প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়ায় শিক্ষকের কারাদন্ড

High Court
ছবির ক্যাপশান, তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে কারাদন্ডের রায় আদালতে
    • Author, সায়েদুল ইসলাম
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক হাফিজুর রহমানকে সাত বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ও ফৌজদারি দন্ডবিধির ধারা প্রয়োগ করে মিঃ রহমানকে আজ বৃহস্পতিবার সাত বছর মেয়াদের কারাদন্ড দিয়েছেন।

ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য বা লেখার কারণে এর আগে অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও, বাংলাদেশে এ ধরণের সাজার ঘটনা এটাই প্রথম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরণের আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রেও যেমন সতর্কতা প্রয়োজন, তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহার করা উচিত ইতিবাচকভাবে।

গত বছর যখন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক আর ছাত্রদের আন্দোলন চলছিল, তখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের একজন শিক্ষক হাফিজুর রহমান তার ফেসবুক পাতায় এমন একটি মন্তব্য করেন, যার সারমর্ম হচ্ছে, বুয়েট হায়েনার হামলার শিকার হয়েছে, তাই সেটিকে গুলি করে হত্যা করে বুয়েটের সামনে ঝুলিয়ে রাখা হবে।

এই মন্তব্যটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে লেখা হয়েছে, এমন অভিযোগ এনে জননেত্রী পরিষদ নামে একটি সংগঠনের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী ঢাকার একটি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করে মি. রহমানকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানালেও, তিনি জামিন পান, কিন্তু বিচার শুরু হওয়ার পর তিনি আর আদালতে হাজির হন নি। ফলে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস কুমার পাল জানান, ''মামলাটিতে মোট পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। তাতে প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ও বাংলাদেশ দন্ডবিধিতে হাফিজুর রহমানকে পাঁচ আর দুইবছর করে মোট সাতবছর সাজা দেওয়া হয়েছে।''

তবে দুটি সাজা একসাথে চলবে বলে তাকে আসলে পাঁচবছর কারাভোগ করতে হবে বলে তিনি জানান।

হাফিজুর রহমানের গ্রেপ্তারের দিন থেকে এই সাজা কার্যকর হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।

এই অভিযোগ আনার সময় এ বি সিদ্দিকী জানান, যে ফেসবুকের ওই বার্তাটি পড়ে তার মনে হয়েছে যে এটি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করেই লেখা হয়েছে।

তবে হাফিজুর রহমান বলেছিলেন, এটি কোন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যে করে লেখা হয়নি, বরং হায়েনা বলতে অনিয়ম আর দুর্নীতিকে বোঝানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা কোন মন্তব্য বা বার্তার কারণে কারো সাজা হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে এটাই প্রথম। গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলছেন এই রায়ের পর, ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক হওয়া জরুরি।

''ফেসবুক বা ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাউকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে যদি কোন মন্তব্য করা না হয়, সেক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ না করাই ভালো। সেক্ষেত্রে আইনের ভুল ব্যবহার করা হতে পারে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার হওয়া উচিত ইতিবাচক। সেখানে কাউকে উদ্দেশ্যে করে হত্যার হুমকি, ধর্মকে কটুক্তি বা খারাপ মন্তব্য করা উচিত নয়।''

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করে ফেসবুকে ‘স্ট্যাটাস’ দেওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে উচ্চ আদালত তলব করে।

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ওই শিক্ষক নির্দেশ না মানায় ‌‌‌আদালত অবমাননার’ জন্য তার ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।