রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: খেরসনে ইউক্রেনের রকেট হামলায় গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলো রাশিয়া

ছবির উৎস, STRINGER
ইউক্রেনের রকেট হামলার কারণে দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন শহরের সাথে দনিপার নদীর পূর্ব পারের সংযোগ-রক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে রাশিয়া।
ইউক্রেনীয় বাহিনী এই সেতুটির ওপর হিমার্স নামের লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানছে। এ সপ্তাহে তৃতীয়বারের মত সোমবার রাতেও সেতুটির ওপর আক্রমণ চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী।
খেরসন শহরটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকেই রুশরা দখল করে নেয়, এবং সেখানে থাকা রুশ সৈন্যদের রসদপত্র সরবরাহের জন্য এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রুশ সৈন্যরা এখন খেরসনে তাদের দখল কায়েম রাখার জন্য ইউক্রেনের আক্রমণ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত হচ্ছে।
রুশ বাহিনী অবশ্য বলছে যে সেতুটিতে "শুধু বেসামরিক যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।" কিন্তু ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় সেতুটিতে অনেকগুলো গর্ত হয়ে গেছে।
একজন রুশ সাংবাদিক বলেছেন, খেরসন শহরে থেকে বের হবার আশায় এই সেতুর মুখে গাড়ির লাইন পড়েছে।
আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তনিভস্কি সেতুটি রুশদের জন্য একটি স্পর্শকাতর জায়গা। কারণ এই সেতু দিয়ে পারাপার বন্ধ হয়ে গেলে খেরসন দখল করে থাকা রুশ সৈন্যরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, এবং রাশিয়ার জন্য এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পডোলিয়াক বলছেন, "দখলদারদের উচিত হবে সুযোগ থাকতে থাকতেই খেরসন ত্যাগ করা, তা নাহলে তাদেরকে কিভাবে সাঁতার কেটে নদী পার হতে হয় - তা শিখতে হবে।"
সংবাদদাতারা বলছেন, এটা স্পষ্ট যে ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন খেরসন শহরটি পুনর্দখল করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
দু'দিন আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন যে তার সেনাবাহিনী এক-পা দু-পা করে অধিকৃত খেরসন অঞ্চলের ভেতরে অগ্রাভিযান চালাচ্ছে।

ছবির উৎস, Getty Images
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর প্রথম দিকেই খেরসন শহরটি রাশিয়ার দখলে চলে যায়। রুশ সরকারি বার্তা সংস্থা খবর দিয়েছে যে খেরসনকে রাশিয়ার অংশ করার জন্য একটি গণভোটেরও পরিকল্পনা করেছে মস্কো।
এই শহরটি দনিপার নদীর তীরে একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থিত।
ইউরোপে গ্যাসের দাম বাড়ছে
অন্যদিকে এ যু্দ্ধে ইউরোপ ইউক্রেনকে সমর্থন দেবার পর থেকেই রাশিয়ার সাথে জ্বালানি নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে ইইউ দেশগুলোর।
জার্মানিসহ মধ্য ইউরোপের দেশগুলোয় তাদের গ্যাস সরবরাহ আরো কমিয়ে দিয়েছে রাশিয়া - আর তার পর থেকেই ইউরোপে গ্যাসের দাম নয় শতাংশ বেড়ে গেছে।
নর্ড স্ট্রিম ওয়ান নামে যে পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়ার গ্যাস জার্মানিতে সরবরাহ করা হয় - তাতে এখন গ্যাসের প্রবাহ স্বাভাবিক মাত্রার এক-পঞ্চমাংশে নেমে এসেছে।
আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images
জার্মানির যে পরিমাণ গ্যাস আমদানি করে তার ৫৫% আসে রাশিয়া থেকে।
রুশ জ্বালানি সংস্থা বলছে, একটি টারবাইনে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য তাদের প্রবাহ কমাতে হয়েছে। তবে জার্মানির সরকার বলছে, সরবরাহ কমানোর কোন কারিগরী কারণ নেই।
সমালোচকরা বলছেন, রাশিয়া গ্যাসকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।








