নির্বাচন কালীন সরকার নিয়ে বিতর্ক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী বলেছেন নির্বাচন কালীন সরকার নিয়ে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে তবে তা হতে হবে সংবিধান মেনে এবং সংসদে।
তবে বিরোধী দল বিএনপি একজন নেতা বলেছেন আওয়ামী লীগ তো বিচারপতি এম এ হাসানের অধীনে নির্বাচনে যায়নি তাহলে বিএনপি কেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর অধীনে নির্বাচনে যাবে?
শনিবার সংলাপের এ পর্বে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর সম্পাদকের গ্রেফতার এবং বাংলাদেশের মাদকের বিস্তারের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড মামুন আহমেদ এবং মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক মোহাম্মদ নুর খান।
অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন শাহিনা আক্তার মিলি। তিনি জানতে চান আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে? প্রধান দু রাজনৈতিক দল কি আলোচনা করে সেটি ঠিক করতে পারবে ?
জবাবে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন নির্বাচন কালীন সরকার নিয়ে আলোচনার দরজা খোলা আছে। তবে সেটা হতে হবে সংবিধানকে মেনে নিয়েই। সংসদের বাইরে কিছু হবেনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “সংসদ হবে নিয়ামক শক্তি। সুপ্রিম কোর্টেরও তাই মত। আদালতও মান বোনা, সংসদও মান বোনা—তাতো হয়না”।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হলে সমঝোতায় পৌছাতে হবে। নির্বাচন কালীন সরকার নিয়ে বিএনপির ছাড় দেয়ার কোন প্রশ্ন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রয়োজনের তাগিদে হয়েছিলে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সেটা হয়নি। আর বিচারপতি কে এম হাসান কোন আমলে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল সেজন্য আওয়ামী লীগ তার অধীনে নির্বাচনে যায়নি। তাহলে আওয়ামী লীগ আশা করে কি করে যে বিএনপি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর অধীনে নির্বাচনে যাবে”?
এ প্রসঙ্গে একজন দর্শক বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং যে জিতবে সেই ক্ষমতায় আসুক সেটাই চাই”। আরেকজন দর্শক বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব”।
ড. মামুন আহমেদ বলেন বাংলাদেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে সেটা দ্রুত কেটে যাওয়া দরকার। উভয় পক্ষ আন্তরিক হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।
তিনি বলেন, “প্রধানত সরকারকে ভূমিকা নিতে হবে এবং বিরোধী দলকেও ইতিবাচক ভাবে সাড়া দিতে হবে। আশা করি বিএনপি ও আওয়ামীলীগের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সেটা না হলে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্যদের মত আমিও শঙ্কিত”।
নুর খান বলেন, “আলোচনা সংসদ বা সংসদের বাইরে হতে পারে। সমঝোতা না হলে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হবে। আশা করি দু জোটই জনগণের আকাঙ্ক্ষার দিকে দৃষ্টি রেখে সমঝোতার দিকে অগ্রসর হবেন”।
অধিকার সম্পাদক প্রসঙ্গ
সুস্মিতা পাইক জানতে জানতে চান অধিকার সম্পাদক আদিলুর রহমান খানের গ্রেফতার কি মানবাধিকার কর্মীর কাজে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে ?
ড. মামুন আহমেদ বলেন অধিকার সম্পাদকের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে একজন মানবাধিকার কর্মীর অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। আদিলুর রহমান মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে যে কাজ করছিলেন তা সঠিক ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক মোহাম্মদ নুর খান বলেন যে পদ্ধতিতে আদিলুর রহমান খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা সমর্থনযোগ্য নয়। যে ঘটনার রিপোর্টকে কেন্দ্র করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে ঘটনা সম্পর্কে জনমনে সন্দেহ রয়েছে।
তিনি বলেন, “এ ঘটনার মাধ্যমে আমরা মানবাধিকার কর্মীরা একটি ভয়ের সংস্কৃতিতে প্রবেশ করেছি”।
একজন দর্শক বলেন, “আদিলুর রহমানকে গ্রেফতার মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ”। আরেকজন দর্শক বলেন, “মানবাধিকার সংস্থা যদি একটি সুনির্দিষ্ট মোটিভ নিয়ে কাজ করে তখন সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠে”।
তবে মতিয়া চৌধুরী বলেন অসত্য কথা বারবার প্রচার করা হবে আর সরকার বসে থাকবে সেটা হতে পারেনা। অধিকারের তথ্য সত্য হলে তা সরকারের কাছে দিতে পারতো। এমনকি গণমাধ্যমকেও দিতে পারতো।
তিনি বলেন, “বার বার একজন ব্যক্তি যখন অসত্য প্রচারণা করে এবং তার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, তখন সেটা সরকারকে দেখতে হয়”।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গ্রেফতারের আগে কোন মামলা বা ওয়ারেন্ট হয়নি। অধিকার সীমান্ত হত্যা বা সংখ্যালঘুদের নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সেগুলো নিয়ে তো প্রশ্ন উঠেনি। এবার কেন উঠল। সরকার আদালতের মাধ্যমে বা বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অধিকার-এর কাছ থেকে তথ্য নিতে পারতো।
প্রসঙ্গ ইয়াবা ও মাদক
তাহসিন তাসনিম অতশী জানতে চান ইয়াবার সহজলভ্যতা দিনদিন যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সরকার কি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে ?
