ইন্দোনেশিয়া: ফুটবল মাঠের বিপর্যয় সম্পর্কে কী বলছে দর্শকরা

দর্শকরা মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

ছবির উৎস, AFP VIA GETTY IMAGES

ছবির ক্যাপশান, দর্শকরা মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

ইন্দোনেশিয়ার জাভা প্রদেশের মালাং নামে যে শহরে শনিবার এক ফুটবল স্টেডিয়ামে ভয়াবহ বিপর্যয় হয়েছে সেই শহরের পুলিশ প্রধানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেছেন ফেরলি হিদায়াতকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তবে ঐ দুর্ঘটনায় তার দায় কী ছিল তা পরিষ্কার করে বলা হয়নি।

পুলিশের আরো নয়জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

খেলা শেষে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের জেরে হুড়োহুড়িতে কমপক্ষে ১২৫ জন নিহত হয়। এই ঘটনায় ৩২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, নিহতদের মধ্যে ৩২ জন ছিল শিশু। কর্তৃপক্ষ বলছে একজনের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর।

ম্যাচের পর সমর্থকরা মাঠের ভেতর ঢুকে পড়লে পুলিশ যেভাবে তা সামলানোর চেষ্টা করেছে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।। ঘটনা তদন্তে সরকার একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে।

আরো পড়তে পারেন:

ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রধান বলছেন স্টেডিয়ামে যেসব সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছিল তাদের মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।

যে দুটি দল এই ম্যাচে অংশ নিয়েছিল তার একটি হোম টিম আরেমা এফসির কোচ জাভিয়ের রোকা বলেছেন দর্শকদের অনেকেই ফুটবলারদের "হাতের ওপর মারা গেছেন।"

তিনি বলেছেন, এর ফলে তিনি "মানসিকভাবে বিধ্বস্ত" হয়ে পড়েছেন।

মাঠে পড়ে আছে পুলিশের বিধ্বস্ত যান।

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, মাঠে পড়ে আছে পুলিশের বিধ্বস্ত যান।

এই হোম টিম প্রতিদ্বন্দ্বী পেরসেবায়া সুরাবায়ার কাছে ৩-২ গোলে হেরে যাওয়ার পর আরেমা এফসির সমর্থকরা প্রতিবাদ জানাতে মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়ে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেছেন এসময় পুলিশ অসংখ্য রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

তিনি বলেন, স্টেডিয়ামের পরিস্থিতি "উত্তেজনাকর" হয়ে উঠলে পুলিশ "খুব দ্রুত এবং একনাগাড়ে" টিয়ার গ্যাস ছুঁড়তে থাকে।

সোশাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এরপর দর্শকরা প্রাচীর টপকে পালাতে চেষ্টা করে। কিছু কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে মাঠের ওপর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে।

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী চন্দ্রা বিবিসিকে বলেছেন প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

"ছোট ছোট বাচ্চারা কাঁদছিল, নারীরা অজ্ঞান হয়ে পড়ছিল, সবখানেই শোনা যাচ্ছিল মানুষের আর্ত চিৎকার, সবাই বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল," বলেন তিনি।

আরেকজন দর্শক ইকো বলেন, গেটের মুখে প্রচুর লোক জড়ো হওয়ার কারণে তিনি স্ট্যান্ড থেকে বের হতে পারছিলেন না।

"বন্ধুদের নিয়ে আমি স্ট্যান্ডের পেছন দিকে একদম উপরে চলে যাই। একটা স্কার্ফ দিয়ে আমি ধোঁয়া তাড়াতে চেষ্টা করি। এর পর আমি লাফ দিয়ে মাঠের ওপর পড়ে যাই এবং পাশের দরজা দিয়ে বের হয়ে আসি," বলেন তিনি।

মাঠে দর্শক

ছবির উৎস, REUTERS TV

ছবির ক্যাপশান, এই ঘটনায় অন্তত ১২৫ জন নিহত হয়েছে।

অনেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন স্টেডিয়ামের ভেতরে তারা দর্শকদেরকে তাদের সন্তানদের নাম ধরে চিৎকার করে ডাকতে শুনেছেন। এসময় অনেক পিতামাতা মাটিতে পড়ে যান।

"একজন মা তার শিশুকে বুকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। পাশে ছেলেটিও অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন কিছু দর্শক এসে তাদেরকে তুলে স্টেডিয়ামের বাইরে নিয়ে যায়। হয়তো কাঁদানে গ্যাসের কারণে তারা দু'জনেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল।"

একজন দর্শক মোহাম্মদ দিপো মাওলানা বলেন খেলা শেষ হওয়ার পর আরেমা এফসির কিছু সমর্থক মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়ে তাদের দলের খেলোয়াড়দের কাছে প্রতিবাদ জানানোর জন্য কিন্তু পুলিশ তাদেরকে বাধা দিয়ে "পেটাতে" শুরু করে।

এর পর আরো প্রতিবাদকারী মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়ে।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

শিশু কোলে নিয়ে দৌড়াচ্ছে এক দর্শক।

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, নিহতের মধ্যে ৩২ জন শিশু।

পুলিশের একজন মুখপাত্র দেদি প্রাসেতো সাংবাদিকদের জানিয়েছেন স্টেডিয়ামে পুলিশের যেসব কর্মকর্তা মোতায়েন ছিল তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তদন্তের পর মালাং শহরের পুলিশ প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার কমিশনও বলেছে যে এই ঘটনার ব্যাপারে তারা নিজেরা আলাদা করে তদন্ত করবে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের শীর্ষ ফুটবল লীগের সব ম্যাচ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।