আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আবহাওয়া: বুধবার বিকাল থেকে কমে আসতে পারে বাংলাদেশে টানা বৃষ্টিপাতের প্রকোপ
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত হলেও বুধবার বিকাল থেকে সেটা কমে আসবে। এরপরেও বৃষ্টি থাকবে তবে এরকম অতিভারী বা ভারী বর্ষণটা কমে আসবে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদেরা।
গত কয়েকদিন ধরে ঢাকাসহ সারাদেশে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতায় অনেক স্থানে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষ।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের ওপরে বাতাসের চাপ বেশি ছিল। এই কারণে বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। তবে বুধবার বিকেলের পর থেকে সেটা কমে আসবে বলে তাদের ধারণা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার বিকাল পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় বৃষ্টিপাতের মাত্রা হতে পারে ৪৪-৮৮ মিলিমিটার থেকে শুরু করে আরও বেশি।
এই সময় আকাশ মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ছয়টা থেকে বুধবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত ঢাকায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত ৪৪ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে সেটাকে ভারী বৃষ্টি বলা হয়।
বঙ্গোপসাগরে যে সুস্পষ্ট লঘুচাপটি তৈরি হয়েছিল, সেটি সরে এখন ভারতের দক্ষিণ মধ্য প্রদেশ এলাকায় রয়েছে। এটি আরও পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
ফলে আশেপাশের এলাকায় এই লঘুচাপের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে দূরে থাকলেও সেটার প্রভাবেই এখানেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
শহরাঞ্চলে ভোগান্তি
গত দুইদিনের মতো সকাল থেকে বৃষ্টি হতে থাকায় ঢাকা ও বড় শহরগুলোর বাসিন্দা যানজট ও ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
বুধবার সকালে ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে অফিস বা স্কুলগামী অনেককে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
অনেককেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে পড়ে থাকার অভিযোগ করতে শোনা গেছে।
জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা, প্লাবনের খবর
পূর্ণিমা ও বায়ুচাপের পার্থক্য বেশি থাকার কারণে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে এক থেকে দুই উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করেছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সেখানে কতটা পরিবর্তন এসেছে, সেটা বিকাল নাগাদ বুঝতে পারা যাবে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।
তবে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় অনেক এলাকায় জোয়ারের কারণে পানি ঢুকে পড়েছে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
খেয়ালি আবহাওয়া
গত মাসের শেষে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, চলতি বছরের বর্ষাকালে অর্থাৎ জুলাই ও অগাস্টে গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সঙ্গে এই দুমাসের মধ্যে অন্তত পনের দিন দেশের কোন না কোন জায়গায় দাবদাহের মতো পরিস্থিতি দেখা গেছে, যা অনেকটাই নজিরবিহীন।
এ অবস্থার কারণে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পাশাপাশি সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও বেড়ে গিয়েছিল। তাই দিনের পাশাপাশি রাতেও যথেষ্ট গরম অনুভূত হয়েছে।
কিন্তু হঠাৎ করে আবহাওয়ার এমন আচরণের জন্য মৌসুমি বায়ুর খেয়ালি আচরণকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে শরৎ ঋতুতে এসে, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বৃষ্টির ঘনঘটা দেখা যেতে শুরু করে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়ার একটি নিম্নচাপের কারণে বাংলাদেশেও বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সেই নিম্নচাপটি এখন সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে।
আবহাওয়ার খেয়ালি আচরণের কারণ কী
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহের জন্য কম বৃষ্টি, বাতাসের গতিবেগ কমে যাওয়া, জলীয় বাষ্পের আধিক্য, সর্বোচ্চ ও সর্ব নিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য কমে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান।
সেইসাথে গত এক দশকে গ্রীষ্ম ক্রমে দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং শীতকালেও গড় তাপমাত্রা বেশি থাকছে।
সেইসাথে বর্ষাকালে বৃষ্টির পরিমাণও কমে গিয়েছে আশঙ্কাজনক হারে। বৃষ্টিপাত হচ্ছে অন্য মৌসুমে। এর পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে মূল কারণ হিসেবে দুষছেন আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান।
মি. মান্নান বলেন, "জুন মাসে উত্তর পূর্বাঞ্চল বৃষ্টিতে ভেসে গেল। অথচ এই মাসে খরা পরিস্থিতি। বর্ষা আচরণ কিছুটা বৈচিত্র্যপূর্ণ যেমন এক বছরে বৃষ্টি বেশি হয়, আরেক বছর কম। কিন্তু এতো দীর্ঘদিন ধরে তাপপ্রবাহ থাকাটা অস্বাভাবিক।
মূলত, ২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে আবহাওয়ায় এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে মেঘ পুঞ্জিভূত হতে পারছে না। গরম বাতাসের ধাক্কায় মেঘে যে পানি থাকে তা বৃষ্টি হয়ে নামার আগেই বাষ্প হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, তীব্র গরমের কারণে বাতাসের স্বাভাবিক গতি প্রবাহে পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাবে ফসলের আবাদ কমে যাচ্ছে যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে সেইসাথে নতুন ধরণের রোগবালাই দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।