আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
১০০ কোটি ইউরোর ঋণ থাকা সত্ত্বেও বার্সেলোনা কীভাবে ফুটবলার কিনছে
মাত্র ছয় সপ্তাহ আগেও বার্সেলোনার অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন, ক্লাবের অর্থনৈতিক ভাইস প্রেসিডেন্ট এডুয়ার্ড রোমেও বলেছিলেন, ক্লাব বাঁচাতে প্রয়োজন ৫০ কোটি ইউরো।
কিন্তু স্পেনের এই ক্লাবটি এখন খেলোয়াড় কেনাবেচার বাজারে দেদারসে অর্থ ব্যয় করছে।
লিডস ইউনাইটেড থেকে রাফিনিয়া ও বায়ার্ন মিউনিখ থেকে রবার্ট লেওয়ান্ডফস্কিকে কিনতেই ১০ কোটি ইউরো খরচ করেছে ক্লাবটি।
এখন সেভিয়ার য়ুলেস কোউন্ডে ও ম্যানচেস্টার সিটির বার্নার্দো সিলভাকে কিনতে বড় অঙ্ক নিয়ে প্রস্তুত বার্সেলোনা।
সম্প্রতি বায়ার্ন মিউনিখের কোচ জুলিয়ান ন্যাগলসম্যান বলেন, 'বার্সেলোনা পৃথিবীর একমাত্র ক্লাব যাদের টাকা নেই কিন্তু যে কোনও ফুটবলারকে কিনতে পারে'।
বার্সেলোনা ক্লাবটির ১০০ কোটি পাউন্ড ঋণ আছে। অনেক পর্যবেক্ষকই ঠিক ধরতে পারছেন না, ১০০ কোটি ইউরো ঋণে থাকা একটি ক্লাব কীভাবে এতো অর্থ খরচ করছে।
বিবিসির ক্রীড়া লেখক অ্যান্ডি ওয়েস্ট বলছেন, বার্সেলোনা ক্লাবটির অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে যে ধারণা জন্মেছিল - তা খানিকটা ভুল।
বার্সেলোনার জন্য 'সব অথবা কিছুই নয়'
বার্সেলোনা এখন আমেরিকায় প্রাক-মৌসুম সফরে আছে, সেখানে যাওয়ার আগেই বার্সেলোনার বোর্ড সভায় সদস্যরা ভোট দিয়ে ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট হুয়ান লাপোর্তাকে অর্থনৈতিক একটা ক্ষমতা দিয়েছে, যেই ক্ষমতার বলে ক্লাবটিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ এসেছে।
বাংলাদেশের ফুটবল বিশ্লেষক নাবিল কায়সার বিবিসি বাংলাকে বলেন, প্রথম পদক্ষেপ - ক্লাবটি আগামী ২৫ বছরের জন্য ঘরোয়া টেলিভিশন রাইটের প্রথমে ১০ শতাংশ ও পরে ১৫ শতাংশ আমেরিকান কোম্পানি সিক্সথ স্ট্রিটের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে, এর পরিবর্তে নগদ ৩০ কোটি পাউন্ড পেয়েছে বার্সেলোনা।
এই অর্থ দিয়ে অনায়াসেই গ্রীষ্মকালীন বাজারে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান প্রমাণ করেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা।
বার্সেলোনার সাবেক তারকা লিওনেল মেসিকে যখন ছাড়তে বাধ্য হয় বার্সেলোনা - তখন ক্লাবটির যে পরিমাণ ঋণ ছিল তা এখন সামঞ্জস্যপূর্ণ একটা অবস্থায় এসেছে।
এছাড়া ক্লাবের মার্চেন্ডাইজ বিক্রি করে দিচ্ছে ৪৯.৯%। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ কোটি পাউন্ড নগদ হাতে পাচ্ছে বার্সেলোনা।
'এটা একদিকে সাময়িক স্বস্তি, দীর্ঘমেয়াদে চিন্তা করলে জুয়া', বলছেন বিবিসির ক্রীড়া লেখক অ্যান্ডি ওয়েস্ট।
বার্সেলোনায় কেন ফুটবলাররা আসতে চাচ্ছেন
বার্সেলোনা এখনও পর্যন্ত যেসব ফুটবলারকে ক্লাবে টেনেছে চলতি উইন্ডোতে - তার জন্য বেশ কয়েকটি ক্লাবের সাথে টক্কর দিতে হয়েছে তাদের।
