সংলাপে জামায়াতের ভবিষ্যত নিয়ে বিতর্ক

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ইসলামি চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট শাহ আব্দুল হান্নান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ইসলামি চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট শাহ আব্দুল হান্নান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।

বাংলাদেশ সংলাপে বাংলাদেশ সরকারের আইন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেয়া রায়গুলো পর্যালোচনা করে যথাসময়ে সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির একজন নেতা জামায়াত নিষিদ্ধ করা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের যে বিচার চলছে সেটিই আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে পারেনি।

ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বে আলোচক ছিলেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, ইসলামি চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট শাহ আব্দুল হান্নান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন জাহানারা আক্তার।

তিনি জানতে চান মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় গোলাম আযমকে নব্বই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলেও এই রায় সব পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি কেন ?

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গোলাম আযম একাত্তরের ঘাতকদের শিরোমণি ও নাটের গুরু। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর তার বিচার করতে পেরে ও তাকে দণ্ড দিতে পেরে সরকার সন্তুষ্ট। অনেকেই সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করেছিলো। আমরাও সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করেছিলাম। তবে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোন ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করিনি”।

মি: নাছির বলেন, “এ বিচার স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের চেয়েছি। কিন্তু সে মান অনুযায়ী হয়নি। বিচারের নামে কিছু লোককে ফাঁসিয়ে তা নির্বাচনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হোক বা কিছু মানুষ রাজনৈতিক ভাবে হেনস্থা হোক সেটি আমরা চাইনা”।

এ প্রসঙ্গে একজন দর্শক বলেন, “স্বাধীনতা বিরোধীরা যে অত্যাচার, নির্যাতন, লুণ্ঠন, বুদ্ধিজীবী হত্যার মূল নায়ক গোলাম আযম সহ যারা দায়ী তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া উচিত ছিল”।

আরেকজন দর্শক বলেন, “গোলাম আযম সহ যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা সবাই রাজনৈতিক। তাই বিচার যতই স্বচ্ছ হোক তাদের অনুসারীদের কখনোই খুশী করা যাবেনা”।

গীতি আরা নাসরীন বলেন, “মানবতা বিরোধী অপরাধ বা নির্যাতনের জন্য এক নামে মানুষ রাজাকার হিসেবে যাকে চিনে তার নাম গোলাম আযম। মানুষ তার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে”।

শাহ আব্দুল হান্নান বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মানের নয়। বিশ্বের কেউ বলেনি যে এটা আন্তর্জাতিক মানের। তাই এর কোন বিচারই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। সব বিচারই প্রশ্নবিদ্ধ। আশা করি আপিল বিভাগ সুবিচার করবে”।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিচার স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে। যারা বিরোধিতা করছেন তারা শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই তা করছেন”।

জামায়াতের ভবিষ্যৎ

খালেদ ইমরান জানতে চান জামায়াতকে একটি অপরাধী সংগঠন হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে চিহ্নিত করার পর এই দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি হতে পারে ?

জবাবে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেয়া দুটি মামলার রায়ে জামায়াতের বিষয়ে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে। আদালতের যে পর্যবেক্ষণ তাতে অবশ্যই জামায়াতকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

তিনি বলেন, “প্রসিকিউটররা চিন্তাভাবনা করছে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে মামলার বিষয়ে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার আইনের মাধ্যমে যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে”।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধের কথা আসলে একটি রাজনৈতিক কৌশল। ৫ম সংশোধনী বাতিলের পর আওয়ামীলীগ তো ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিধান সংবিধানে রেখেছে।

তিনি বলেন, “আওয়ামীলীগ জামায়াতকে নিষিদ্ধ করবেনা। নিষিদ্ধের কথা যেটা বলা হচ্ছে সেটা রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি। তবে কারো গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হলে বিএনপি প্রতিবাদ করবে। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে গিয়ে তাদের আরও শক্তিশালী করবে আওয়ামীলীগ, এটা তাদের পলিটিকাল এজেন্ডা”।

একজন দর্শক বলেন, “জামায়াতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর উপর। জামায়াতকে বন্ধ করতে পারবে কিন্তু সমস্যা হল তারা যদি গোপনে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালায় তাহলে দেশ পিছিয়ে যাবে”।

মি: হান্নান বলেন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মানের নয় আর তাই ট্রাইব্যুনালের সব রায়ই প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, “জামায়াত ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে ছিল এটা জেনেই ১০ ভাগ ভোটার জামায়াতকে ভোট দেয়। আমি মনে করি একটা প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত টিকে থাকবে”।

গীতি আরা নাসরীন বলেন জামায়াত ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রশ্রয় দিলে দল হিসেবে সংগঠনটি টিকে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “ রাজনৈতিক দলগুলোর ছত্রছায়ায় জামায়াত কাজ করে। তারা কিছু খুচরো সন্ত্রাসী কাজ করে ভয় দেখিয়ে শক্তি অর্জনের জন্য। বড় দলগুলো প্রশ্রয় দিলে জামায়াত টিকে থাকবে”।

আহমদ শফি ও নারী

আতিকা তাসনীম জানতে চান আল্লামা আহমদ শফি নারীদের সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন তাতে কি তাঁর বিরুদ্ধে সরকারীভাবে ব্যবস্থা নেয়া উচিত ?

