সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তার: কর্তৃপক্ষের অনুমতির বিধান বাতিলের রায় স্থগিত

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীদের কোন মামলায় গ্রেফতার করার আগে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নেবার যে বিধান ছিল সেটি বাতিল করে দেয়া হাইকোর্টের রায় সেপ্টেম্বর মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।
সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিটের শুনানির পর বিধানটি গত মাসের ২৫ তারিখ বাতিলের রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন করে।
রিটের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বিবিসিকে বলেছেন, "রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিল আবেদনের শুনানি ২৩ তারিখ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। সেই পর্যন্ত রায়টি কার্যকর হওয়া স্থগিত করা হয়েছে।"
বাংলাদেশে সরকারি চাকরি আইনের একটি ধারা অনুযায়ী কোনও সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে তার দায়িত্ব পালনের সাথে সম্পর্কিত অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের হলে আদালতে চার্জশিট গ্রহণের আগে তাকে গ্রেফতার করা যাবে না এমন বিধান ছিল।
যদি গ্রেফতার করতে হয় তাহলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। এই ধারাটি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামালার কার্যক্রম পরিচালনায় সমংক্ষেপনের জন্য এই ধারাটিকে দায়ী করা হয়।

ছবির উৎস, Getty Images
এই ধারার কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলাজনিত মামলায় তদন্তে দেরি হয় এবং সেকারণে আইনের ফাঁক গলে প্রকৃত অপরাধীদের পার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেই ধারা বাতিল করার রায়ে হাইকোর্ট বলেছিল, দেশের সংবিধানের সাথে সরকারি চাকরি আইনের এই ধারাটি সাংঘর্ষিক, বেআইনি, সংবিধান ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
রায় ঘোষণার দিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন বিবিসিকে বলেছিলেন,"সরকারি কর্মচারীদের হয়রানি করার জন্য অনেকে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। মামলা দায়ের হওয়ার সাথে সাথে যদি তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় দেখা যায় পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং তিনি খালাস পেয়ে বের হয়ে আসেন"।
"এই যে মাঝখানের ভোগান্তি সেটা নিরসন করার জন্য ও সরকারি কাজের সুবিধার জন্য বিধানটি করা হয়েছে। সবাই কিন্তু সমান হবে না। এখানে জনগণ একটা ক্লাস, সরকারি কর্মচারীরা একটা ক্লাস। তাই এখানে সংবিধানের ব্যত্যয় হয়নি। "
তিনি তখনই বলেছিলেন যে আইনের এই ধারাটি বলবত রাখতে তারা সবোর্চ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন।








