টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২২: নিউজিল্যান্ড কি রানার-আপ তকমা থেকে বের হতে পারবে?

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, রায়হান মাসুদ
- Role, বিবিসি বাংলা
সাত বছরের ব্যবধানে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে নিউজিল্যান্ড। দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আরেকটি টি-টোয়েন্টি। তিনটিতেই দ্বিতীয় হয়েছে দলটি।
গত আসরের ফাইনালিস্ট নিউজিল্যান্ড, এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের টি টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের পাঁচ নম্বর দল।
এবারে বেশ কঠিন একটা গ্রুপে পড়েছে দলটি।
গ্রুপ ওয়ানে নিউজিল্যান্ডের সাথে আছে টুর্নামেন্টের ফেভারিট দুই দল অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। আফগানিস্তানও আছে এই গ্রুপে। বাছাইপর্ব খেলে যোগ দেবে আরো দুটি দল।
ক্রিকেটারদের নিয়ে জানতে পারেন
কঠিন প্রতিপক্ষ
সবশেষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেবারও নিউজিল্যান্ড রানার আপ হয়েছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও রানার আপ হয় নিউজিল্যান্ড।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও একই রকম দল নিয়ে খেলতে যাবে দলটি।
ফাস্ট বোলিং, স্পিনে কার্যকরী বোলার ও এই কন্ডিশনে অভ্যস্ত ব্যাটসম্যান থাকার কারণে নিউজিল্যান্ডকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই।

ছবির উৎস, Getty Images
কেইন উইলিয়ামসনের ব্যাটিং
কেইন উইলিয়ামসনের অধীনস্থ দলটির ভাবনার জায়গা খোদ অধিনায়কের ব্যাটিংই।
গত এক বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে কম ছক্কা সবচেয়ে কম স্ট্রাইক রেট উইলিয়ামসনের।
তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলার ধরনের কারণে কখনো কখনো উইলিয়ামসন কার্যকরী হয়ে উঠতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ায় এমন ব্যাটসম্যানরা বেশ উপয়োগী হবেন যারা উইকেটের চারিপাশে বল মেরে দ্রুত প্রান্ত বদল করতে পারেন এবং উইকেটের মাঝে দ্রুত দৌঁড়াতে পারেন।
সাথে প্রথাগত ক্রিকেট শটেও উইলিয়ামসন বেশ পারদর্শী।
শক্তিশালী টপ অর্ডার
এই দলটার মূল শক্তির জায়গা টপ অর্ডার ব্যাটিং।
সেখানে ডেভন কনওয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে ভালো ব্যাট চালাচ্ছেন।
এগারো ম্যাচ ব্যাট করতে নেমে গত এক বছরে ৪২৫ রান তুলেছেন কনওয়ে। সদ্য শেষ হওয়া পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় টি টোয়েন্টি সিরিজেও সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন তিনি।
কনওয়ের ক্যারিয়ার স্ট্রাইক রেটের চেয়ে সাম্প্রতিক স্ট্রাইক রেট খানিকটা কমেছে বটে। ক্যারিয়ারে ২৭ ম্যাচে তার স্ট্রাইক রেট ১৩৫ হলেও, এই সিরিজে তিনি ১২৭ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন।
এক্ষেত্রে কনওয়ের সঙ্গী হিসেবে ফিন অ্যালেন ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন।
ফিন অ্যালেন ১৪৯ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করছেন গত এক বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী।

ছবির উৎস, Getty Images
নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার কারা আছেন?
নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারেন দলটির অলরাউন্ডাররা।
বিশেষত জিমি নিশাম- যিনি ১৭২ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করছেন। সাথে গ্লেন ফিলিপস।
গ্লেন ফিলিপস একজন বিশেষ ক্রিকেটার।
তিনি ব্যাট হাতে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন, দুর্দান্ত আউটফিল্ড ফিল্ডার একই সাথে স্পিন বল করতে পারেন তিনি।
দরকার পড়লে উইকেটের পিছনেও দাঁড়াতে পারেন গ্লেন ফিলিপস।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি ছক্কাও হাঁকিয়েছেন গ্লেন ফিলিপস।
নিউজিল্যান্ড দলটা নিয়ে এবারে বিশ্লেষকরা খুব বেশি মাতামাতি না করলেও দলটার সামর্থ্য রয়েছে সেমিফাইনাল এমনকি ফাইনালেও খেলার।
বোলিং আক্রমণ
বিশেষত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দলটির ফাস্ট বোলিং গতি ও সুইংয়ের মিশেলে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।
টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্টের ইকোনমি রেটও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট তুলনায় বেশ ভালো।
গত এক বছরে ইকোনমি রেট
- টিম সাউদি- ৭.৬৬
- ট্রেন্ট বোল্ট- ৬.৬৯

ছবির উৎস, Getty Images
নিউজিল্যান্ডের ইশ সোধি খুব একটা আলোচিত হন না আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। কিন্তু এই লেগস্পিনার ধারাবাহিক পারফর্মার।
গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন সোধি।
গত এক বছরে ২১ ম্যাচে ২৫টি উইকেট নিয়েছেন তিনি, নিউজিল্যান্ডের জন্য যা সবচেয়ে বেশি।
মিচেল স্যান্টনার নিউজিল্যান্ডের হয়ে পারফর্ম করছেন সাত-আট বছর যাবৎ।
গত এক বছর ধরে ওভারপ্রতি সাতের কম রান দিয়ে আসছেন তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে।
নিউজিল্যান্ডের স্পিন আক্রমণে আরও যোগ হয়েছেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। সম্প্রতি ত্রিদেশীয় সিরিজে তিনি নজর কেড়েছেন।
ব্রেসওয়েল ১২ ম্যাচ খেলে ১৫ উইকেট নিয়েছেন গত এক বছরে, রান দিয়েছেন প্রতি ওভারে ছয়ের কম, টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে যা বেশ ভালো বলেই বিবেচিত।
দলটার অভিজ্ঞতার ঝুলিও বেশ ভালো এবার।
মার্টিন গাপটিলের মত ওপেনার আছেন, অ্যাডাম মিলনে, উইলিয়ামসন, বোল্ট সাউদি- সবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আছেন এক দশক বা তারও বেশি সময় হয়েছে।
সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের সামনে বাধা বড় টুর্নামেন্টে বড় মঞ্চে হোঁচট খাওয়াটাই।
গত সাত বছরেই ওয়ানডে ও টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে গিয়ে হারার অভিজ্ঞতা আছে দলটির।