গীতি আরা নাসরীন বলেন, “শুধু একজন শফির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যথেষ্ট নয়। উনি শুধু একা নন। এ ধরনের কথা বিভিন্ন সময় বলা হয়। এক্ষেত্রে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাও দেখতে হবে”।

মীর নাছির বলেন, “সরকার তো হেফাজতের কাছে ভোট চেয়েছে। সরকার হেফাজত বা জামায়াতের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিবেনা তাদের ভোট পলিটিক্সের জন্য।

একজন দর্শক বলেন, “অবশ্যই নারীদের নিয়ে এসব বলার জন্য ব্যবস্থা নেয়া উচিত”।

শাহ আব্দুল হান্নান বলেন, “হেফাজতের ১৩ দফাতে নারীর বিরুদ্ধে কিছু নেই। তিনি (শফি) শালীনতার কথা বলেছেন। তবে উনার তেঁতুলের উদাহরণ না দিলে পারতেন"।

তিনি বলেন, "আলেমদের এসব উদাহরণ দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। নারীদের বাদ দিয়ে জাতীয় উন্নয়ন হবেনা, আলেমদের এটা বুঝতে হবে”।

আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সাইদীর এ ধরনের ওয়াজ অনেকেই শুনেছে। শফিরা অনেকদিন ধরেই আমাদের সমাজে আছে। তারা ধর্মভীরু মানুষকে ব্যবহার করে এসব ওয়াজ করে এবং দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চায়"।

তিনি বলেন, "আল্লামা শফির উত্থান কখন যখন একাত্তরের ঘাতকদের বিচার শুরু হয়েছে তখন”।

তিনি বলেন, “শুধু বিচার করেই এদের নিবৃত্ত করা যাবেনা। সব মানুষকে এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে”।

একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, একজন দর্শক

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের প্রধান এবং কওমি মাদ্রাসা সংস্কারের জন্য গঠিত কমিটির প্রধান থেকে শফি কে সরিয়ে দেয়া হবে”।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

তদন্ত কমিটিতে কারা ছিল ? মানে কোন প্রেক্ষাপট দাঁড় করিয়ে তদন্ত করা হয়েছিল ? দেখুন আমি ভয়ে আরও অনেক কথা লিখতে পারছিনা, সাধারণ জনগণ হিসেবে আমার মত যারা তারা কি নিজের আপন মতামত তদন্তে বা বিচারে প্রভাব ফেলতে পারে ?

রেমাল ভুইয়া, মোহাম্মদপুর

I am really shocked that we are still talking about Jamat. My question is Jamat'S Leaders should Bremen hanged long before. How those criminals are still breathing in fresh air in Bangladesh? This killer don't even accept Bangladesh as a country. If Awami League don't finish the trial before their term, Awami league should be in trial infront of Bangladeshi people and people should boycott BNP for their support to Jamat.

Kibria piku, Atlanta USA

গোলাম আযমের রায়ে ট্রাইবুনালকে সমগ্র দেশবাসী'র পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানোটা প্রধানমন্ত্রীর অনধিকার চর্চা হয়েছে। কারন এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে আমার মতো আরো অনেকেরই ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক । উনি ব্যক্তিগত ভাবে যেকোনো সাধারণ বিষয়ে ধন্যবাদ বা অপবাদ দিতেই পারেন। কিন্তু আমার বা আমার মতো আরো অনেকের পক্ষে এভাবে একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে ধন্যবাদ দেয়ার বিষয়ে উনার সংযত হওয়া প্রয়োজন ছিলনা কি ?

অরুন দত্ত , চাঁদপুর

আমার বিশ্বাস বি এন পি যদি এই বিচারের বিরোধিতা করেন,তাহলে পরবর্তীতে বর্তমান সরকারে যে সব অপরাধী আছেন,তাদের বিচার করা সম্ভব হবে না,তাই তারা বার বার স্বচ্ছ বিচারের দাবী জানিয়ে আসছেন।শফী সাহেবের ৪/৫ বছর আগের ভক্তব্য নিয়ে যারা এত হৈ চ করেন, তারাতো পার্কে, হোটেলে ও ভিবিন্ন উম্মুক্ত স্থানে যুবক-যুবতীরা যে অশালীন আচরণ করেন সেগুলো নিয়ে এত হৈ চৈ করেন না। তথাকথিত নারীবাদীদের উদ্দেশ্য নারীদের প্রকৃত অধীকার রক্ষা নয়,আসল উদ্দেশ্য হলো নারীদেরকে অশালীন করে তোলা।

নুর মোহাম্মদ মজুমদার, দোহা,কাতার।

There is no last word to say about Bangladesh .Politician , Buisnessman, lawyers, journalist There most of part are AL and BNP party interest group . Those people always think about themself . those people never ever think about country .

Mohammed kamal, Michigan USA

আগামীতে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে ছাড়া কাউকে ভোট দিবেনা ইনশাল্লাহ।

M.A.SALAM, U.A.E

তারেক জিয়া বলেছিলেন বিএনপি জামায়াত একই পরিবারের সদস্য। এতেই প্রমানিত হয় বিএনপি এখন আর মুক্তিযোদ্ধার দল নয়। বিএনপি রাজাকারের দল। বাংলার মাটিতে রাজাকারের জায়গা নাই।

মো আরিফুল ইসলাম, ঢাকা।