রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: 'বেপরোয়া' পুতিনকে আমেরিকা ভয় করে না বলে বলছেন বাইডেন

ইউক্রেনের দনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরোশিয়া এবং খেরসনকে রাশিয়ার অভিন্ন অংশ বলে ঘোষণা করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, মি. পুতিন যা করছেন এবং বলছেন "তা বেপরোয়া এবং সরাসরি হুমকি।"

মি. বাইডেন বলেন, পুতিনের এই আচরণে "আমরা আতঙ্কিত নই।"

শুক্রবার ইউক্রেনের দখলকৃত এলাকা নিজস্ব বলে ঘোষণা করার সময় প্রেসিডেন্ট পুতিন পরোক্ষভাবে হুমকি দেন এই অঞ্চলগুলো রক্ষায় প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগে তিনি পেছপা হবেন না।

তিনি বলেন, এই চারটি অঞ্চল চিরদিনের জন্য রাশিয়ার অংশ হয়ে থাকবে।

মস্কোতে যে ভাষণে মি. পুতিন তার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন সেখানে আমেরিকা এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে তীব্র ক্রোধ উগরে দেন। ।

ভাষণের এক পর্যায়ে মি. পুতিন পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের পরোক্ষ হুমকি দেন। সে সময় তিনি বলেন, আমেরিকাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে পারমাণবিক বোমা ফেলে পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের প্রথম 'নজির' তৈরি করেছে।

এক সপ্তাহে মি. পুতিন এনিয়ে দ্বিতীয়বার পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের হুমকি দিলেন।

গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দ্বিধা করবেন না এবং কারো যেন মনে না হয় যে তিনি 'ধাপ্পা' দিচ্ছেন।

মি. পুতিন এবং রুশ নেতারা এখন বারবার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন যে রুশ দখলে থাকা ইউক্রেনের এলাকাগুলোতে যে কোনো হামলাকে মস্কো এখন থেকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের ওপর হামলা হিসাবে দেখবে, এবং তেমন হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

বাইডেনের পাল্টা শাসানি

ওদিকে রুশ প্রেসিডেন্টের ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পুতিনের এই আচরণে "আমরা আতঙ্কিত নই।"

"আমেরিকা এবং তার মিত্রদের ভয় দেখানো যাবেনা... নেটো সদস্যদের সাথে মিলে নেটো জোটভুক্ত এলাকার প্রতিটি ইঞ্চি জমি রক্ষা করা হবে, এবং সে কাজের জন্য। আমেরিকা পুরোপুরি প্রস্তুত। "

হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে তিনি রুশ প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে আঙ্গুল উঁচিয়ে বলেন, "মি. পুতিন আমি যা বলছি তা নিয়ে যেন আপনার কোনও সংশয় না থাকে: প্রতিটি ইঞ্চি।"

তবে মি. বাইডেনের বক্তব্যের পরপরই তার প্রধান একজন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করা যায়না, "কিন্তু তেমন সম্ভাবনা সহসা নেই বলেই মনে হয়।"

নেটো জোটের মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ বলেছেন ইউক্রেনের আরও কিছু এলাকা নিজের অংশ বলে রাশিয়ার এই ঘোষণা মারাত্মক বিপদের সূচনা করেছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর এখন পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

নেটো মহাসচিব বলেন ইউক্রেনের ভূমি রাশিয়া জোর করে তাদের অংশ করে নিলে জোটের সদস্য দেশগুলো "তা কোনোদিন মেনে নেবেনা।"

ইউরোপীয় ইইনিয়ন কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন বলেন "ইউক্রেনের ভূমি অবৈধভাবে রাশিয়ার অঙ্গীভূত করা নিয়ে পুতিনের সিদ্ধান্তে বাস্তবতা বিন্দুমাত্র বদলাবে না।"

তিনি বলেন,"আগ্রাসী রুশরা যেসব এলাকা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে সেগুলো ইউক্রেনের জমি, এবং সেগুলো সার্বভৌম ইউক্রেনের অংশ হয়েই থাকবে।"

রাশিয়ার যুক্তি যে ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণের ঐ চারটি অঞ্চলের বাসিন্দারা এক গণভোটে রাশিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবে পক্ষে ভোট দিয়েছে। যদিও ইউক্রেন এবং তার মিত্ররা বলছে ঐ গণভোট ছিল অবৈধ এবং জালিয়াতি।

কিন্তু ইউক্রেন প্রায় সাথে সাথে ঐ চারটি অঞ্চল স্বাধীন করার প্রতিজ্ঞা করেছে। শুক্রবারই তারা নেটো জোটের সদস্যপদের জন্য দ্রুত আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে ইউক্রেনকে জোটের সদস্য করোর প্রশ্নে নেটো মহাসচিব মি. স্টলটেনবার্গ পরিষ্কার করে কিছু বলতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন , এমন সিদ্ধান্ত জোটের ৩০টি সদস্য দেশের ওপর নির্ভর করবে।

আরও পড়তে পারেন:

রুশ সৈন্যরা ঘেরাও?

ওদিকে, শুক্রবার মি. পুতিন যখন মস্কোতে বসে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে তার দেশের অংশ বলে ঘোষণা করছিলেন সে সময় ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানায় তারা পূর্বের দনেৎস্ক অঞ্চলের লাইম্যান শহরে রুশ সৈন্যদের ঘিরে ফেলেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় ইউক্রেনের সৈন্যরা কৌশলগত-ভাবে গুরুত্বপূর্ণ লাইম্যানের মাত্র নয় মাইল দক্ষিণ-পূর্বে ইয়ামপিল শহরের কেন্দ্রে ঢুকে পড়েছে।

লাইম্যানে কত জন রুশ সৈন্য রয়েছে তা পরিষ্কার না। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলছেন, প্রায় পাঁচ হাজার। কিন্তু নির্ভরযোগ্য কোন সূত্র থেকে এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ওদিকে, ইউক্রেন বলছে দক্ষিণের জাপোরিসা পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মহাপরিচালককে শনিবার সকালে রুশ সৈন্যরা আটক করে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে গেছে।

যদিও ইউক্রেনের এসব দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।