যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে সরকারি এজেন্টের গুলিতে আবারো ১ জন নিহত

ছবির উৎস, Reuters
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগের এজেন্টের গুলিতে মিনিয়াপোলিসে তিন সপ্তাহের মধ্যে আবারো এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, যার জের ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
মিনেসোটা সেনেটর জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তির নাম অ্যালেক্স প্রেট্টি। ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি মার্কিন নাগরিক এবং পেশায় একজন নার্স।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম দাবি করেছেন যে, এ ঘটনায় আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুঁড়েছে ফেডারেল এজেন্ট।
তবে এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে একে 'ননসেন্স ও মিথ্যে' বলে আখ্যায়িত করেছেন মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ।
ওদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিনিয়াপোলিসের মেয়র ও মিনেসোটার গভর্নরের বিরুদ্ধে উষ্কানি সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মিনিয়াপোলিসেই অভিবাসন ও কাস্টমস বিভাগের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্যের গুলিতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছিল। রেনি নিকোল গুড নামের ওই নারীও মার্কিন নাগরিক ছিলেন।
ওই ঘটনার পরেও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছিল যে, তিনি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই'র এজেন্টদের গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময় একজন এজেন্ট তার গাড়ির দিকে 'আত্মরক্ষামূলক গুলি' ছোড়েন।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Michael Pretti/AP
যা বলেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি
স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ফেডারেল অফিসারের গুলিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খরব বিবিসিকে নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস।
সংস্থার মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন জানান, বর্ডার পেট্রোল কর্মকর্তারা যখন একটি অভিযান চালাচ্ছিলেন, তখন একজন ব্যক্তি ৯ মি.মি. সেমি অটোমেটিক হ্যান্ডগান নিয়ে এগিয়ে আসে।
"অফিসার সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নিরস্ত্র করতে উদ্যোগী হলে অস্ত্রধারী ব্যক্তি সহিংস হয়ে ওঠে," ম্যাকলাফলিন বলেছেন।
তিনি বলেন, "নিজের জীবন এবং সহকর্মী অন্য কর্মকর্তাদের জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে মনে করে একজন এজেন্ট আত্মরক্ষার্থে তখন গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর্মীরা তখনি তাকে চিকিৎসা সহায়তা দেন। এরপর ওই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়।"
ম্যাকলাফলিন বলেন, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির কাছে দুটি ম্যাগাজিন ছিল কিন্তু কোনো পরিচয়পত্র ছিলো না।
এরপর বিক্ষোভকারীরা ঘটনাস্থলে এসে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাজে বাধা দেন ও তাদের হেনস্থা করেন।

ছবির উৎস, EPA
হৃদয়বিদারক ঘটনা
মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটদলীয় কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর বলেছেন, মিনিয়াপোলিসে ঘটে যাওয়া ঘটনা পুরোপুরি 'হৃদয়বিদারক, ভয়াবহ ও হতাশাজনক'।
"ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের সুরক্ষা দেওয়ার বদলে দমন করার চেষ্টা করছে," বলেছেন তিনি।
ওদিকে গভর্নর টিম ওয়ালজ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, ঘটনার পর তিনি হোয়াইট হাউজে কথা বলেছেন।
"আমি আজ সকালে ফেডারেল এজেন্টদের দ্বারা ঘটে যাওয়া আরেকটি ভয়াবহ গুলির ঘটনার পর হোয়াইট হাউজে কথা বলেছি। প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই এই অভিযান বন্ধ করতে হবে। সহিংস ও প্রশিক্ষণহীন কর্মকর্তাদের এখনি মিনেসোটা থেকে সরিয়ে নিতে হবে," লিখেছেন তিনি।
যদিও পরে বর্ডার পেট্রোল কমান্ডার গ্রেইগ বভিনো বলেছেন, 'আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোঁড়া হয়েছে এবং যেই অফিসার এর সাথে জড়িত তিনি খুবই প্রশিক্ষিত'।
তবে তিনি ওই কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করেননি।

ছবির উৎস, EPA
ফেডারেল এজেন্টদের মিনেসোটা ছাড়ার দাবি
মিনিয়াপোলিসে হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছেন ডেমোক্রেট দলীয় আইন প্রণেতারা। তারা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)কে মিনেসোটা ত্যাগের দাবি করেছেন।
"স্বৈরশাসন থেকে আমেরিকানদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের," কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ বলেছেন। "প্রকাশ্য দিবালোকে একজন মাকে গুলি করে হত্যার দু সপ্তাহ পর একজনকে গুলি করা হলো," বলেছেন তিনি।
কংগ্রেস সংখ্যালঘু দলের নেতা হাকিম জেফরিস জড়িত ফেডারেল এজেন্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহবান জানিয়েছেন।
কংগ্রেস সদস্য জেসমিন ক্রোকেট বলেছেন "ট্রাম্পের উচিত অযোগ্য, অপ্রশিক্ষিত ও সহিংস এজেন্টদের মিনেসোটা থেকে সরিয়ে আনা"।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দাবি করেছে, ফেডারেল এজেন্ট নিহত ব্যক্তিকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করেছিল।

ছবির উৎস, Reuters
বিক্ষোভ, টিয়ারশেল
ফেডারেল এজেন্টের হাতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর মিনিয়াপোালিসে তুমুল বিক্ষোভ করছে প্রতিবাদকারীরা।
তারা আইসিই কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি করছিল। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।
গত কিছুদিন ধরেই সেখানে এ ধরনের বিক্ষোভ হচ্ছিল। বিশেষ করে দু সপ্তাহ আগেই মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে এক নারীর মৃত্যুর পর থেকে।
ওই ঘটনার পরেও শহরের মেয়র জ্যাকব ফ্রে ওই ঘটনার পর ফেডারেল কর্মকর্তাদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করে শহর থেকে আইসিই এজেন্টদের চলে যাওয়ার দাবি জানান।
তখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন আইসিই কর্মকর্তার পদক্ষেপকে 'আত্মরক্ষা' হিসেবে সমর্থন করেছিলেন।








