ফিলিপিন্সে নালগা ঝড়ের প্রভাবে বন্যা ও ভূমিধসে বহু মানুষের মৃত্যু

উদ্ধারকারীরা দাতু ওডিন সিনসুয়াট, মাগুইন্দানাওতে কাদা থেকে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে, ২৯ অক্টোবর ২২

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, উদ্ধারকারীরা মাগুইন্দানাওয়ের দাতু ওডিন সিনসুয়াতে কাদা থেকে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে৷
    • Author, জনাথন হেড ও লরেন্স পিটার
    • Role, বিবিসি নিউজ, ব্যাংকক, লন্ডন

ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশে তীব্র ঝড়ের প্রভাবে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

নালগা নামে ঝড়টি দেশটির মিন্দানাও দ্বীপের মাগুইন্দানাও প্রদেশে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া কোটাবাতো শহর ও এর আশেপাশে ব্যাপক বন্যা হয়েছে।

নালগার প্রভাবে উত্তরাঞ্চলও তলিয়ে গেছে। এই ঝড়ের প্রভাবে রাজধানী ম্যানিলাতেও প্রবল বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূমিধসের পর পুরু কাদা থেকে উদ্ধারকারীরা অনেক মৃতদেহ টেনে টেনে বের করে আনছেন।

ঝড়ো বাতাস ঘণ্টায় ৯৫ কিলোমিটার বা ৫৯ মাইল বেগে বইছে বলে জানা গেছে।

কোস্ট গার্ড দ্বীপপুঞ্জের বেশিরভাগ অংশে ফেরি চলাচল স্থগিত রেখেছে। দীপের বাসিন্দারা প্রতিদিন নৌকা নাহলে ফেরিতে যাতায়াত করে থাকেন।

কোস্টগার্ডরা এরিমধ্যে অনেক মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে।

ফিলিপিন্সে গত বৃহস্পতিবার থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয় এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঝড়ের ভয়াবহতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝড়ের কারণে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় স্কুল এবং বাস চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন:

হিলঙ্গোসে কোস্টগার্ড এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেছে।, লেইতে, ২৯ অক্টোবর ২২

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, লেইতের হিলঙ্গোস শহরে কোস্টগার্ডরা এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেছে।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

এর আগে শনিবার কর্মকর্তারা ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানালেও পরে তা সংশোধন করা হয়।

ফিলিপিন্সে সাধারণত বছরে ২০টি টাইফুন বা ঝড়বৃষ্টির সম্মুখীন হয়। এই ঝড় মূলত প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ঘনীভূত হয়।

নালগা যে খুব শক্তিশালী ঝড়, সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে এই ঝড়টির বিস্তৃতি অনেক বেশি।

দেশটির বেশিরভাগ অংশ জুড়ে এই ঝড় বয়ে যাচ্ছে এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

কিছু এলাকায় তাদের সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ফিলিপিন্সে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হল: এমন আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধস।

মূলত দেশটির ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এবং পাহাড়গুলো থেকে গাছপালা কেটে বন উজাড় করার কারণেই এমন একের পর এক দুর্যোগ আঘাত হানছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরির অবস্থান এই ফিলিপিন্সে। সেই পর্বতের ঢালে সম্ভাব্য কাদা ধসের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

দেশটির জরুরী সেবা সংস্থাগুলো এমন বড় বড় দুর্যোগ দ্রুত সামাল দেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট অভিজ্ঞা ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলেও বন্যায় বহ এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।