ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের নতুন সেনসেশন এরলিং হালান্ড কে? তাকে নিয়ে কেন সবাই উচ্ছসিত?

ছবির উৎস, Getty Images
পাঁচ ম্যাচে দুই হ্যাটট্রিক আর সব মিলিয়ে নয় গোল - ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এখনই একের পর এক রেকর্ড ভাঙ্গছেন তিনি।
ম্যানচেস্টার সিটিতে এসেই নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন এরলিং হালান্ড।
ঠিক চারদিন আগে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি, সেই পরিস্থিতি থেকে হ্যাটট্রিক করে দলকে জয় এনে দিয়েছেন এই নতুন রিক্রুট।
আর নটিংহ্যাম ফরেস্টকে বুধবার রাতে ৬-০ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।
এই ম্যাচে আবারও হ্যাটট্রিক করলেন এরলিং হালান্ড।
প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে আর কোনও ফুটবলার নিজের প্রথম পাঁচ ম্যাচে নয়টি গোল করতে পারেননি, হতে পারেননি দুটি হ্যাটট্রিকেরও মালিক।
প্রতিপক্ষ দল ফরেস্টের ম্যানেজার ম্যাচ শেষে বলেন, "সে ব্রিলিয়ান্ট। সবই আছে তার।"
বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে ডিওন ডাবলিন বলেন, "ম্যানচেস্টার সিটির কাছে এখন পৃথিবীর সেরা স্ট্রাইকার আছে।"
আর ফুটবল পন্ডিতরাএখন মোটামুটি একমত, হালান্ড যদি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে থাকেন, তবে গোল করার সব রেকর্ড ভাঙবেন তিনি।
এরলিং হালান্ডের বয়স এখন মাত্র ২২।
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post
হালান্ডকে নিয়ে উচ্ছসিত গার্দিওলা
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাত্র সাত জন ফুটবলার টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন - যার মধ্যে হালান্ড একজন। নরওয়ের এই খেলোয়াড়ের প্রিমিয়ার লিগে এসেছেন এক মাসও হয়নি।
শুধুমাত্র হেরি কেইন এই কীর্তি করেছেন একাধিকবার।
প্রিমিয়ার লিগ শুরু হয় অগাস্ট মাসে -আর মাস ফুরোনোর আগে হালান্ডের গোল সংখ্যা পাঁচ ম্যাচে নয়।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে দীর্ঘদিন খেলা রাহিম স্টারলিং ও কার্লোস তেভেজের ক্লাব ক্যারিয়ার হ্যাটট্রিকের সমান সংখ্যক হ্যাটট্রিক করে ফেলেছেন হালান্ড নিজের প্রথম মাসেই।
ক্লাবের হয়ে তাদের চেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক করেছেন শুধুমাত্র সার্জিও অ্যাগুয়েরো - চারটি।
সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা অবশ্য মনে করেন যে দল যদি কোন শিরোপা জিততে না পারে, তবে হালান্ডের এসব ব্যক্তিগত কৃতিত্বের খুব একটা লাভ নেই।

ছবির উৎস, Getty Images
অ্যাগুয়েরোকে লিজেন্ড আখ্যা দিয়ে গার্দিওলা বলেছেন "সিটি ফ্যানদের মন থেকে কেউই আগুয়েরোর নাম মুছে ফেলতে পারবে না।"
তার মতে, আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করেছেন অ্যাগুয়েরো (২০১২ সালের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শেষ দিনের শেষ মুহূর্তে গোল করে অ্যাগুয়েরো ম্যানচেস্টার সিটিকে ৪৪ বছর পরে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন)।
পেপ গার্দিওলা বিশ্বাস করেন, সার্জিও অ্যাগুয়েরো এবং হালান্ডের প্রতিভা একই ঘরানার।
"নরওয়ে, অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে তিনি নিজেকে প্রমাণ করে এসেছেন, এখানেও তিনি একই মানের ফুটবল খেলবেন।"
ওয়েলসের সাবেক ফুটবলার অ্যাশলে উইলিয়ামস 'বিবিসি ম্যাচ অফ দ্য ডে'-তে বলেন, "তিনি ডিফেন্ডারদের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে খেলা কঠিন এবং তিনি পরিপূর্ণ একজন স্ট্রাইকার।"
"আমরা যদি এই মৌসুমে তার গোলগুলো দেখি, তাহলে দেখো তিনি সত্যিই একজন যথাযথ স্ট্রাইকার। তার গোল করার দক্ষতা উঁচুমানের। আমি তাকে পুরো মৌসুম আগ্রহভরে দেখতে চাই, কারণ তিনি গোল করেই চলবেন।"
কে থামাবে হালান্ডকে
এটা এখন প্রশ্ন উঠছে, এই মৌসুমে হালান্ডকে কেউ কি থামাতে পারবে?
টুইটারে জো বাজার্ড লিখেছেন, "এরলিং হালান্ডের ডিফিকাল্টি লেভেল কেউ কি বাড়িয়ে দিতে পারেন? সবকিছুই যেন তার জন্য পানির মতো সহজ।"
ডিফিকাল্টি লেভেল মূলত কম্পিউটার গেমসের ভাষা, যা দিয়ে গেমসটি কতোটা কঠিন তা বোঝা যায়।
কেউ কেউ এমন পরামর্শও দিচ্ছেন যে এখনই হালান্ডকে গোল্ডেন বুট দিয়ে দেয়া হোক।
ইংল্যান্ডের কিংবদন্তী ফুটবলার গ্যারি লিনেকার টুইটারে লিখেছেন, "অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে মনে হচ্ছে হ্যারি কেইনের আগেই হালান্ড অ্যালান শিয়েরারের গোল-রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন"।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক অ্যালান শিয়েরারের গোল সংখ্যা ২৬০। এখনও যারা ফুটবল খেলছেন, তাদের মধ্যে তার ধারে কাছে আছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ১৮৭ গোল।
পাঁচ ম্যাচে ৯ গোল করা হালান্ডকে নিয়ে তাই লিনেকারের এই বাড়তি উচ্ছাস।

ছবির উৎস, Getty Images
কে এই এরলিং হালান্ড?
নরওয়েজিয়ান হালান্ড সবার নজরে আসেন জার্মান লিগের ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে খেলার সময়ে।
তবে তার জন্ম ইংল্যান্ডের লিডসে, ২০০০ সালে।
তার বাবা এলফি হালান্ডও এক সময় ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলতেন। আর মা গ্রি ম্যারিটা ব্রট খেলতেন হেপটাথলন।
বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে ৬৭ ম্যাচে ৬২ গোল করেছিলেন তিনি। নরওয়ের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২১ ম্যাচে গোল করেছেন ২০টি।
এখন তাকে বর্ণনা করা হচ্ছে আধুনিক ফুটবলের গোলমেশিন হিসেবে।








