ব্যাংকের তারল্য সংকট ও রিজার্ভ নিয়ে যশোরের জনসভায় যা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যশোরের জনসভায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা
ছবির ক্যাপশান, যশোরের জনসভায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা

আগামী জাতীয় নির্বাচনে মানুষ যেন নৌকা মার্কায় ভোট দেয়, যশোরের জনসভায় উপস্থিত লোকজনের কাছে সেই 'ওয়াদা' চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

চলমান রিজার্ভ ও ব্যাংকে তারল্য সংকটকে কেন্দ্র করে হওয়া আলোচনা ও সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দল বিএনপির অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি।

যশোরের শামসুল হুদা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগের সমাবেশ থেকে বিবিসি সংবাদদাতা আকবর হোসেন জানিয়েছেন এই সমাবেশে শেখ হাসিনা প্রায় ৩৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন।

যা বলেছেন শেখ হাসিনা

জনসভায় রিজার্ভের অর্থ নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন শেখ হাসিন।

তিনি বলেন, "অনেকে আমাদের রিজার্ভ নিয়ে কথা বলে যে, রিজার্ভ গেল কোথায়? রিজার্ভ কোথাও যায়নি, মানুষের কাজে লেগেছে।"

শেখ হাসিনা বলেন সরকার মানুষকে বিনামূল্যে কোভিড টিকা দিয়েছে, খাদ্যশস্য আমদানি করেছে, প্রয়োজনীয় সার আমদানি করেছে, মানুষের উন্নয়নমূলক নানা কাজে অর্থ খরচ হয়েছে।

আরো পড়তে পারেন:

সকাল থেকেই যশোর স্টেডিয়াম ও তার আশেপাশের এলাকাগুলোতে জড়ো হন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা
ছবির ক্যাপশান, সকাল থেকেই যশোর স্টেডিয়াম ও তার আশেপাশের এলাকাগুলোতে জড়ো হন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা

ব্যাংকে তারল্য সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান সাম্প্রতিক আলোচনা-সমালোচনারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

ব্যাংকে তারল্য সংকট চলছে বলে যেই আলোচনা তৈরি হয়েছে সেটিকে 'গুজব' বলে নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।

"অনেকে বলে ব্যাংকে টাকা নাই, কেউ কেউ ব্যাংক থেকে টাকা তোলে। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে রাখলে তো চোরে নিয়ে যাবে।"

"ব্যাংকে টাকা নাই কথাটা মিথ্যা। আমি গতকালও বাংলাদেশে ব্যাংকের গভর্নরসহ তাদের সাথে মিটিং করেছি। ব্যাংকে যথেষ্ট টাকা আছে," বলেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ভাল অবস্থানে রয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন দেশে রেমিট্যান্স আসছে, বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আসছে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, কর সংগ্রহের পরিমাণও বাড়ছে।

তিনি বলেন রিজার্ভ সংকট বা ব্যাংকে তারল্য সংকটের বিষয়ে গুজব প্রচার করে বিরোধীরা অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করতে চাচ্ছে।

যশোর স্টেডিয়ামে হওয়া এই সমাবেশে যশোর, খুলনা, মংলা, কুষ্টিয়াসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের দশটির বেশি জেলা থেকে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল।
ছবির ক্যাপশান, যশোর স্টেডিয়ামে হওয়া এই সমাবেশে যশোর, খুলনা, মংলা, কুষ্টিয়াসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের দশটির বেশি জেলা থেকে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল।

বিএনপির সমালোচনা

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বেশিরভাগ সময় জুড়ে তার সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন।

প্রসঙ্গক্রমে কয়েকবার প্রধান বিরোধীদল বিএনপির সমালোচনাও করেছেন তিনি।

মাথাপিছু আয়, অবকাঠামোগত স্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসনামলের তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি প্রশ্ন তোলেন- যেই দলের নেতা সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক তারা দেশের মানুষকে কী দেবে?

এই সমাবেশে যশোর, খুলনা, মংলা, কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের দশটির বেশি জেলা থেকে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল।

সকাল থেকেই যশোর স্টেডিয়াম ও তার আশেপাশের এলাকাগুলোতে জড়ো হন তারা।

আওয়ামী লীগের এই জনসমাবেশ এমন এক সময়ে আয়োজন করা হল যখন অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় জনসভা আয়োজন করে যাচ্ছে।
ছবির ক্যাপশান, আওয়ামী লীগের এই জনসমাবেশ এমন এক সময়ে আয়োজন করা হল যখন অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় জনসভা আয়োজন করে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের এই জনসমাবেশ এমন এক সময়ে আয়োজন করা হল যখন বিএনপি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় জনসভা আয়োজন করে যাচ্ছে।

তবে যশোর স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগের জনসমাবেশে অংশ নিতে আসা নেতাকর্মীরা বলছেন যে বিএনপির চলমান কর্মসূচির জবাবে পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে এই জনসভাকে দেখছেন না তারা।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মতে, আওয়ামী লীগের ১৪ বছরের শাসনকালে তাদের দল দেশের যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছে তা মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্যই এই জনসভা।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণ মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।