বিশেষ করে চেলসির কথা বলছেন বিশ্লেষক নাবিল কায়সার।
নাবিল কায়সারের মতে, চেলসি ক্লাব হিসেবে বার্সেলোনার মতো ঐতিহ্যবাহী না। এ কারণে কিছুটা বেতন ও সুবিধা ছাড় দিয়ে হলেও অনেকেই বার্সেলোনায় আসতে চান।
আরেকটা দিক তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেক তারকার কাছেই বার্সেলোনা কোচ জাভি হার্নান্দেজ অনুসরণীয়।
নাবিল কায়সার বলেন, "জাভি নিজে ফুটবলারদের সাথে কথা বলছেন। ক্লাবের পরিকল্পনা, প্রজেক্ট নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছেন। অনেক ফুটবলারই এই প্রস্তাব না করতে পারবেনা।"
লাপোর্তা এখন ট্রফির জন্য ক্ষুধার্ত
হুয়ান লাপোর্তা এর আগেও বার্সেলোনার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে গেছেন, তার আমলে পৃথিবীর সফলতম ক্লাবের একটিতে পরিণত হয় বার্সেলোনা।
বার্সেলোনা ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ইউরোপের বড় বড় ট্রফি জিতেছিল। কিন্তু গত তিন বছরে মাত্র একটি স্প্যানিশ কাপ জিতেছে বার্সা। এতে লাপোর্তা ধৈর্য্য হারাচ্ছেন বলে মনে করেন অ্যান্ডি ওয়েস্ট।
'এই মৌসুমেই ট্রফি নিশ্চিত করতে চাইছেন লাপোর্তা, তাই হন্যে হয়ে ট্রান্সফার মার্কেটে অর্থ ঢালছেন তিনি।'
কিন্তু এটা আক্ষরিক অর্থেই জুয়া ক্লাবটির জন্য।
কারণ, রাফিনিয়া এই মৌসুমেই বার্সার হয়ে জ্বলে উঠবেন কি না, বলা মুশকিল। অন্যদিকে লেওয়ানডফস্কি দারুণ ফুটবলার - কিন্তু তার বয়স এখন ৩৪ বছর হতে চলেছে।
উসমান ডেমবেলের ইনজুরির সমস্যা আছে, আবার পেদ্রি, গাভি বা আনসু ফাতি-র মতো খেলোয়াড়রা এখনও তরুণ।
বার্সেলোনা এই প্রক্রিয়ার মধ্যে বেশ কজন ফুটবলারকে বিক্রিও করে দিয়েছে - যাদের ক্লাবে আর প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছিল না।
মেমফিস ডিপে, মার্টিন ব্র্যাথওয়েট, মিরালেম পিয়ানিক ও স্যামুয়েল উমতিতির মতো ফুটবলারদের ছেড়ে দিয়েছে তারা।
তবে একই সাথে বার্সেলোনা ডাচ মিডফিল্ডার - ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ংকে নিয়ে বিপদেও আছে, জাভি চেষ্টা করছেন পেদ্রি ও গাভি যাতে মাঠে শিখে আরও পরিণত হয়ে ওঠে, এ কারণে ডি ইয়ং ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না । বার্সেলোনাও তার জন্য ক্লাব খুঁজছিল সঠিক দাম পেলেই বিক্রি করে দেয়ার পরিকল্পনায়।
বাদ সেধেছে ডি ইয়ংয়ের পাওনা অর্থ, যা বার্সেলোনা গত দুই বছরে পরিশোধ করতে পারেনি, এটা নিয়ে একটা সমঝোতা চলছে দুই পক্ষেই।
ডি ইয়ং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আসার একটা খবর শোনা গেলেও, তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে চান এবং ইউনাইটেড এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
এখনও বার্সেলোনার নতুন ফুটবলার ক্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, অবশ্য যদি ডি ইয়ংকে সঠিক দামে বিক্রি করা যায়, তবেই ।