রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: কিয়েভ এবং দেশের অন্যত্র রুশ 'কামিকাজি' ড্রোন হামলা, টার্গেট বিদ্যুৎ অবকাঠামো

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস সিমাহাল বলেছেন রাজধানী কিয়েভ এবং আরও দুটি অঞ্চলে "ইরানের তৈরি কামিকাজি ড্রোন" দিয়ে চালানো একের পর এক হামলায় জরুরি অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়, বড় ধরণের ক্ষতি হয়েছে।

তিনি জানান, রাজধানী শহর এবং আশপাশের এলাকা ছাড়াও ডেনিপ্রো এবং সুমি অঞ্চলে এসব হামলা হয়। এসব অঞ্চলের শত শত গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ইউক্রেনীয় একজন মন্ত্রী জানিয়েন গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৮৫টি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

কিয়েভে হামলা হয় স্থানীয় সময় আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে। সর্বশেষ হামলাটি হয়েছে সকাল ৮:১০ মিনিটে।

কিয়েভ থেকে বিবিসির পল অ্যাডামস জানিয়েছেন, নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোনের শব্দ ভেসে আসার পরপরই ইউক্রেনের রাজধানী শহরে বিমান বিধ্বংসী অস্ত্রের গুলির শব্দের প্রতিধ্বনি শোনা যায়।

দুটো বিস্ফোরণ হয়েছে শহরের কেন্দ্রের খুব কাছে। কিয়েভের প্রধান রেল স্টেশনের কাছে বিস্ফোরণ হয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎস্কো সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল টেলিগ্রামে লিখেছেন শহরে মোট চারটি হামলা হয়েছে, তবে নগরবাসীরা কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয়টি বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সর্বশেষ এসব রুশ ড্রোন হামলায় বেশ কজন মারা গেছে। কমপক্ষে সাতজনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে। কিয়েভে নিহত হয়েছে কমপক্ষে তিনজন।

ইউক্রেনের সরকার এবং পশ্চিমা সূত্রগুলো বলছে এসব ড্রোন রাশিয়া ইরান থেকে পেয়েছে। কিন্তু তেহরান কয়েকবার বলেছে এগুলো মিথ্যা প্রচারণা, ইরান কখনই রাশিয়াকে কোনো ড্রোন দেয়নি।

সপ্তাহখানেক আগে ইউক্রেন জুড়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ১৯ জন মারা যায়।

নির্ধারিত সমস্ত টার্গেটে আঘাত- মস্কো

রাশিয়া বলেছে তাদের সর্বশেষ হামলায় "নির্ধারিত সমস্ত টার্গেটে" আঘাত করা হয়েছে। মস্কো বলছে তাদের লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের "বিভিন্ন সামরিক কম্যান্ড এবং জ্বালানি অবকাঠামো।"

বন্দর শহর মিকোলাইভে "সুইসাইড ড্রোন হামলায়" সূর্যমুখী তেলের ভর্তি অনেকগুলো ট্যাংকে আগুন ধরে যায়, বলেছেন শহরের মেয়র ওলেকসান্ডার সেনকেভিচ।

তিনি জানান, কিয়েভে হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে অর্থাৎ রোববার গভীর রাতের দিকে তিনটি ড্রোন দিয়ে ঐসব তেলের ট্যাংকে হামলা চালানোর পরপরই সেগুলোতে আগুন ধরে যায়।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে রোববার রাত থকে ৩৭টি রুশ ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঐ ড্রোন উড়ে আসে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, "শত্রু আমাদের শহরে হামলা চালাতে পারে, কিন্তু আমাদের মনোবল ভাঙতে পারবে না।" তিনি বলেন রাশিয়া "বেসামরিক জনগণকে সন্ত্রস্ত করে তোলার" পথ নিয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎস্কো এই ধরণের হামলা প্রতিরোধে খুব শীঘ্রই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাবার জন্য তারা অপেক্ষা করছেন।

কিয়েভ থেকে রয়টার্স বার্তা সংস্থার একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন হামলায় ব্যবহৃত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া একটি যন্ত্রাংশে লেখা ছিল "এটি বেলগোরোদের জন্য।"

রাশিয়ার সীমান্তবর্তী শহর বেলগোরোদে গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার ড্রোন এবং রকেট হামলা হয় - যেগুলোর জন্য মস্কো ইউক্রেনকে দায়ী করে।