে। সবদিক দিয়ে এ খাতকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ভয়ের কোন কারণ নেই। যারা অপরাধ করবেন না তাদের ভয়ের কিছু নেই। আইনে শুধু সাজা বাড়ানো হয়েছে”।

তিনি বলেন, “বিলটি সংসদে যাবে। আলোচনা হবে এবং আরও পরিবর্তনের সুযোগ আছে। ইন্টারনেটে কিছু বিষয় কুৎসিত আকার ধারণ করেছে। তাই এখনি শক্ত আইন না হলে ভবিষ্যতে সমস্যা হবে”।

নির্বাচনের সময় বিশৃঙ্খলা কেন ?

মোরশেদ আলম জানতে চান --নির্বাচনের সময় এলেই বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় কেন ?

শারমীন মুরশিদ বলেন, “ক্ষমতা হস্তান্তরে স্থিতিশীলতা না আসলে এ অস্থিরতা বেশি বেড়ে যায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলেই সহিংসতা হয়না তাও নয়”।

বোরহান উদ্দীন খান বলেন সরকারে গিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টার করনেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, “যারাই ক্ষমতায় যান তারাই ক্ষমতা ছাড়তে চাননা। ক্ষমতা ছাড়তে চাননা বলেই নানা কর্মকুশল করেন আর সে কারণেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়”।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা বা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা হলে বিশৃঙ্খলা হয়। আগামী নির্বাচন যদি সব দলের অংশগ্রহণে না হয় তাহলে এদেশে অশান্তি হতে পারে”।

প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক

এইচ টি ইমাম বলেন, “আওয়ামী লীগ ৯৬ এ ক্ষমতায় এসে পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলো”।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

আমি কোন ভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিনা এ সরকার বহাল থেকে নির্বাচন কখনো নিরপেক্ষ হতে পারে। চ্যালেঞ্জ। ফেলানী হত্যার সাথে সরকার জড়িত তাই বিচার টা হচ্ছে প্রহসনের।

মোকাদ্দেস, দুবাই।

It will be unfair to conduct parliament election without dissolving present parliament.thanx

Karim reza, riyadh,KSA

সরকারের উচিত দেশের যোগ্য মানুষগুলোকে কাজে লাগানো। দল মতের উর্ধ্বে উঠে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। লীগ সরকার বাঁচার জন্য যা করছে তা কিন্তু মানুষ বুঝে। তাই লীগের নেতাদের সঠিক কাজ হবে সত্যিকার অর্থে দেশের শান্তির জন্য কিছু করা। তা না হলে একদিন উনাদের কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে।

নজরুল ইসলাম, ঢাকা।

HT Imam told what is the problem if parliament remains same in time of electon? Today(07/09/2013) Australian govt is holding thier election but their parliament & incumbent govt is remaining same. There is no prblem. he told this on the question whether parliment will remain or not in the time of election. But my question to Honorable Advisor- are Bangladesh & Australia holding same political condition & faith?

Muhammad Al-Helal, Dhaka