তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে গণভোট দিন: বিবিসি সংলাপে বিএনপি

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ন ম মুনির আহমদ চৌধুরী, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি নুরজাহান খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ন ম মুনির আহমদ চৌধুরী, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি নুরজাহান খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান।

বাংলাদেশের পরিবেশ এবং বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের বিষয়ে বিরোধী দলকে চিঠি দেয়ার বিষয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের দলীয় ফোরামে কোন আলোচনাই হয়নি।

প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুটি নিয়ে জনমত যাচাইয়ে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী চাইলে দু মিনিটে সংকটের সমাধান দিতে পারেন।

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বে প্যানেল সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ন ম মুনির আহমদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি নুরজাহান খান।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন তানজিমুল কামাল।

তিনি জানতে চান সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের যে কথা শোনা যাচ্ছিল। হঠাৎ করে কি সরকার পিছিয়ে গেলো ?

মোরশেদ খান বলেন, “সংলাপের যে গতিবেগ ছিল তা অনেকটাই ঝিমিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী আগে বলেছেন সংসদে বা বাইরে সংলাপ হতে পারে। নতুন করে বলছেন সংসদে হতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরাও সংলাপ চাই, কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে। এই বিষয়টি একজন মানুষের পক্ষে দুই মিনিটে সমাধান করা সম্ভব, তিনি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।”

হাছান মাহমুদ বলেন, “সরকার পিছিয়ে যায়নি। সংলাপের আহবান প্রধানমন্ত্রীই জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আহবানের পর বিরোধী দলীয় নেত্রী ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বললেন প্রধানমন্ত্রী সহ কেউ পালানোর পথ পাবেনা।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দলীয় ফোরামে চিঠি দেয়ার বিষয়ে কোন আলোচনা হয়নি। তবে সংলাপের দরজা খোলা আছে। আমরা সংলাপ চাই।”

একজন দর্শক বলেন, “হেফাজত বা হানাহানি চাইনা। চাই সুন্দর বাংলাদেশ। দয়া করে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিবেননা”।

মুনির আহমদ চৌধুরী বলেন, “সরকার পিছিয়ে গেছে। দেশবাসী আশা করে সংঘাত থেকে দেশ রক্ষা পাবে, সংলাপ হবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে”।

নুরজাহান খান বলেন, “সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই এগিয়ে আসতে হবে। বিরোধী দলকে বলছি হেফাজত বা জামায়াতের সঙ্গে থাকবেননা। আমরা চাই এ মূহুর্তে সংলাপ হোক। সরকারও ছাড় দিক। বিরোধী দলও ছাড় দিক”।

তিনি বলেন, “নো হেফাজত, নো জামায়াত। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কোন কথা নয়”।

একজন দর্শক বলেন সরকারের মন্ত্রীই তো হেফাজতের নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন তিনি হেফাজত নেতার কাছে গিয়েছিলেন সমাবেশ না করার অনুরোধ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে।

সদস্যপদ টিকিয়ে রাখতে সংসদে যাওয়া ?

ফাতেমা জান্নাতের প্রশ্ন ছিল শুধু মাত্র সদস্যপদ টিকিয়ে রাখতে বিএনপি সংসদে যায় তাহলে সেটি কতটুকু নৈতিক ?

মোরশেদ খান বলেন, “আমাদের কথা বলতে দেয়া হয়না বলে যাওয়া হয়না। যখনই বিএনপি সংসদে গেছে তখনি টুটি চেপে ধরে কথা বলতে দেয়া হয়না। সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার জন্য কোন কাজ আমরা করবোনা”।

নুরজাহান খান, “শুধু সদস্যপদ টিকিয়ে রাখার জন্য সংসদে যাওয়া পুরোপুরি অনৈতিক”।

একজন দর্শক বলেন, “জনগণ ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে তাদের কথা বলার জন্য। সংসদ সদস্যপদ রক্ষার জন্য সংসদে যোগদান মোটেও নৈতিক নয়”।

আরেকজন দর্শক বলেন, “আগে পরিবেশ তৈরি করতে হবে সংসদে যাওয়ার। সেটি করতে হবে সংসদ নেত্রীকেই। পরিবেশ তৈরি হলে বিরোধী দল সংসদে যাবে”।

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী দাবি করেন বিএনপি সরকারের মেয়াদের তুলনায় বর্তমানে বিরোধী দল সংসদে অনেক বেশী কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। বিরোধী দলীয় নেত্রী কতদিন সংসদে গেছেন ? তিনি সংসদে অনুপস্থিতির একটা রেকর্ড করেছেন।

মি: চৌধুরী বলেন বিরোধী দল সংসদে কথা বলার সুযোগ পায়না, তিনি সরকারকে সংসদে কথা বলার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, “সরকারকে অনুরোধ পরিবেশ তৈরি করুন। আর বিএনপিকে বলি শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত সংসদে থাকুন।”

সংখ্যালঘুরা নিরাপদ ?

স্বপন কুমার বড়ুয়া জানতে চান বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা ভবিষ্যতে নিরাপদ কি-না ?

মি চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি খুব কম দেশে আছে বলেই তিনি মনে করেন। চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়েছে কিন্তু রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশ হলেই জানা যাবে কারা এগুলো করেছে?”