নুর খান বলেন, “ সমাজ ও পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে। পরিবারের মধ্যে যে সচেতনতা দরকার তার অনুপস্থিতি দেখছি। তারপরেও যে ভয়াবহ পরিস্থিতি হচ্ছে তাতে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে”।
মামুন আহমেদ বলেন, “এ বিষয়ে যথেষ্ট গণসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও অপ্রতুল। কিছু রাজনৈতিক শক্তি ও নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ কেউ মাদক বাণিজ্যে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়।
একজন দর্শক বলেন, “মাদকের এ থাবা কেন? নৈতিক শিক্ষা বা পারিবারিক বন্ধনের অভাব নাকি পরিবারের অবৈধ অর্থের উৎস ? আরেকজন দর্শক বলেন, “সীমান্তে সাধারণ মানুষ বা গরিব ব্যবসায়ীরা গুলিবিদ্ধ হচ্ছে। একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী তো এ ধরনের ঘটনার শিকার হননি”। অপর একজন দর্শক বলেন, “প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই এসব ঘটনা ঘটছে”।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “যেভাবে এ সমস্যা বাড়ছে তাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার কথা বলতেই হচ্ছে। তবে সমস্যা সমাধানে একটা সামাজিক ও রাজনৈতিক কমিটমেন্ট দরকার”।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, “বঙ্গবন্ধু মদ জুয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন। পঁচাত্তরের পরে সরকারের সেই নীতিকে বাতিল করে দেয়া হয়েছে যার ফলে মাদকের এমন বিস্তার হচ্ছে। সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে”।
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
Comming election should be held under a non party administration. A ruling party MP involved into drug dealing(from newspaper ) and government did not take hard step. I support general Ershad today that army can take action against drug trade.
Dr. shahariar, Dhaka
Considering that the caretaker government clause of the constitution was annulled on the plea that the major political parties should have faith on each other for polls, then how about giving the premiership to the opposition party leader and equal number of ministers from both the parties to create the interim government for holding free and fair elections after 24th October 2013. I am sure the ruling party will place their full confidence and trust on that interim government.
Andalib Ahmed
Question to Mr. Khosuru. BNP always proposed care taker govt. Could they propose one shadow care taker govt and head of that govt. through media? So people can support their demand. Thank you.
Mohd Mizanur Rahman Bhuiya, Dhaka
আমাদের প্রধান বিরোধী দল এবং তাদের সারথিরা আনন্দে হাত পা ছুঁড়ছেন। তারা ধরেই নিয়েছেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিই হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ ক্ষমতার পালা বদল। কিন্তু তারা একবারও বলছেন না কেন জনসাধারণ তাদের সমর্থন দিবে। মানছি আওয়ামী লীগের উপর চরম ত্যক্ত বিরক্ত জনগণ। তারা আর আওয়ামী লীগকে চাইছে না। কিন্তু কথা হল, একটি রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতাই কি অন্য একটি দলকে যোগ্য করে তোলে?
মোঃ গালিব মেহেদী খান, ঢাকা
সরকার কোন সংবিধানের কথা বলছে যে সংবিধানে জনমত বা গনভোট হয় নাই। সরকার নিজেদের সুবিধা মত নিজেদের স্বররথে সংশোধন করেছে, তা কি জনগন বা বিরোধী দল মানবে, বি এন পি যদি এই সংবিধানের অধীনে নির্বাচনে যায় তা হবে আত্মহত্যার সমান।
হাফিজুর , শেরপুর
If Awami League is confident that they has people support, then why do not they go for CTG? Since they beleive people still support them then they will win.. Then what is wrong with CTG
Arif, Toronto
নির্বাচনকালীন সরকার ব্যাবস্থা নিয়ে আমীর খসরুর সাথে আমি শতভাগ একমত।
জাফর খান, ঢাকা
গন সচেতনতা দিয়ে লাভ হবেনা, হেফাজতের দাবি মেনে নেন।








