আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেবে না বলে জানতে পেরেছেন ট্রাম্প
- Author, ট্যাবি উইলসন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে তেহরানের পক্ষ থেকে তার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার কারণে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা তিনি এখনো উড়িয়ে দেননি।
বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসনকে "বিশ্বস্ত সূত্রে" জানানো হয়েছে যে "ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই"।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "অন্য পক্ষের খুব গুরুত্বপূর্ণ সূত্র" তাকে এ তথ্য দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খবরটি সত্য হবে।
এরইমধ্যে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উভয়েই কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে। বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএসকে সেখানকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আংশিক মার্কিন প্রত্যাহার একটি 'সতর্কতামূলক ব্যবস্থা'।
এদিকে গত রাতে ইরানের আকাশপথ প্রায় সব ধরনের ফ্লাইটের জন্য পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। কয়েকটি এয়ারলাইন জানিয়েছে, তারা ইরান এড়িয়ে নতুন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং এখন থেকে দূরবর্তীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রার পতন নিয়ে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হলেও তা দ্রুত দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বৈধতা সংকটে রূপ নেয়।
ট্রাম্প এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যদি সরকার বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তবে ইরানের বিরুদ্ধে "খুব কঠোর পদক্ষেপ" নেওয়া হবে। এর আগে খবর আসে, বিক্ষোভ চলাকালে গ্রেফতার হওয়া ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এরফান সোলতানিকে বুধবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল বলে তার পরিবার বিবিসি পার্সিয়ানকে জানিয়েছিল। পরে তারা নরওয়ে-ভিত্তিক কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাওকে জানায়, তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ সোলতানির পরিবারের কাছে মামলার বিষয়ে আর কোনো তথ্য দেয়নি। শুধু জানিয়েছে, তিনি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন।
পোশাকের দোকানের মালিক সোলতানি গত সপ্তাহে তেহরানের পশ্চিমে ফারদিস শহর থেকে আটক হন।
সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ডের খবরের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, "ফাঁসি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না" এবং "আজ বা কাল কোনো ফাঁসি হবে না"।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে আরাঘচি বলেন, "জুন মাসে যে ভুল করেছিলেন, তা পুনরাবৃত্তি করবেন না"।
তিনি আরও বলেন, "আপনি যদি ব্যর্থ অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করেন, তবে একই ফল পাবেন"।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল, আশঙ্কা ছিল তেহরান সেগুলো ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।
তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাসের সাময়িক বন্ধের পাশাপাশি সৌদি আরবে মার্কিন মিশন তাদের কর্মী ও নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে, "অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং অঞ্চলের কোনো সামরিক স্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত করুন"।
ইতালি ও পোল্যান্ড তাদের নাগরিকদের ইরান ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে, আর জার্মানি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেছে যাতে তারা ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ না করে। কারণ হিসেবে "সংঘাত বৃদ্ধি ও বিমানবিধ্বংসী অস্ত্রের" সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।
জার্মান বিমান সংস্থা লুফথানসা জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইটগুলো "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত" ইরান ও ইরাকের আকাশসীমা এড়িয়ে চলবে।
দোহায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তাদের কর্মীদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন এবং আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত করার পরামর্শ দিয়েছে। কাতারের সরকার জানিয়েছে, তারা নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে "সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা" অব্যাহত রাখবে।
আল-উদেইদ মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা এবং প্রায় ১০০ জন ব্রিটিশ কর্মী অবস্থান করছেন। কতজন ঘাঁটি ছাড়বেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
এর আগে এই সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে ইরানিদের উদ্দেশে আহ্বান জানান "বিক্ষোভ চালিয়ে যান" এবং প্রতিশ্রুতি দেন "সহায়তা আসছে"।
ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে সমর্থন দিতে অনিচ্ছুক। বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি"।
ইরানি বিরোধী নেতা রেজা পাহলভী—যিনি ইরানের শেষ শাহের নির্বাসিত পুত্র—তাকে সমর্থন দেবেন কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, "আমি জানি না তার দেশ তাকে নেতৃত্ব হিসেবে গ্রহণ করবে কি না। তবে যদি করে, আমার কোনো আপত্তি নেই"।
তিনি আরও বলেন, "তাকে দেখে খুব চমৎকার মানুষ মনে হয়, কিন্তু আমি জানি না নিজের দেশে তিনি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবেন"।
তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে অনেক ইরানি পাহলভীর প্রত্যাবর্তনের দাবি জানিয়েছে। তবে দেশে তার সমর্থনের পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন।
ট্রাম্প আরও বলেন, বিক্ষোভের কারণে ইরানি সরকার পতন হতে পারে, তবে যোগ করেন, "যেকোনো সরকারই পতন হতে পারে"।
গত বৃহস্পতিবার থেকে তেহরান দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছে, একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা বাড়িয়েছে।
বিবিসি এবং বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও ইরানের ভেতর থেকে খবর সংগ্রহ করতে পারছে না, ফলে তথ্য পাওয়া ও যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ অ্যাজেন্সি বা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২,৪৩৫ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, যাদের মধ্যে ১৩ জন শিশু। সংস্থাটি বলছে, আরও ৮৮২টি মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে।