আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মান্না দে: হিন্দি গান গেয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে বাংলায় যেভাবে গাইতে শুরু করেন
প্রায় সাত দশকের সঙ্গীত জীবনে মান্না দে বাংলা ছাড়াও বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার গান গেয়েছেন।
এর মধ্যে যেমন রয়েছে অসংখ্য সিনেমার গান, তেমনই রয়েছে ধ্রুপদী সঙ্গীত, আধুনিক গান, রবীন্দ্রসঙ্গীত আর নজরুল গীতি।
মান্না দে'র গান শেখা শুরু তার কাকা - ১৯২০ ও ৩০-এর দশকের বিখ্যাত গায়ক কৃষ্ণচন্দ্র দে'র কাছে। কৃষ্ণচন্দ্র দে ছিলেন অন্ধ এবং ভ্রাতুষ্পুত্র মান্না দে ছিলেন একাধারে তার শিষ্য ও সহকারী।
উস্তাদ দবির খানের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে, যখন সিনেমায় প্লেব্যাক গাইছেন, তখনও উস্তাদ আমান আলি খান ও উস্তাদ রহমান খানের কাছে গান শিখেছেন।
কাকা কৃষ্ণচন্দ্র দে-র সঙ্গে গান গাওয়ার জন্য মান্না দে মুম্বাইতে পাড়ি দেন ১৯৪২ সালে।
কিছুকাল পরই সিনেসায় প্লেব্যাকের সুযোগ পান। 'তামান্না' ছবিতে সুরাইয়ার সাথে দ্বৈতকণ্ঠে 'জাগো এয় ঊষা' গানটি প্লেব্যাকে তার প্রথম গান।
তবে হিন্দি সিনেমায় তার প্রথম একক হিট গান ১৯৪৩ সালে 'উপর গগন বিশাল'।
শচীন দেব বর্মন এবং অন্যন্য সঙ্গীত পরিচালকদের সুরে ১৯৪০, ৫০ ও ৬০-এর দশকে প্রচুর কালজয়ী সিনেমার গান উপহার দিয়েছেন তিনি।
১৯৫৩ সালে 'কতদূরে আর নিয়ে যাবে বলো' গানটি তার রেকর্ড করা প্রথম বাংলা গান। ১৯৬০-এর দশক থেকে বাংলা সিনেমায় প্লেব্যাকেও তিনি ছিলেন অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কণ্ঠশিল্পী।
বাংলা আর হিন্দী ছাড়াও অসমীয়া, মারাঠি, মালয়ালম, কন্নড় প্রভৃতি ভাষাতেও প্রচুর গান গেয়েছেন মান্না দে। আর সব ভাষাভাষী মানুষের কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। পেয়েছেন দেশ বিদেশের অজস্র পুরস্কার।
ভারত সরকার তাঁকে সম্মানিত করেছে চলচ্চিত্র ক্ষেত্রের জন্য সর্বোচ্চ পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে। তার আগে পদ্মশ্রী এবং পদ্মভূষণ সম্মাননাও পেয়েছেন মান্না দে।
হিন্দি সিনেমায় মান্না দে'র কণ্ঠে শ্রী ৪২০ ছবির 'পেয়ার হুয়া ইকরার হুয়া', ওয়াক্ত ছায়াছবির 'এয় মেরি জোহরা জবি', পড়োসান ছবির 'এক চতুরনার'-এর মতো কালজয়ী গান এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
একই সঙ্গে মান্না দে'র গাওয়া বাংলা গানের তালিকাও সুদীর্ঘ। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা কয়েকটি বাংলা গানের মধ্যে রয়েছে 'কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই', 'এই কুলে আমি, 'সেই তো আবার কাছে এলে, 'ললিতা, ওকে আজ চলে যেতে বল না', 'আমার ভালবাসার রাজপ্রাসাদে', 'যখন কেউ আমাকে পাগল বলে', 'আমি যামিনী তুমি শশী হে', 'কাহারবা নয় দাদরা বাজাও', 'শাওন রাতে যদি', 'আমি শ্রী শ্রী ভজহরি মান্না', 'আমার ভালবাসার রাজপ্রাসাদে', 'আমি যে জলসাঘরে'।
নব্বইয়ের দশকে বিবিসি বাংলার লন্ডন স্টুডিওতে এসেছিলেন তিনি। মানসী বড়ুয়ার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছিলেন কীভাবে তিনি বাংলা গান গাইতে শুরু করলেন। সাক্ষাৎকারটি শুনতে পাবেনআমাদের ইউটিউব চ্যানেলেও।
বিবিসি বাংলায় আরও দেখতে পারেন: