সংলাপ : সমঝোতা না হলে হস্তক্ষেপের আশংকা

রংপুরে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে দর্শকদের অনেকেই নির্বাচনকালীণ সরকার নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের আশংকা করেছেন।
যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের একজন নেতা এ আশংকা নাকচ করে দিয়েছেন। তবে বিরোধী দল বিএনপির একজন নেতা বলেছেন গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া আদিবাসী মাতৃভাষায় শিক্ষা এবং জঙ্গি তৎপরতা সম্পর্কিত বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
রংপুর জেলা স্কুল মিলনায়তনে শনিবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সংলাপে প্যানেল আলোচক ছিলেন আওয়ামীলীগের রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আসাদুল হাবিব দুলু, সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঁঙ্গা এবং রংপুর দেবী চৌধুরানী পল্লী উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মোশফিকা রাজ্জাক।
অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন মোসাম্মৎ তানিয়া পারভিন। তিনি জানতে চান দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচন কালীন সরকার নিয়ে সমঝোতা না হলে তৃতীয় কোন পক্ষের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে কি-না।
জবাবে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন সমঝোতার বিষয় নয়, বিষয়টি হলো সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়া। গণতন্ত্রকে মজবুত করতে হলে রাজনীতিবিদদেরই করতে হবে।
তিনি বলেন, অসাংবিধানিক কাউকে দিয়ে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবেনা। তাই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াতেই আগামী নির্বাচন হবে। সে প্রক্রিয়া কেউ বাধাগ্রস্ত করলে করনীয় নির্ধারণে সংবিধানই দিক নির্দেশনা দিবে বলে মনে করেন তিনি ।
তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার যারা চায় তারাই জানেননা সেটি কেন তারা চান। অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কেউ ক্ষমতা দখল করলে তার ফলাফল কি হয় সেটি আমরা অতীতে দেখেছি”।
বিএনপি নেতা আসাদুল হাবিব দুলু বলেন সংবিধান এমন কোন কিছু নয় যে এটা পরিবর্তন করা যাবেনা। দেশের ৯০ ভাগ মানুষই তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। সরকার সেটি তোয়াক্কা না করলে আর সে কারণে গণতান্ত্রিক ধারার বাইরে কিছু হলে সেটা সবার জন্যই দুর্ভাগ্যের হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “কেন সমঝোতা হবেনা। সরকার আলোচনার পথ উন্মুক্ত করলে দশ মিনিটের মধ্যে সমাধান সম্ভব এবং নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে”।
তবে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন সবাই যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা এ ধরনের একটা নির্বাচন কালীন সরকার চায় সেটাই হওয়া উচিত।
সংকট নিরসনে সমঝোতা না হলে তৃতীয় পক্ষের কেউ ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে বলেও আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “সমঝোতা না হলে আমরা অতীতে যেভাবে দেখেছি শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী, দেশের ক্রান্তি লগ্নে যারা আসে তারাই আসবে। আবার হয়তো নির্বাচন দিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে”।
একজন দর্শক বলেন, “যে ধারা সৃষ্টি হয়েছে তাতে তৃতীয় শক্তি আসতে পারে”। আরেকজন দর্শক বলেন, "সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে আওয়ামীলীগের সমস্যা কোথায়" ?
মোশফিকা রাজ্জাক বলেন, “ আসলে দুদলই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেজন্য আমি মনে করি সমঝোতা হবে এবং নির্বাচন হবে। তৃতীয় শক্তি আসবে বলে মনে হয়না”।
জাতীয় পার্টি নিয়ামক হবে ?
মো: আব্দুল গফুর জানতে চান সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি কি আগামী সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হতে পারে কি-না ।
মসিউর রহমান রাঁঙ্গা বলেন, “দুদলের অনৈক্য মানুষ পছন্দ করছেনা। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের মানুষ ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হলে আমরা ৩০-৫০ আসন পেলে কাউকে সমর্থন না দিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করতে পারবো”।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “একটা দল হিসেবে জাতীয় পার্টির নিজস্ব নীতি বা কর্মসূচী আছে। একটা লক্ষ্য হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। তবে আমার ধারনা জাতীয় পার্টি মহাজোটেই থাকবে”।
একজন দর্শক বলেন জাতীয় পার্টি হয়তো একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে যদি বিএনপি নির্বাচনে না যায়। আরেকজন দর্শক বলেন এরশাদের কারণেই সামনে রংপুরে তাদের দুর্গে ফাটল ধরবে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “আলাদা নির্বাচন হলে মনে হয়না সারাদেশে এরশাদ কোন প্রভাব ফেলতে পারবেন। অবশ্য এরশাদ নিজেই এখন মহাজোটের সমালোচনায় সোচ্চার”। তিনি বলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি জাতীয় পার্টি সহ সবাইকেই ঐক্যবদ্ধ করতে চায়।
মোশফিকা রাজ্জাক বলেন, “জাতীয় পার্টি মূলত রংপুর ভিত্তিক। সারা দেশে দলটি তত শক্তিশালী নয়। তিনি বলেন গত কয়েকটি নির্বাচনের ফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায় রংপুরেও দলটির জনপ্রিয়তা কমেছে”।
তিনি বলেন, “ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হলে এরশাদ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবেন। কিন্তু একক নির্বাচন করলে জাতীয় পার্টি সে ধরনের নিয়ামক হবে বলে আমার মনে হয়না। প্রতিবারই জাতীয় পার্টির আসন সংখ্যা কমছে।তাই বলা যায় জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তায় চিড় ধরেছে রংপুরেও”।
জঙ্গি তৎপরতা প্রসঙ্গ
রোকেয়া আলম বিথী জানতে চান সম্প্রতি জঙ্গি সন্দেহে বেশ কিছু মানুষকে গ্রেফতারের পর ধারনা করা যায় কি যে জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে ?