তবে সম্প্রতি রামু, সাতকানিয়া, বাশখালি, উখিয়াসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের মন্দির এবং বাড়িঘরে হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নুরজাহান খান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ বলে তিনি মনে করেন না।

একজন দর্শক বলেন, “এ মূহুর্তে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়। শুধু মুসলিমরা কিন্তু এ দেশ স্বাধীন করেনি।”

আরেকজন দর্শক বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত বেশি হয়েছিলো”।

মোরশেদ খান বলেন, “বাংলাদেশী নাগরিকদের এক সঙ্গে কাজ করা উচিত। সংখ্যালঘুরা নিরাপদে থাকবে এটাই একটা সরকারের দায়িত্ব। আমরা বাবরি মসজিদ দেখতে চাইনা। সবাই স্বাধীনতার জন্য এক সাথে কাজ করছে"।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টেকনাফ বা সাতকানিয়ায় কারা কি করেছে সেটা স্থানীয়রা জানে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত করুন তাহলে বের হয়ে আসবে।

হাছান মাহমুদ বলেন, “অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেকে জেলে আছে"।

তিনি আরও বলেন, "সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণ এমনকি বিরোধী দলেরও দায়িত্ব আছে। দায়িত্ব আমাদের সবার। বিতর্ক না করে, সংখ্যালঘুদের আক্রমণের প্ররোচনা না দিয়ে আসুন সবাই মিলে সংখ্যালঘুদের রক্ষা করি”।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

রানা প্লাজা কোন সরকারের আমলে তৈরি হলো,কোন দলের লোকেরা এটি তৈরিতে সাহায্য করলো এই বিতর্ক নিয়ে এখনও প্রধান দুই দলের লোকেরা নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করছে। এটা খুবই দু:খজনক। সাধারণ জনগণ আশা করে না। দয়া করে দল ও মতের উর্ধ্বে থেকে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করুন।

আবু রাহাত রুবাইয়াত, স্টকহোম

Caretaker government system is must..must..

md.emran, Dhaka

দু দলই সংলাপের ব্যাপারে বড় বড় কথা বলে, কিন্তু ফলাফল কিছুই হচ্ছে না.

Abu Sheid

I can say only caretaker government is the only solution that might acceptable by all parties for election.

MOSTAFA, ITALIA

আমি আমাদের নেতাদের উপর চরম বিরক্ত।

মো: সাইফুদ্দিন, ঢাকা

আমাদের দেশে প্রধান দুটি দল, একজন অপরজন কে বিশ্বাস করেনা। সেখানে একটি দলের অধীনে নির্বাচন অন্য একটি দল কিভাবে মেনে নিবে ? আমরা এ পর্যন্ত যত সংসদ নির্বাচন দেখেছি তার মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট তা হলো পরাজিত দল বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, কারচুপি হয়নি।

মোহাম্মদ ইউনুস খলিল, ঢাকা।

তারেক রহমান বিএনপি এর নেতা কর্মীদের আন্দোলনে একটা জোয়ার সৃষ্টি করতে পারবেন,তাই সরকার ভীতু হয়ে দুদকের মাধ্যমে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে পাখি শিকার করতে চায়।

মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান, শেরপুর

The only solution to the current crisis in Bangladesh is an impartial Care Taker government. Ehtesham Huq, Edmonton

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আমি মনে করি অচিরে সরকারের উচিত হবে ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদেরকে নিয়ে সংলাপে বসা এবং তত্ত্বাবধায়ক বিষয়টি সমাধান করা। ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিয়ে সংলাপ করা ঠিক হবে না।

মিজানুর রহমান, লক্ষ্মীপুর

আমি মনে করি দুদলের কোন দলই সম্পূর্ণ ভাবে সংখ্যালঘূদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। আওয়ামীলীগ বুঝাতে চায় বিএনপি সংখ্যালঘূদের বিনাশ চায় আর বিএনপি বুঝাতে চায় আমরা তোমাদের শত্রু না। এ দুয়ের মধ্যে আছে সংখ্যালঘুরা। এটা নিয়ে সংসদে একটা আইন পাশ হওয়া উচিত সংখ্যালঘূদের উপর কোন নির্যাতন হলে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে।

রাজিব মুৎসুদ্দি, চট্রগ্রাম

দয়া করে গণভোটের ব্যবস্থা করুন। জনগন দুদলের পুতুল খেলা দেখতে চায়না। শান্তি চায়।

এম মুরশেদ আহমেদ, সিলেট

Well, All I want to say to both/any political team please dont forget this country is not just yours. So stop playing with it. As a Bangladeshi we want a proper solution and sort out all the problems. You dont have to do scientific equation to solve the problem just be honest with yourself you will find the way. I dont see any political party is really working to to develop the country. All they are doing increasing their bank balance. Imran BHUIYAN, Kiev, Ukraine

সাভার ট্রাজেডির বিচার হবে; তবে সেটা ঠেকায় পড়ে। এ ঘটনার দায়-দায়িত্ব সরকার, বিজিএমইএ, ট্রেড ইউনিয়ন, ভবন মালিক ও কারখানার মালিকবৃন্দকে গ্রহণ করতে হবে, সেসাথে মৃতদের পরিবারের পুনর্বাসন, পঙ্গুদের আজীবন পেনশন, আহতদের সুচিকিৱসার ব্যবস্থা রেখে কাজে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত পূর্ণ বেতন প্রদান করতে হবে।

তাজুল ইসরাম জুয়েল, ঢাকা

অনুষ্ঠান ভালো হয়েছে, বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ। আমার মনে হয়, আমরা তথা সরকার, বিজিএমইএ, মালিক পক্ষ, সবাই জানি কি করতে হবে। কিন্তু করা সম্ভব হয় না, কারন আমাদের খাওয়ার চাহিদা একটু বেশিই বেশি।

আদনান কামাল, রংপুর

প্রশ্ন হতে পারে আগামী নির্বাচন এ হেফাজত ইসলাম বিএনপিকে সমর্থন করবে, নাকি জামায়াত ইসলামীর আরেক নাম হেফাজত।

রায়হান, নীলফামারী

রানাকে কি উপযুক্ত শাস্থির আওতায় আনা হবে ?

সমীর মল্লিক, মুন্সীগঞ্জ