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “এ ধরনের আশঙ্কা মনে হয় নেই। তবে জঙ্গি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে মানুষের মধ্যে। কেউ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিচার হওয়া উচিত”।
মসিউর রহমান রাঁঙ্গা বলেন, “এ সরকারের সময় জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে বলে মনে হয়না। জামায়াতে ইসলামের তৎপরতা বন্ধ করায় তারা বিভিন্ন নামে এসব করছে। সরকার না বললেও সেটা আমরা বুঝতে পারি”।
একজন দর্শক বলেন, “চড়গুলোকে ঘিরে প্রচুর জঙ্গিবাদ গড়ে উঠেছে। তৎপরতা এখন নতুন করে শুরু হয়েছে উত্তরাঞ্চলেই”। আরেকজন দর্শক বলেন, “এটা সরকারের নতুন কোন নাটক কি-না সরকারের সাজানো পশ্চিমা বিশ্বের আনুকূল্য পাওয়ার জন্য”?
মোশফিকা রাজ্জাক বলেন, “জঙ্গি বাড়েনি। যা হচ্ছে সেটা যুদ্ধাপরাধের বিচারকে প্রতিহত করার জন্য জঙ্গিদের উত্থান হচ্ছে”।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “জঙ্গি বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে। জঙ্গিবাদের উত্থান এখানে হতে পারবেনা।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “জঙ্গিবাদ উত্থান হচ্ছে কিনা সেটা সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা বলতে পারবে। দেশে এখন বহু ধরনের নাটক তৈরি করা হচ্ছে। অনেক কিছু অনেক সময় করা হয় নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করার জন্য”।
আদিবাসীদের স্কুল
কবিরাজ মুর্মু জানতে চান আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় তাদের ভাষায় শিক্ষা দেয়ার জন্য সরকারিভাবে স্কুল গড়ে তোলা উচিত কি-না ?
মোশফিকা রাজ্জাক বলেন, “সরকার এনজিওদের মাধ্যমে কিছুটা সাহায্য করা উচিত। তবে স্কুল হলে সেটা আরো সহায়ক হবে। তবে একই সাথে বাংলাও শেখাতে হবে না হলে তারা মূলধারা থেকে পিছিয়ে পড়বে”।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “ ভাষা-ধর্মের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার যা সেটা সরকারের করা উচিত”।
মসিউর রহমান রাঁঙ্গা বলেন, “আদিবাসীদের মধ্যে অনেক গোষ্ঠী থাকা উচিত। নিজের ভাষায় শিক্ষার সুযোগ তাদের থাকা উচিত। একই সাথে বাংলা ভাষাও শিখলে তাদের জন্যই ভালো হবে”।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “সরকার ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় আমার নিজের এলাকাতেই আদিবাসীদের জন্য একটি স্কুল করা হয়েছে”।
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
সরকার যে ভাবে একাই দেশ শাসন করতে চাচ্ছে তাতে আমরা সাধারন জনগন কোনো কিছু বলার আগেই সব কাজেই সরকার সেরে ফেলে।আমি সরকার কে বলতে চাই একক ভাবে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না ,এক্ষেত্রে অব্যশই তৃতীয় শক্তি এদেশে আসবে।
মিনহাজুল ইসলাম সরদার, রংপুর
তারেক রহমানকে রাষ্ট্রপতি, খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানালে আর কোন আন্দোলন হবেনা। আপনারা সবাই কি মনে করেন ?
রফিক উদ্দীন, সৌদী আরব
Why don't you have courage to convey the real picture of the feelings of the countrymen of Bangladesh. You know well that more than 90% people of the country wants Hasina to get-off from the power after the term & give the power to a neutral care-taker government for the purpose of fair election. Otherwise she will be spending poor tax-payers money to attend her party meetings & continue the abusing power. What stops you to point out this issue in your programs? Plz be fair to all,thanks
Hobu Ram, Dhaka
আমি মনে করি রাজনৈতিক দল যারা কি-না রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে দেশের মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করেন, তাদের মানুষের কথা ভেবে একটু সারা দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান করা উচিত। আমরা সাধারণ জনগণ, আমাদের ভাগ্য নিয়ে খেলার অধিকার কারো নেই। তাই আমি দু বড় দলের নেতাদের কাছে আহবান রাখতে চাই, তারা যেন যত দ্রুত সম্ভব আলোচনায় বসে।
মো: আশরাফুল ইসলাম, রংপুর
আমি মনে করি আমাদের দেশের রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ তারা ক্ষমতালোভী। তাদের চেয়ে সেনাবাহিনী অনেক ভালো।








